শুক্রবার ৬ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬

কবর জিয়ারতের মধ্য দিয়ে ব্রাহ্মণবাড়িয়া-২ আসনে নির্বাচনী প্রচার শুরু রুমিন ফারহানার

নিজস্ব প্রতিবেদক

কবর জিয়ারতের মধ্য দিয়ে ব্রাহ্মণবাড়িয়া-২ আসনে নির্বাচনী প্রচার শুরু রুমিন ফারহানার/ছবি: সংগৃহীত

দলীয় মনোনয়ন না পেয়ে স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে নির্বাচনে নামা বিএনপির সহ-আন্তর্জাতিক বিষয়ক সম্পাদক ব্যারিস্টার রুমিন ফারহানা দাদা-দাদির কবর জিয়ারতের মধ্য দিয়ে ব্রাহ্মণবাড়িয়া-২ আসনে আনুষ্ঠানিকভাবে তার নির্বাচনী কার্যক্রম শুরু করেছেন।

গতকাল বৃহস্পতিবার (২৫ ডিসেম্বর) বিকেলে তিনি বিজয়নগর উপজেলার বুধন্তি ইউনিয়নের ইসলামপুর গ্রামে পারিবারিক কবরস্থানে গিয়ে তার দাদা-দাদির কবর জিয়ারত করেন। রুমিন ফারহানার দাদা-দাদি এই গ্রামেরই স্থায়ী বাসিন্দা ছিলেন।

এদিকে, স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে নির্বাচনে অংশ নিতে রুমিন ফারহানার পক্ষে মনোনয়নপত্র সংগ্রহ করেছেন স্থানীয় যুবদলের সাবেক নেতা আলী হোসেন। রুমিন ফারহানা জানিয়েছেন, স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে তার নির্বাচনী প্রতীক ‘হাঁস’ হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।

উল্লেখ্য, এই আসনে বিএনপির জোট শরিক জমিয়তে উলামায়ে ইসলাম বাংলাদেশের প্রার্থী হিসেবে মাওলানা জুনায়েদ আল হাবিবকে মনোনয়ন দেওয়া হয়েছে। তিনি ‘খেজুরগাছ’ প্রতীক নিয়ে নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করবেন। বিএনপির এই সিদ্ধান্তকে ‘অসম্মানজনক’ বলে মন্তব্য করেছেন রুমিন ফারহানা।

এ বিষয়ে সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলতে গিয়ে রুমিন ফারহানা বলেন, “১৭ বছর ধরে আমি অন্যায়ের বিরুদ্ধে লড়েছি, মানুষের অধিকারের পক্ষে সংগ্রাম করেছি। এলাকাবাসীর একটাই দাবি ছিল—এখানে জোট প্রার্থী দেবেন না। কিন্তু সেই আকুতি গ্রাহ্য করা হয়নি। মানুষ ভোটের মাধ্যমেই এর জবাব দেবে।”

তিনি আরও বলেন, “আজ থেকে আমি আনুষ্ঠানিকভাবে নির্বাচনী প্রচার শুরু করলাম। এলাকার মানুষের দোয়া চাই, তাদের সমর্থন চাই।”

স্থানীয়দের একাংশের মতে, রুমিন ফারহানা দীর্ঘদিন ধরে এলাকায় রাজনৈতিকভাবে সক্রিয় থাকলেও দলীয় সিদ্ধান্তের কারণে তিনি বিএনপির মনোনয়ন পাননি। তবে তার স্বতন্ত্র প্রার্থিতা এই আসনের রাজনৈতিক সমীকরণকে জটিল করে তুলতে পারে বলে মনে করছেন তারা।

বিএনপি যখন ব্রাহ্মণবাড়িয়া-২ আসনে মাওলানা জুনায়েদ আল হাবিবকে জোট প্রার্থী ঘোষণা করে, তখনই রুমিন ফারহানা দলীয় সিদ্ধান্ত প্রত্যাখ্যান করে স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে নির্বাচনে অংশ নেওয়ার ঘোষণা দেন। এবার আনুষ্ঠানিকভাবে তার নির্বাচনী কার্যক্রম শুরু হওয়ায় আসনে সরাসরি প্রতিদ্বন্দ্বিতার আবহ তৈরি হয়েছে।

রুমিন ফারহানার পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, আগামী ২৯ ডিসেম্বর মনোনয়নপত্র জমার শেষ তারিখের মধ্যেই তার স্বতন্ত্র প্রার্থিতার সব আনুষ্ঠানিক প্রক্রিয়া সম্পন্ন করা হবে।

প্রসঙ্গত, রুমিন ফারহানার এই স্বতন্ত্র নির্বাচনী লড়াই তার পারিবারিক রাজনৈতিক ইতিহাসের স্মৃতিও সামনে নিয়ে এসেছে। তার বাবা, প্রখ্যাত ভাষা সৈনিক ও বর্ষীয়ান রাজনীতিবিদ অলি আহাদ, ১৯৭৩ সালের জাতীয় সংসদ নির্বাচনে কুমিল্লা-২ আসন (বর্তমান ব্রাহ্মণবাড়িয়া-২ আসনের অংশ) থেকে স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেছিলেন। সে নির্বাচনে তিনি আওয়ামী লীগ প্রার্থী তাহের উদ্দিন ঠাকুরের কাছে পরাজিত হন। তবে অভিযোগ রয়েছে, অলি আহাদকে পরিকল্পিতভাবে হারানো হয়েছিল।

দীর্ঘ ৫২ বছর পর একই আসনে স্বতন্ত্র প্রার্থী হয়ে বাবার সেই অধরা জয়ের ইতিহাসকে সামনে রেখেই নির্বাচনী মাঠে নামলেন রুমিন ফারহানা।

আরও পড়ুন