রবিবার ১৫ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬

কুমিল্লায় এলপিজি গ্যাস সংকট, চরম ভোগান্তিতে গ্রাহকরা

রাইজিং কুমিল্লা প্রতিবেদক

Rising Cumilla - LPG gas crisis in Comilla, customers in extreme distress
কুমিল্লায় এলপিজি গ্যাস সংকট, চরম ভোগান্তিতে গ্রাহকরা

কুমিল্লা নগরী ও বিভিন্ন উপজেলায় এলপিজি সিলিন্ডার গ্যাসের সংকটে চরম ভোগান্তিতে পড়েছেন সাধারণ মানুষ। ক্রেতাদের অভিযোগ, চাহিদার তুলনায় সরবরাহ কম থাকার অজুহাতে খুচরা বিক্রেতারা ইচ্ছেমতো দাম নিচ্ছেন বলে অভিযোগ উঠেছে। গত কয়েক দিনে ১ হাজার ৩০০ টাকার গ্যাস সিলিন্ডার ১ হাজার ৮০০ থেকে শুরু করে ২ হাজার টাকা পর্যন্ত দরে বিক্রি হতে দেখা গেছে।

খোঁজ নিয়ে জানা যায়, কুমিল্লা নগরীতে এলপিজি সিলিন্ডার গ্যাসের চাহিদা বেশি। গত চারদিন ধরে চাহিদা অনুযায়ী গ্যাস সিলিন্ডার পাচ্ছে না শহরবাসী। কিছু দোকানে গ্যাস পাওয়া গেলেও তা বেশি দামে বিক্রি হচ্ছে। মজুত কম থাকার কথা জানিয়ে দাম বেশি রাখছেন বিক্রেতারা। এতে করে ভোগান্তিতে পড়েছেন সাধারণ মানুষ।

অশোকতলা এলাকার ভুক্তভোগী গৃহিণী জাহানারা বেগম তার কষ্টের কথা জানিয়ে বলেন, “আমরা কয়েক বছর ধরে সিলিন্ডার গ্যাসে রান্না করি। ঘরে দুই দিন ধরে গ্যাস নেই। বাজারে হন্যে হয়ে ঘুরেও কোথাও গ্যাস পাচ্ছি না। আর যেখানে পাচ্ছি, সেখানে দাম চাচ্ছে অনেক বেশি। সংসার চালানোই যেখানে কঠিন, সেখানে এত টাকা দিয়ে গ্যাস কেনা আমাদের মতো মানুষের পক্ষে অসম্ভব।”

আরেক ভুক্তভোগী মিজান বলেন, “আগে বাজারে গেলেই গ্যাস পাওয়া যেত। এখন দোকানদাররা সরাসরি বলে দিচ্ছে গ্যাস নেই। বাড়িতে চুলা জ্বলছে না, পরিবার নিয়ে খুব বিপদে আছি।”

এ বিষয়ে কুমিল্লা জেলা ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তরের সহকারী পরিচালক মো. কাউসার মিয়া বলেন, ‘ডিলারদের সঙ্গে এ বিষয়ে ইতিমধ্যে কথা বলা হয়েছে। তাদের দাবি, কোম্পানিগুলো চাহিদা অনুযায়ী গ্যাস সরবরাহ করছে না।’ তিনি বলেন, ‘জেলা প্রশাসকসহ ডিলার, খুচরা বিক্রেতা ও কোম্পানির প্রতিনিধিদের সঙ্গে আলোচনা করা হবে। পাশাপাশি নিয়মিত অভিযানও চলছে।’

স্থানীয় সচেতন মহলের অভিযোগ, প্রশাসনের পক্ষ থেকে নিয়মিত বাজার মনিটরিং না থাকায় কিছু মুনাফালোভী ব্যবসায়ী এই সুযোগ গ্রহণ করছে। ফলে সাধারণ মানুষ বাধ্য হয়ে অতিরিক্ত টাকা দিচ্ছে অথবা রান্না বন্ধ রাখতে হচ্ছে।

এদিকে এলপিজি অপারেটরস অব বাংলাদেশের সভাপতি আমিরুল হক শনিবার গণমাধ্যমকে বলেন, রান্নার গ্যাসের সংকট কবে কাটবে তা বলা কঠিন। আন্তর্জাতিক স্পট মার্কেট থেকেই সবাই এলপিজি আমদানির চেষ্টা করছেন। তবে জাহাজ ভাড়া বৃদ্ধি ও অন্যান্য লজিস্টিক সমস্যার কারণে আমদানিতে জটিলতা তৈরি হয়েছে।

তিনি আরও জানান, সংকট কাটাতে সরকার সৌদি আরব, কাতার, সংযুক্ত আরব আমিরাত ও ফিলিপাইনের সঙ্গে আলোচনার উদ্যোগ নিয়েছে। তবে এসব দেশ থেকে এলপিজি আমদানি করতে কিছুটা সময় লাগবে।

এ বিষয়ে জ্বালানি সচিব সাইফুল ইসলাম গণমাধ্যমকে বলেন, সরকারিভাবে ১ লাখ টন এলপিজি আমদানির চেষ্টা করা হচ্ছে। তবে সেই এলপিজি দেশে আসতে মার্চ মাস লেগে যেতে পারে।

আরও পড়ুন