
লাইফস্টাইল ডেস্ক
ওজন নিয়ন্ত্রণ বা সুস্থ জীবনধারার জন্য অনেকেই এখন ভাত এবং রুটি খাওয়া কমিয়ে দিচ্ছেন। এই দুটি খাবারই কার্বোহাইড্রেটের প্রধান উৎস, যা শরীরে শক্তির যোগান দিলেও অতিরিক্ত গ্রহণে ওজন বাড়াতে পারে।
যদি একটানা ৩০ দিন ভাত আর রুটি বাদ দেওয়া হয়, তবে শরীরে কিছু স্পষ্ট পরিবর্তন দেখা যায়। এই পরিবর্তনগুলোর মধ্যে যেমন ভালো দিক আছে, তেমনই কিছু বিষয়ে সতর্ক থাকাও জরুরি।
এক মাস ভাত-রুটি ত্যাগ করলে শরীরে যে ৭টি পরিবর্তন আসে:
১. শরীর চর্বি পুড়িয়ে শক্তি তৈরি করতে শুরু করে ভাত-রুটি অর্থাৎ কার্বোহাইড্রেটের সরবরাহ কমে গেলে শরীর শক্তির জন্য জমা থাকা চর্বি ব্যবহার করতে শুরু করে। এই প্রক্রিয়াকে কিটোসিস বলা হয়। শুরুতে কিছুটা দুর্বলতা অনুভূত হতে পারে, কিন্তু কিছুদিন পর অনেকেই নিজেকে আগের চেয়ে হালকা, সতেজ ও শক্তিময় অনুভব করেন।
২. ওজন দ্রুত কমে প্রথম সপ্তাহেই প্রায় ১–২ কেজি পর্যন্ত ওজন কমতে পারে। তবে এই প্রাথমিক ওজন হ্রাস মূলত শরীর থেকে পানি বেরিয়ে যাওয়ার কারণে ঘটে। এই দ্রুত পরিবর্তন অনেককেই স্বাস্থ্যকর খাদ্যাভ্যাসে উৎসাহ দেয়।
৩. রক্তে চিনির পরিমাণ নিয়ন্ত্রণে আসে ডায়াবেটিস বা ইনসুলিন-সংক্রান্ত সমস্যায় ভোগা ব্যক্তিদের জন্য এটি অত্যন্ত উপকারী হতে পারে। ভাত-রুটির বদলে ওটস, বার্লি বা মিলেট জাতীয় খাবার গ্রহণ করলে, এগুলোর কম গ্লাইসেমিক ইনডেক্সের কারণে রক্তে চিনির ওঠানামা কম হয় এবং সুগার নিয়ন্ত্রণে থাকে।
৪. হজমে পরিবর্তন আসে অনেকেরই ভাত-রুটি বাদ দেওয়ার পর পেট হালকা লাগে। তবে যথেষ্ট পরিমাণে ফাইবার না পেলে উল্টো কোষ্ঠকাঠিন্য হতে পারে। তাই এই সময় প্রচুর সবজি, ফল, বাদাম ও বীজ খাওয়া খুব জরুরি।
৫. খিদে ও তৃষ্ণা বেড়ে যেতে পারে ভাত-রুটি অনেকের জন্য কেবল খাবার নয়, এটি মানসিক স্বস্তিও দেয়। হঠাৎ করে তা বাদ দিলে খিদে বা অস্থিরতা বাড়তে পারে। এমন পরিস্থিতিতে ফল, দই, মিষ্টি আলু বা মুড়ির মতো হালকা ও স্বাস্থ্যকর বিকল্প বেছে নেওয়া উচিত।
৬. কিছু পুষ্টির ঘাটতি দেখা দিতে পারে ভাত ও রুটিতে ভিটামিন বি, আয়রন ও ম্যাগনেশিয়ামের মতো গুরুত্বপূর্ণ পুষ্টি উপাদান থাকে। তাই এগুলো বাদ দিলে ঘাটতি পূরণের জন্য মাল্টিগ্রেইন, রাগি, জোয়ার বা আমরান্থের মতো বিকল্প খাদ্য তালিকায় যোগ করা আবশ্যক।
৭. খাওয়ার অভ্যাসে সচেতনতা আসে ৩০ দিনের এই পরীক্ষা আপনাকে আপনার খাওয়ার অভ্যাস কেমন ছিল তা বুঝতে সাহায্য করবে। এটি ভবিষ্যতে আরও সচেতনভাবে ও পরিমিত পরিমাণে খাবার বেছে নিতে প্রেরণা যোগায়।
ভাত-রুটি কি পুরোপুরি বাদ দেওয়া উচিত?
উত্তর: না, একেবারেই না। কারণ: কার্বোহাইড্রেট আমাদের শরীরের প্রধান শক্তির উৎস এবং মস্তিষ্কের সঠিক কাজের জন্য অপরিহার্য। তাই এটিকে পুরোপুরি বাদ না দিয়ে বরং স্বাস্থ্যকর বিকল্প বেছে নেওয়া বুদ্ধিমানের কাজ।
স্বাস্থ্যকর বিকল্প হিসেবে কী খাবেন?
চাল: সাদা চালের বদলে ব্রাউন বা আতপ চাল ব্যবহার করুন।
আটা: সাধারণ আটার পরিবর্তে মাল্টিগ্রেইন বা রাগীর আটা বেছে নিন।
ভারসাম্য: প্রতিটি খাবারে কার্বোহাইড্রেটের পাশাপাশি সবজি ও প্রোটিন (ডাল, ডিম, মাছ, পনির) রাখুন।
ভাত-রুটির স্বাস্থ্যকর বিকল্পসমূহ:
| খাবারের নাম | উপকারিতা |
| মিলেট (রাগি, বাজরা, জোয়ার) | ফাইবার ও খনিজে ভরপুর, রক্তে সুগার নিয়ন্ত্রণ করে। |
| কুইনোয়া, ডালিয়া, বাকউইট | উচ্চ পুষ্টিকর মান এবং পেট ভরা রাখতে সাহায্য করে। |
| ফুলকপির ভাত বা মিলেট রুটি | কম কার্বোহাইড্রেটের দারুণ বিকল্প। |
| সবজি, ডাল ও শাক | পুষ্টি ও স্বাদের সঠিক ভারসাম্য বজায় রাখে। |
এক মাস ভাত-রুটি ছাড়া থাকলে শরীর ও মন নতুন অভ্যাসে অভ্যস্ত হতে শুরু করে। এতে ওজন কমে, শক্তি বাড়ে এবং নিজের খাদ্যশৈলী সম্পর্কে সচেতনতা তৈরি হয়।
তবে দীর্ঘমেয়াদে সুফল পেতে চাইলে ভারসাম্যই আসল চাবিকাঠি। কার্বোহাইড্রেটকে ভয় না পেয়ে, তাকে বুঝে-শুনে ও পরিমিত পরিমাণে খাওয়াই হলো বুদ্ধিমানের কাজ।
সম্পাদক : শাদমান আল আরবী | নির্বাহী সম্পাদক : তানভীর আল আরবী
ঠিকানা : ঝাউতলা, ১ম কান্দিরপাড়, কুমিল্লা-৩৫০০। ফোন : ০১৩১৬১৮৬৯৪০, ই-মেইল : [email protected], বিজ্ঞাপন: [email protected], নিউজরুম: [email protected] © ২০২৩ রাইজিং কুমিল্লা সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত। | Design & Developed by BDIGITIC