
ডেঙ্গু জ্বরে আক্রান্ত হয়ে মারা গেছেন কুমিল্লার বিশিষ্ট গাইনি চিকিৎসক ও মানবিক ব্যক্তিত্ব ডা. ফাহমিদা আজিম কাকলী।
আজ রোববার ভোর সাড়ে ৫টার দিকে রাজধানীর একটি বেসরকারি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন।
ডা. ফাহমিদা আজিম কাকলী কুমিল্লা ময়নামতি মেডিকেল কলেজ ও হাসপাতালের গাইনি ও প্রসূতিবিদ্যা বিভাগের সহকারী অধ্যাপক হিসেবে কর্মরত ছিলেন। পাশাপাশি তিনি নগর মাতৃসদন কুমিল্লার কনসালট্যান্ট হিসেবেও দায়িত্ব পালন করতেন।
অসুস্থতা ও চিকিৎসার ক্রমধারা ডা. কাকলীর মৃত্যুর বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন তার বড় ভাই মনজুরুল আজীম পলাশ।
পারিবারিক সূত্রে জানা যায়, কয়েক দিন আগেই তিনি ডেঙ্গু জ্বরে আক্রান্ত হন। এতে তার শারীরিক অবস্থার দ্রুত অবনতি হতে থাকে এবং কিডনি ও লিভার ক্ষতিগ্রস্ত হয়। পরিস্থিতির অবনতি হলে উন্নত চিকিৎসার জন্য শনিবার তাকে তড়িঘড়ি করে ঢাকায় স্থানান্তর করা হয়।
ঢাকায় নেওয়ার পর হঠাৎ তার রক্তচাপ আশঙ্কাজনকভাবে কমে যায়। তাৎক্ষণিকভাবে তাকে আইসিইউ থেকে ভেন্টিলেশনে স্থানান্তর করা হয়। রাতভর চিকিৎসকদের সর্বোচ্চ চেষ্টা সত্ত্বেও আজ ভোরে তিনি না ফেরার দেশে পাড়ি জমান।
মানবিক চিকিৎসক ও সংস্কৃতিমনা ব্যক্তিত্ব ডা. ফাহমিদা আজিম কাকলীর মৃত্যুতে কুমিল্লায় শোকের ছায়া নেমে এসেছে। রোগী, সহকর্মী ও স্বজনদের মাঝে বিরাজ করছে গভীর বিষাদ। তিনি কেবল একজন চিকিৎসকই ছিলেন না, ছিলেন একজন মানবিক মানুষ। বহু দরিদ্র রোগীকে তিনি বিনা মূল্যে সিজারিয়ান অপারেশনসহ নানা চিকিৎসা সেবা দিয়েছেন।
চিকিৎসা পেশার বাইরেও তিনি ছিলেন সংস্কৃতিমনা। তিনি ‘অধুনা থিয়েটার’-এর সক্রিয় সদস্য ছিলেন। গান শোনা এবং প্রকৃতির মাঝে ঘুরে বেড়ানো ছিল তার প্রিয় শখ।
পরিবার সূত্রে জানা গেছে, ডা. ফাহমিদার মরদেহ বর্তমানে হিমঘরে রাখা হয়েছে। তার একমাত্র মেয়ে তুর্ণা যুক্তরাষ্ট্রে অবস্থান করছেন। তিনি দেশে ফেরার পর জানাজা ও দাফন সম্পন্ন করা হবে।










