মঙ্গলবার ৩ মার্চ, ২০২৬

কিডনি রোগের এই লক্ষণগুলি দেখলেই সতর্ক হন!

লাইফস্টাইল ডেস্ক

Rising Cumilla -Be alert if you see these symptoms of kidney disease!
কিডনি রোগের এই লক্ষণগুলি দেখলেই সতর্ক হন!/ছবি: সংগৃহীত

কিডনি মানবদেহের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ একটি অঙ্গ, যা একাধিক জীবনদায়ী কাজ করে। যেমন, শরীর থেকে বর্জ্য পদার্থ বের করে দেওয়া, শরীরের ইলেক্ট্রোলাইটের ভারসাম্য রক্ষা করা এবং রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণে রাখা। কিন্তু দুঃখজনকভাবে, কিডনির সমস্যা প্রায়শই প্রাথমিক পর্যায়ে সহজে বোঝা যায় না। এই কারণে কিডনির রোগকে প্রায়শই ‘নীরব ঘাতক’ বা ‘Silent Killer’ বলা হয়।

সময় থাকতে কিডনি সমস্যার ইঙ্গিতগুলো ধরতে পারা অত্যন্ত জরুরি। আপনার শরীরকে সুস্থ রাখতে এই গুরুত্বপূর্ণ অঙ্গটির কোনো সমস্যা হচ্ছে কিনা, তা বুঝতে কয়েকটি উপসর্গের দিকে অবশ্যই নজর রাখা প্রয়োজন।

কিডনির কার্যকারিতা কমে গেলে শরীরে যে পরিবর্তনগুলো দেখা যায়, তার মধ্যে প্রধান কয়েকটি হলো:

১. মূত্রের পরিমাণে অস্বাভাবিকতা: যদি দেখেন প্রতিদিনের মূত্রের পরিমাণ হঠাৎ করে কমে গেছে, তবে তা কিডনির সমস্যার একটি প্রাথমিক ইঙ্গিত হতে পারে।

এছাড়াও, মূত্রের সঙ্গে যদি সাদা ফেনা বা বেশি বুদবুদ বের হতে দেখেন, তবে বুঝতে হবে মূত্রে প্রোটিন মিশছে, যা কিডনি সমস্যার একটি গুরুতর লক্ষণ।

২. শরীরের বিভিন্ন অংশে ফোলাভাব: কিডনি ঠিকমতো কাজ না করলে দেহ থেকে জল ও বর্জ্য পদার্থ সঠিকভাবে বের হতে পারে না। ফলে এই অতিরিক্ত তরল দেহে জমে গিয়ে পায়ের পাতা, গোড়ালি বা মুখমণ্ডল-সহ বিভিন্ন অংশে ফোলাভাব দেখা দিতে পারে। এই ধরনের ফোলাভাব দেখা দিলে অবিলম্বে সতর্ক হতে হবে।

৩. অতিরিক্ত ক্লান্তি বা অবসাদ: যদি আপনি নিয়মিত অতিরিক্ত ক্লান্তি বা অবসাদ অনুভব করেন, তাহলে তা কিডনির অকার্যকারিতার ফল হতে পারে। এর কারণ হলো, কিডনি সঠিকভাবে কাজ না করলে দেহে বিষাক্ত পদার্থ বা টক্সিন জমা হতে থাকে, যা ক্লান্তি বাড়িয়ে দেয়।

৪. রক্তচাপ বৃদ্ধি: কিডনি রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। তাই হঠাৎ করে রক্তচাপ বেড়ে যাওয়া বা নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যাওয়া কিডনি সমস্যার একটি গুরুত্বপূর্ণ লক্ষণ হতে পারে।

৫. চোখের নিচে ফোলা ভাব: সকালে ঘুম থেকে ওঠার পর যদি বারবার চোখের নিচে ফোলাভাব দেখা দেয়, তবে তা কিডনির সমস্যা নির্দেশ করতে পারে। এটিও প্রোটিন লিকের একটি চিহ্ন হতে পারে।

উপরিউক্ত উপসর্গগুলোর যেকোনোটি বারবার দেখা দিলে তাকে কখনোই অবহেলা না করে দ্রুত একজন বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া উচিত। সময়মতো রোগ নির্ণয় এবং চিকিৎসা শুরু হলে কিডনির মারাত্মক ক্ষতি এড়ানো সম্ভব।

আরও পড়ুন