
রাইজিং কুমিল্লা ডেস্ক
বাংলাদেশি বংশোদ্ভূত কানাডার নাগরিক ডলি বেগম দেশটির ফেডারেল রাজনীতিতে প্রথমবারের মতো সংসদ সদস্য (এমপি) নির্বাচিত হয়ে ইতিহাস গড়েছেন। তিনি টরোন্টোর স্কারবরো সাউথওয়েস্ট আসন থেকে লিবারেল পার্টি অফ কানাডা-এর প্রার্থী হিসেবে উপনির্বাচনে জয়লাভ করেন।
এই জয়ের মধ্য দিয়ে মার্ক কার্নি-এর নেতৃত্বাধীন লিবারেল পার্টি কানাডার সংসদে একক সংখ্যাগরিষ্ঠতা অর্জন করেছে।
স্থানীয় সময় সোমবার কানাডায় তিনটি গুরুত্বপূর্ণ ফেডারেল উপনির্বাচনে ভোটগ্রহণ অনুষ্ঠিত হয়। অন্টারিওর ইউনিভার্সিটি-রোসডেল, স্কারবরো সাউথওয়েস্ট এবং কুইবেকের তেরেবোন আসনে এই নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়।
উপনির্বাচনের আগে লিবারেলদের সংসদে ১৭১টি আসন ছিল এবং সংখ্যাগরিষ্ঠতা পেতে তাদের প্রয়োজন ছিল মাত্র একটি আসন। তবে সাম্প্রতিক সময়ে কনজারভেটিভ দলের এমপি মেরিলিন গ্লাডু দল পরিবর্তন করে লিবারেল দলে যোগ দেওয়ায় তাদের অবস্থান আরও শক্তিশালী হয়।
সবশেষে উপনির্বাচনের ফলাফলে লিবারেল পার্টির আসন সংখ্যা দাঁড়ায় ১৭৪-এ, যা তাদের নিশ্চিত সংখ্যাগরিষ্ঠতা এনে দেয়।
এই উপনির্বাচন প্রধানমন্ত্রী মার্ক কার্নির জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ছিল। সংখ্যাগরিষ্ঠতা অর্জনের ফলে এখন সরকারের জন্য আইন পাস করা সহজ হবে এবং নীতিনির্ধারণে আরও বেশি নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠা করা সম্ভব হবে।
এর ফলে ২০২৯ সালের সাধারণ নির্বাচন পর্যন্ত স্থিতিশীলভাবে সরকার পরিচালনার পথ আরও সুগম হলো।
এমপি নির্বাচিত হওয়ার আগে ডলি বেগম অন্টারিও প্রাদেশিক পার্লামেন্টে এমপিপি হিসেবে টানা তিনবার নির্বাচিত হন। তিনি টরন্টোর স্কারবরো সাউথওয়েস্ট আসন থেকে নিউ ডেমোক্রেটিক পার্টি (এনডিপি)-এর প্রার্থী হিসেবে ২০১৮, ২০২২ এবং সর্বশেষ ২০২৫ সালে জয়ী হন।
কানাডার তিন স্তরের সরকার ব্যবস্থার কোনো আইনসভায় তিনিই প্রথম বাংলাদেশি বংশোদ্ভূত নিউ ডেমোক্র্যাট প্রতিনিধি হিসেবে ইতিহাস গড়েন।
চলতি বছরের শুরুতে সাবেক মন্ত্রী বিল ব্লেয়ার পদত্যাগ করলে স্কারবরো সাউথওয়েস্ট আসনটি শূন্য হয়। পরে লিবারেল পার্টির হয়ে মনোনয়ন পান ডলি বেগম।
নিজের আনুষ্ঠানিক বিবৃতিতে ডলি বেগম লিবারেল দলে যোগ দেওয়ার কারণ হিসেবে প্রধানমন্ত্রী মার্ক কার্নির দূরদর্শী নেতৃত্বের কথা উল্লেখ করেন।
তিনি বলেন, “আমি গত সাত বছর ধরে স্কারবরো সাউথ-ওয়েস্টের মানুষের জন্য কাজ করেছি। দেশের এই ক্রান্তিলগ্নে শক্তিশালী ও স্বাধীন অর্থনৈতিক কাঠামো গড়ার জন্য কেন্দ্রীয় পর্যায়ে কাজ করা প্রয়োজন। প্রধানমন্ত্রী মার্ক কার্নির নেতৃত্বে আমি সেই লক্ষ্য অর্জন করতে চাই।”
তিনি আরও জানান, জীবনযাত্রার ব্যয় কমানো, সাশ্রয়ী আবাসন নিশ্চিত করা এবং একটি ঐক্যবদ্ধ ও সমৃদ্ধ কানাডা গড়ার লক্ষ্য নিয়ে তিনি কাজ করবেন।
ডলি বেগমের শেকড় বাংলাদেশের মৌলভীবাজার জেলার মনু নদীর তীরে। তার বাবা রাজা মিয়া ও মা জবা বেগমের হাত ধরে মাত্র ১২ বছর বয়সে তিনি কানাডায় পাড়ি জমান।
তিনি টরন্টো বিশ্ববিদ্যালয় থেকে রাষ্ট্রবিজ্ঞানে স্নাতক এবং লন্ডনের ইউনিভার্সিটি কলেজ লন্ডন (ইউসিএল) থেকে উন্নয়ন প্রশাসন ও পরিকল্পনায় স্নাতকোত্তর ডিগ্রি অর্জন করেন।
টরন্টোর প্রবাসী কমিউনিটির বিশিষ্ট ব্যক্তি দেলোয়ার এলাহী বলেন, “লিবারেল পার্টি ও প্রধানমন্ত্রী মার্ক কার্নির সিদ্ধান্ত আবারও প্রমাণ করেছে—দল নয়, ব্যক্তির সততা, কর্মদক্ষতা ও জনসংযোগই সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ। বহুজাতিক ও বহুধর্মীয় কানাডায় গ্রহণযোগ্য নেতৃত্বই মূল বিষয়, আর ডলি বেগম সে ক্ষেত্রে অনন্য উদাহরণ।”
বিশ্লেষকদের মতে, প্রাদেশিক রাজনীতি থেকে ফেডারেল পর্যায়ে ডলি বেগমের এই পদার্পণ তার রাজনৈতিক ক্যারিয়ারে নতুন মাত্রা যোগ করবে। পাশাপাশি এটি কানাডায় বসবাসরত বাংলাদেশি কমিউনিটি, বিশেষ করে নতুন প্রজন্মের জন্য বড় অনুপ্রেরণা হয়ে থাকবে।
প্রধানমন্ত্রী মার্ক কার্নি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ডলি বেগমকে অভিনন্দন জানিয়ে বলেন, তার এই বিজয় দীর্ঘদিনের পরিশ্রম, নেতৃত্ব ও জনগণের প্রতি অঙ্গীকারের প্রতিফলন।
তিনি আরও বলেন, ডলি বেগমের অভিজ্ঞতা, নেতৃত্ব এবং অক্লান্ত কণ্ঠস্বর ভবিষ্যতে একটি শক্তিশালী ও ন্যায়ভিত্তিক কানাডা গঠনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।
উল্লেখ্য, ডলি বেগম দীর্ঘদিন ধরে স্কারবরো অঞ্চলের সামাজিক ও রাজনৈতিক কর্মকাণ্ডে সক্রিয় ছিলেন। তার এই সাফল্য শুধু ব্যক্তিগত অর্জন নয়, বরং প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য গর্বের এক নতুন দিগন্ত উন্মোচন করেছে।
সম্পাদক : শাদমান আল আরবী | নির্বাহী সম্পাদক : তানভীর আল আরবী
ঠিকানা : ঝাউতলা, ১ম কান্দিরপাড়, কুমিল্লা-৩৫০০। ফোন : ০১৩১৬১৮৬৯৪০, ই-মেইল : [email protected], বিজ্ঞাপন: [email protected], নিউজরুম: [email protected] © ২০২৩ রাইজিং কুমিল্লা সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত। | Design & Developed by BDIGITIC