
কুমিল্লার দেবিদ্বারে অনলাইন অ্যাপসে রেজিস্ট্রেশন ও চাকরির প্রলোভন দেখিয়ে এক প্রবাসীর স্ত্রীর মোবাইল হ্যাক করে ব্যক্তিগত ছবি ও ভিডিও সংগ্রহের পর ব্ল্যাকমেইল করে ৭ লাখ টাকা হাতিয়ে নেওয়ার অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় সংঘবদ্ধ প্রতারক চক্রের মূলহোতা মো. আব্বাসকে গ্রেপ্তার করেছে র্যাব। টাকা দেওয়ার পরও ভুক্তভোগীর ব্যক্তিগত ছবি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে দেয় ওই প্রতারক।
শনিবার (২২ নভেম্বর) বিকেলে র্যাব কার্যালয়ে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে এসব তথ্য নিশ্চিত করেন র্যাবের কোম্পানি কমান্ডার মেজর সাদমান ইবনে আলম। এর আগে শুক্রবার (২১ নভেম্বর) রাতে তথ্য প্রযুক্তির সহায়তায় ভোলা জেলার তজুমুদ্দিন উপজেলার গোলকপুর এলাকায় অভিযান চালিয়ে তাকে আটক করা হয়।
গ্রেপ্তারকৃত মো. আব্বাস ভোলা জেলার তজুমুদ্দিন উপজেলার চাঁদপুর ইউনিয়নের বাসিন্দা। তার বিরুদ্ধে দেবিদ্বার থানায় পর্নোগ্রাফি ও প্রতারণার অভিযোগে মামলা দায়ের করেছেন ভুক্তভোগী ওই নারী।
মামলার এজাহার ও ভুক্তভোগীর সূত্রে জানা যায়, একটি সংঘবদ্ধ চক্র প্রথমে কুমিল্লার দেবিদ্বারের ওই নারীকে অনলাইনে বিভিন্ন অ্যাপসে চাকরির প্রলোভন দেখায়। ঘরে বসে দৈনিক এক হাজার টাকা আয়ের অফার দিয়ে তার হোয়াটসঅ্যাপে একটি লিংক পাঠানো হয়। রেজিস্ট্রেশনের কথা বলে পাঠানো ওই লিংকে ক্লিক করার সঙ্গে সঙ্গেই ভুক্তভোগীর ফোনের ফেসবুকসহ সব তথ্য চক্রের নিয়ন্ত্রণে চলে যায়।
এরপর চক্রের মূলহোতা আব্বাস তাকে ফোন করে প্রথমে ৬ হাজার টাকা রেজিস্ট্রেশন ফি দাবি করেন। টাকা দিতে অস্বীকৃতি জানালে, হ্যাক করা গোপন ছবি ও ভিডিও আত্মীয়দের পাঠানোর হুমকি দিতে থাকেন তিনি।
টাকা দিতে দেরি হওয়ায় প্রতারক আব্বাস প্রথমে ওই নারীর মামির হোয়াটসঅ্যাপ নম্বরে তার গোপন ছবি পাঠান এবং সেটির স্ক্রিনশট ভুক্তভোগীকে পাঠিয়ে ভয় দেখান। নিরুপায় হয়ে ওই নারী টাকা দিতে রাজি হলে প্রতারক তার মামির নম্বর থেকে ছবি ও ভিডিও ডিলিট করে দেন।
এরপর গত ১৫ অক্টোবর থেকে ১৮ নভেম্বর পর্যন্ত ওই নারী নিজের ঘরে থাকা স্বর্ণালংকার বিক্রি করে মোট ৭ লাখ টাকা আব্বাসের দেওয়া তিনটি (বিকাশ, রকেট ও নগদ) নম্বরে পাঠান।
টাকা দিয়েও শেষ রক্ষা হয়নি সর্বস্ব দিয়ে ৭ লাখ টাকা পাঠানোর পরও থামেনি আব্বাসের প্রতারণা। কথা না রাখায় আব্বাস ওই নারীর ব্যক্তিগত ছবি ও ভিডিও ফেসবুকসহ বিভিন্ন সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে তার আত্মীয়-স্বজনদের কাছে ছড়িয়ে দেন। উপায়ান্তর না দেখে ভুক্তভোগী ওই নারী বাদী হয়ে দেবিদ্বার থানায় মামলা দায়ের করেন।
ভুক্তভোগী ওই নারী বলেন, “ওরা প্রথমে আমার হোয়াটসঅ্যাপে একটি লিংক পাঠিয়ে ঘরে বসে আয়ের অফার দেয়। আমি তাদের ফাঁদ বুঝতে না পেরে লিংকে ক্লিক করি, আর সাথে সাথেই আমার ফোনের যাবতীয় ছবি ও তথ্য তাদের নিয়ন্ত্রণে চলে যায়। এরপর আমার ব্যক্তিগত ছবি ছড়িয়ে দেওয়ার ভয় দেখিয়ে আমাকে জিম্মি করে বিভিন্ন সময় ৭ লাখ টাকা হাতিয়ে নেয়। আমি মানসম্মান বাঁচাতে টাকা দিতে বাধ্য হই। আমি এ চক্রের সব সদস্যের সর্বোচ্চ শাস্তি দাবি করছি।”
র্যাবের কোম্পানি কমান্ডার মেজর সাদমান ইবনে আলম জানান, ভুক্তভোগীর অভিযোগের ভিত্তিতে চক্রের মূলহোতাকে শনাক্ত করতে অভিযানে নামে র্যাব। শুক্রবার সন্ধ্যায় ভোলা জেলার তজুমুদ্দিন উপজেলার গোলকপুর গ্রামে অভিযান চালিয়ে আব্বাসকে আটক করা হয়।
এ সময় তার কাছ থেকে প্রতারণায় ব্যবহৃত দুটি মোবাইল ফোন ও নগদ কিছু টাকা উদ্ধার করা হয়। প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে আব্বাস নারীদের ফাঁদে ফেলে লাখ লাখ টাকা হাতিয়ে নেওয়ার কথা স্বীকার করেছেন। এই চক্রে আরও বেশ কিছু সদস্য সক্রিয় রয়েছে, যাদের শনাক্ত করার চেষ্টা চলছে বলে জানান এই র্যাব কর্মকর্তা।
এ বিষয়ে দেবিদ্বার থানার ওসি মো. ইয়াছিন জানান, গত শুক্রবার রাতে ভুক্তভোগী ওই নারী থানায় পর্নোগ্রাফি ও প্রতারণার অভিযোগে মামলা দায়ের করেছেন। এ মামলায় চক্রের মূলহোতা আব্বাসকে গ্রেপ্তার দেখানো হয়েছে।










