শনিবার ৩০ আগস্ট, ২০২৫

কিশোরগঞ্জের পাগলা মসজিদের দানবাক্সে এবার ৩২ বস্তা টাকা, চলছে গণনা

নিজস্ব প্রতিবেদক

Rising Cumilla - Pagla Masjid
কিশোরগঞ্জের পাগলা মসজিদের দানবাক্সে এবার ৩২ বস্তা টাকা, চলছে গণনা/ছবি: সংগৃহীত

কিশোরগঞ্জের ঐতিহাসিক পাগলা মসজিদের দানবাক্সে পাওয়া গেছে ৩২ বস্তা টাকা। এখন চলছে গণনা।

শনিবার (৩০ আগস্ট) মসজিদের আটটি দানবাক্স খুলে পাওয়া গেছে ৩২ বস্তা টাকা। বর্তমানে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর কঠোর নিরাপত্তা ও বিশাল দলের তত্ত্বাবধানে চলছে টাকা গণনার কাজ।

সকাল ৭টায় কিশোরগঞ্জের জেলা প্রশাসক ও পাগলা মসজিদ পরিচালনা কমিটির সভাপতি ফৌজিয়া খান এবং পুলিশ সুপার মোহাম্মদ হাছান চৌধুরীর উপস্থিতিতে দানবাক্সগুলো খোলা হয়।

এ সময় বিপুল সংখ্যক সেনাবাহিনী, পুলিশ ও আনসার সদস্য উপস্থিত ছিলেন। এরপর গণনা শুরু করতে ৩২টি বস্তায় ভরে টাকা মসজিদের দোতলায় নিয়ে যাওয়া হয়।

টাকা ছাড়াও বরাবরের মতো এবারও বিপুল পরিমাণ স্বর্ণ, রূপা এবং বিভিন্ন দেশের বৈদেশিক মুদ্রা পাওয়া গেছে। অনলাইনেও এবার দানের টাকা জমা পড়েছে বলে মসজিদ কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে।

এর আগে চলতি বছরের ১২ এপ্রিল দানবাক্স খোলা হলে সেখানে ৪ মাস ১২ দিনে পাওয়া গিয়েছিল ২৮ বস্তা টাকা। গণনা শেষে যার পরিমাণ দাঁড়িয়েছিল রেকর্ড ৯ কোটি ১৭ লাখ ৮০ হাজার ৬৮৭ টাকা। এবার সেই রেকর্ড ভাঙার সম্ভাবনা রয়েছে।

অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট ও দানবাক্স খোলা কমিটির আহ্বায়ক এরশাদুল আহমেদ জানান, আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর কঠোর নিরাপত্তায় টাকা গণনার কাজে মসজিদ কমপ্লেক্সে অবস্থিত মাদরাসা ও এতিমখানার শিক্ষক-শিক্ষার্থী এবং ব্যাংকের কর্মকর্তা-কর্মচারীসহ প্রায় ৪১০ জনের একটি দল অংশ নিয়েছে। দিনভর গণনা শেষে আজ সন্ধ্যায় টাকার চূড়ান্ত পরিমাণ জানা যাবে।

জনশ্রুতি আছে, প্রায় আড়াইশ বছর আগে পাগলবেশী এক আধ্যাত্মিক পুরুষ খরস্রোতা নরসুন্দা নদীর ওপর মাদুর পেতে ভেসে এসে বর্তমান মসজিদ এলাকার হারুয়ায় থামেন। তাকে ঘিরে সেখানে ভক্তদের সমাগম হয়। ওই পাগলের মৃত্যুর পর তার সমাধির পাশে এই মসজিদটি গড়ে ওঠে এবং এটি ‘পাগলা মসজিদ’ নামে পরিচিতি পায়।

আরও পড়ুন