পবিত্র ঈদুল আজহা সামনে রেখে কুমিল্লাজুড়ে ব্যস্ত সময় পার করছেন খামারি ও গৃহস্থরা। জেলার বিভিন্ন খামারে চলছে কোরবানির পশুর শেষ মুহূর্তের পরিচর্যা। জেলা প্রাণিসম্পদ অফিস জানিয়েছে, এবার কুমিল্লায় স্থানীয় চাহিদার তুলনায় প্রায় ১২ হাজার কোরবানির পশু উদ্বৃত্ত থাকবে। ফলে ঈদকে ঘিরে পশুর সংকটের কোনো আশঙ্কা নেই বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।
জেলা প্রাণিসম্পদ অফিস সূত্রে জানা গেছে, এ বছর কুমিল্লায় মোট কোরবানিযোগ্য পশুর সংখ্যা ২ লাখ ৫৯ হাজার। এর বিপরীতে জেলার সম্ভাব্য চাহিদা ধরা হয়েছে প্রায় ২ লাখ ৪৭ হাজার পশু। এতে চাহিদা মিটিয়ে অতিরিক্ত প্রায় ১২ হাজার পশু উদ্বৃত্ত থাকবে।
এর মধ্যে কোরবানির জন্য প্রস্তুত পশুর মধ্যে গরু ও মহিষ রয়েছে ২ লাখ ৭১৭টি। এছাড়া ছাগল, ভেড়া ও অন্যান্য প্রাণী রয়েছে ৫৮ হাজার ২৮৩টি। জেলার অধিকাংশ খামারেই দেশীয় পদ্ধতিতে প্রাকৃতিক খাদ্য ব্যবহার করে পশু মোটাতাজা করা হয়েছে।
উপজেলাভিত্তিক তথ্যে দেখা গেছে, আদর্শ সদর উপজেলায় সবচেয়ে বেশি ২০ হাজার ৯২৩টি পশু প্রস্তুত করা হয়েছে।
এছাড়া বুড়িচং উপজেলায় ১৮ হাজার ৭৯৪টি, বরুড়ায় ১৭ হাজার ৬৪৭টি, চৌদ্দগ্রামে ১৬ হাজার ৯০৮টি এবং সদর দক্ষিণ উপজেলায় ১৪ হাজার ৫১৭টি পশু প্রস্তুত রয়েছে।
অন্যদিকে সবচেয়ে কম পশু প্রস্তুত হয়েছে মেঘনা উপজেলায়। সেখানে প্রস্তুত পশুর সংখ্যা ৮ হাজার ৭৩২টি। তবে স্থানীয় চাহিদার তুলনায় এ সংখ্যাও পর্যাপ্ত বলে জানিয়েছে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ।
বর্তমানে জেলার বিভিন্ন এলাকায় বাড়িভিত্তিক ও বাণিজ্যিকভাবে গরু-ছাগল পালন বাড়ছে। অনেকেই নতুন খামার গড়ে তুলেছেন। এতে একদিকে যেমন স্থানীয় চাহিদা পূরণ হচ্ছে, অন্যদিকে তৈরি হচ্ছে নতুন কর্মসংস্থানের সুযোগ।
তবে খামারিরা বলছেন, এবার পশু পালনে খরচ বেড়েছে কয়েকগুণ। পশুখাদ্যের দাম বৃদ্ধির পাশাপাশি তীব্র গরমে পশুর বাড়তি যত্ন নিতে হচ্ছে। সার্বক্ষণিক বাতাসের ব্যবস্থা, খাবারের সঙ্গে সোডা মেশানো, নিয়মিত শ্বাস-প্রশ্বাস পর্যবেক্ষণসহ বাড়তি নানা ব্যবস্থাপনা নিতে হচ্ছে তাদের। এছাড়া ফসল মৌসুম হওয়ায় শ্রমিকের মজুরিও বেড়েছে।
সদর উপজেলার কোটবাড়ির হাফেজিয়া এগ্রোর খামারি হাসিবুর পিয়াল রাইজিং কুমিল্লাকে বলেন, “এবার আমরা আগেভাগেই প্রস্তুতি নিয়েছি। দেশীয় পদ্ধতিতে পশু পালন করেছি। খরচও বেড়েছে। তাই বাজারে যেন ন্যায্যমূল্য পাই, সেটাই প্রত্যাশা।”
নগরীর নুরপুর এলাকার কুমিল্লা ক্যাটেল রেঞ্জের স্বত্বাধিকারী রাইজিং কুমিল্লাকে জানান, “এবারের কোরবানির জন্য আমাদের খামারে বেশ কিছু গরু প্রস্তুত করা হয়েছে। গো-খাদ্যের ঊর্ধ্বগতিতেও গত বছরের দামেই আমরা গরু বিক্রি করছি, দাম বাড়াইনি।”
জেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা মো. সামছুল আলম বলেন, “এ বছর জেলায় পর্যাপ্ত পশু প্রস্তুত রয়েছে। ঈদ উপলক্ষে জেলার সব পশুর হাটে প্রাণিসম্পদ বিভাগের নজরদারি থাকবে, যাতে স্বাস্থ্যসম্মত পশু বিক্রি নিশ্চিত করা যায়। এবার চাহিদার তুলনায় ১২ হাজার পশু বেশি রয়েছে, যা দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে সরবরাহ করা হবে। খামারিরা এখন স্টেরয়েড ব্যবহার থেকে সরে এসেছে, যা ইতিবাচক দিক।”
এদিকে গত কয়েক বছরে সীমান্তে বিজিবির কঠোর নজরদারির কারণে ভারতীয় গরুর প্রবেশ প্রায় বন্ধ হয়ে যাওয়ায় স্থানীয় খামারিদের আগ্রহ আরও বেড়েছে।
কুমিল্লা ১০ বিজিবির অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল মীর আলী এজাজ বলেন, “কুমিল্লার ৯৬ কিলোমিটার সীমান্ত এলাকায় গরু পাচারের তেমন প্রবণতা নেই। তবে ঈদকে সামনে রেখে নজরদারি জোরদার করা হয়েছে।”