সোমবার ১৬ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬

কুমিল্লায় মহান বিজয় দিবস উপলক্ষে বর্ণাঢ্য কুচকাওয়াজ ও পুরস্কার বিতরণ

নিজস্ব প্রতিবেদক

Rising Cumilla - Colorful parade and award distribution on the occasion of the great Victory Day in Comilla
কুমিল্লায় মহান বিজয় দিবস উপলক্ষে বর্ণাঢ্য কুচকাওয়াজ ও পুরস্কার বিতরণ/ছবি: রাইজিং কুমিল্লা

আজ মঙ্গলবার (১৬ ডিসেম্বর) মহান বিজয় দিবস ২০২৫ উপলক্ষে কুমিল্লা ভাষা সৈনিক শহীদ ধীরেন্দ্রনাথ দত্ত স্টেডিয়ামে এক আনন্দঘন কুচকাওয়াজ ও পুরস্কার বিতরণী অনুষ্ঠান অনুষ্ঠিত হয়েছে। দিবসটি উপলক্ষে মুক্তিযুদ্ধের আত্মত্যাগী শহীদদের প্রতি গভীর শ্রদ্ধা জানানো হয় এবং বিজয়ের গৌরবোজ্জ্বল মুহূর্তগুলো আবেগ ও মর্যাদার সঙ্গে স্মরণ করা হয়।

অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন কুমিল্লা জেলা প্রশাসক মোঃ রেজা হাসান এবং তাঁর সহধর্মিনী। বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন কুমিল্লা জেলার পুলিশ সুপার মোঃ আনিসুজ্জামান, পিপিএম এবং তাঁর সহধর্মিনী। এছাড়াও অনুষ্ঠানে কুমিল্লা জেলা পুলিশের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাবৃন্দ, বিভিন্ন সরকারি দপ্তরের প্রতিনিধিবৃন্দ ও অন্যান্য গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ উপস্থিত ছিলেন।

অনুষ্ঠানের এক পর্যায়ে বাংলাদেশ পুলিশ, আনসার-ভিডিপি, ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্স, কারারক্ষী, বিএনসিসি এবং রোভার স্কাউটের সদস্যরা শৃঙ্খলাবদ্ধ ও বর্ণাঢ্য কুচকাওয়াজ প্রদর্শন করেন। কুচকাওয়াজে অংশগ্রহণকারী বাহিনীগুলোর শৃঙ্খলা, দক্ষতা ও দেশপ্রেমের চিত্র দর্শনার্থীদের মুগ্ধ করে।

এসময় মহান বিজয় দিবসের গৌরবোজ্জ্বল ইতিহাস এবং মুক্তিযুদ্ধে অংশগ্রহণকারী বীর মুক্তিযোদ্ধাদের অবদানের ওপর আলোচনা করা হয়। আলোচনায় বক্তারা মুক্তিযুদ্ধের চেতনা ধারণ ও তা নতুন প্রজন্মের মাঝে ছড়িয়ে দেওয়ার ওপর গুরুত্বারোপ করেন।

পরবর্তীতে আয়োজিত পুরস্কার বিতরণী অনুষ্ঠানে কুচকাওয়াজে বিজয়ী পুলিশ সদস্যদের হাতে সম্মাননা তুলে দেওয়া হয়। তাঁদের অসামান্য সাহসিকতা, নিষ্ঠা ও দায়িত্বশীলতার স্বীকৃতিস্বরূপ এই পুরস্কার প্রদান করা হয়, যা কুমিল্লা জেলা পুলিশের পেশাদারিত্ব ও দেশপ্রেমের উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত হিসেবে বিবেচিত হয়।

অনুষ্ঠানের পরবর্তী পর্বে মুক্তিযুদ্ধের বিভিন্ন দিক তুলে ধরে আলোচনা অনুষ্ঠিত হয় এবং স্বাধীনতা সংগ্রামীদের প্রতি সম্মান জানিয়ে মনোজ্ঞ সঙ্গীত ও নৃত্য পরিবেশন করা হয়।

মহান বিজয় দিবস উপলক্ষে আয়োজিত এই অনুষ্ঠানটি শুধু একটি আনুষ্ঠানিক কর্মসূচিই নয়, বরং এটি আমাদের স্বাধীনতার ইতিহাস, আত্মত্যাগ এবং জাতীয় গৌরবের প্রতি অটুট শ্রদ্ধার বহিঃপ্রকাশ। একই সঙ্গে এই আয়োজন দেশের স্বাধীনতা অর্জনের সংগ্রামী চেতনাকে নতুন প্রজন্মের কাছে আরও শক্তিশালী ও প্রাণবন্ত করে তোলার এক গুরুত্বপূর্ণ প্রতীক হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।

আরও পড়ুন