
ওসমান গনি, চান্দিনা প্রতিনিধি
কুমিল্লার চান্দিনায় বিদ্যুৎ পরিস্থিতির ভয়াবহ অবনতি ঘটেছে। তীব্র দাবদাহ ও গরমের মধ্যে ঘন ঘন লোডশেডিংয়ে জনজীবন চরম বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছে। দিন-রাত ২৪ ঘণ্টার অধিকাংশ সময় বিদ্যুৎ না থাকায় স্থবির হয়ে পড়েছে এই এলাকার স্বাভাবিক কর্মচঞ্চলতা।
শিল্পপ্রতিষ্ঠান থেকে শুরু করে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ও গৃহস্থালি কাজ—সবক্ষেত্রেই বিদ্যুৎ সংকটের নেতিবাচক প্রভাব স্পষ্ট হয়ে উঠেছে। এলাকাবাসীর অভিযোগ, অঘোষিত লোডশেডিংয়ের কারণে তারা চরম ভোগান্তিতে পড়েছেন। বিশেষ করে শিশু ও বয়স্ক মানুষ তীব্র গরমে অসুস্থ হয়ে পড়ছেন।
বিদ্যুৎ সংকটের এই নাজুক পরিস্থিতির বিষয়ে জানতে চাইলে কুমিল্লা পল্লীবিদ্যুৎ সমিতি-১-এর জেনারেল ম্যানেজার প্রকৌশলী রাশেদুজ্জামান পরিস্থিতির ব্যাখ্যা দিয়ে রাইজিং কুমিল্লাকে বলেন, এটি কেবল চান্দিনার সমস্যা নয়, বরং সারাদেশে চলমান বিদ্যুৎ লোডশেডিংয়েরই প্রতিফলন এখানে দেখা যাচ্ছে। জাতীয় গ্রিড থেকে প্রাপ্ত বিদ্যুতের পরিমাণ চাহিদার তুলনায় অনেক কম হওয়ায় স্থানীয় পর্যায়ে এই সংকট তৈরি হয়েছে। তিনি জানান, বর্তমানে পিক আওয়ার বা সর্বোচ্চ চাহিদার সময়ে চান্দিনা এলাকায় বিদ্যুতের প্রয়োজন হয় ১৮১ মেগাওয়াট। কিন্তু চাহিদার বিপরীতে সরবরাহ পাওয়া যাচ্ছে প্রয়োজনের তুলনায় মাত্র ৭০ শতাংশ। অর্থাৎ, প্রায় ৩০ শতাংশ বিদ্যুৎ ঘাটতি থাকায় এই ভয়াবহ লোডশেডিংয়ের কবলে পড়তে হচ্ছে গ্রাহকদের।
তবে পরিস্থিতির কিছুটা হলেও উন্নতির আশা জাগিয়ে প্রকৌশলী রাশেদুজ্জামান কুটুম্বপুর সামিট পাওয়ার প্ল্যান্টের ভূমিকা তুলে ধরেন। তিনি রাইজিং কুমিল্লাকে জানান, স্থানীয়ভাবে বিদ্যুৎ পরিস্থিতির কিছুটা স্বস্তি ফেরাতে কুটুম্বপুর সামিট পাওয়ার প্ল্যান্ট থেকে ২০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ জাতীয় গ্রিডে যুক্ত করা সম্ভব হয়েছে। এই বাড়তি বিদ্যুৎ সরবরাহ যুক্ত হওয়ায় লোডশেডিংয়ের তীব্রতা কিছুটা হলেও সহনীয় পর্যায়ে রাখার চেষ্টা চলছে। এই সহায়তাটুকু না থাকলে পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ হতে পারত বলে মনে করছেন স্থানীয় বিদ্যুৎ কর্মকর্তারা।
বিদ্যুৎহীন দীর্ঘ সময়ের ফলে চান্দিনার ক্ষুদ্র ও মাঝারি শিল্পকারখানাগুলোতে উৎপাদন মারাত্মকভাবে ব্যাহত হচ্ছে। কলকারখানায় কাজ না থাকায় শ্রমিকরা যেমন বেকার হয়ে পড়ছেন, তেমনি মালিকপক্ষ আর্থিক ক্ষতির সম্মুখীন হচ্ছে।
অন্যদিকে, স্থানীয় ব্যবসায়ীরাও পণ্য সংরক্ষণের ক্ষেত্রে সমস্যার মুখোমুখি হচ্ছেন। বিদ্যুৎ না থাকায় বিশেষ করে গ্রামাঞ্চলের মানুষ খাবার পানি নিয়েও চরম সংকটে পড়েছেন, কারণ গভীর নলকূপগুলো বিদ্যুৎ ছাড়া অচল। সন্ধ্যায় লোডশেডিংয়ের কারণে শিক্ষার্থীদের পড়াশোনায় ব্যাপক ব্যাঘাত ঘটছে, যা অভিভাবকদের ভাবিয়ে তুলছে।
সাধারণ মানুষের ক্ষোভ ও দুর্ভোগের বিষয়ে পল্লীবিদ্যুৎ সমিতির দায়িত্বশীল কর্মকর্তারা অবগত আছেন। এই সংকট কাটাতে তারা নিরলসভাবে কাজ করে যাচ্ছেন বলে আশ্বস্ত করা হয়েছে। প্রকৌশলী রাশেদুজ্জামান গ্রাহকদের ধৈর্য ধরার আহ্বান জানিয়ে বলেন, চাহিদার তুলনায় সরবরাহ কম থাকায় আমাদের হিমশিম খেতে হচ্ছে। তবে পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণে রাখা হয়েছে এবং ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের সাথে সার্বক্ষণিক যোগাযোগ বজায় রাখা হচ্ছে। তিনি আশা প্রকাশ করে বলেন, দ্রুতই পরিস্থিতি স্বাভাবিক হবে এবং বিদ্যুৎ সরবরাহ আগের অবস্থায় ফিরে আসবে।
তবে দ্রুত এই সমস্যার সমাধান না হলে জনজীবন আরও দুর্বিষহ হয়ে ওঠার আশঙ্কা করছেন এলাকাবাসী। তীব্র গরমে বিদ্যুতের এই লুকোচুরি বন্ধে ও নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ সরবরাহে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের দ্রুত ও কার্যকর পদক্ষেপের দাবি জানিয়েছেন চান্দিনার সর্বস্তরের মানুষ। এখন দেখার বিষয়, কত দ্রুত এই বিদ্যুৎ সংকটের হাত থেকে মুক্তি মেলে চান্দিনাবাসীর।
সম্পাদক : শাদমান আল আরবী | নির্বাহী সম্পাদক : তানভীর আল আরবী
ঠিকানা : ঝাউতলা, ১ম কান্দিরপাড়, কুমিল্লা-৩৫০০। ফোন : ০১৩১৬১৮৬৯৪০, ই-মেইল : [email protected], বিজ্ঞাপন: [email protected], নিউজরুম: [email protected] © ২০২৩ রাইজিং কুমিল্লা সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত। | Design & Developed by BDIGITIC