শনিবার ২৮ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬

একই দিনে বিজ্ঞপ্তি, কুয়েট ফেল ভিসি বঞ্চিত ববি

ববি প্রতিনিধি

Rising Cumilla - University of Barisal
ছবি: সংগৃহীত

খুলনা প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় (কুয়েট) ও বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয় (ববি) উপাচার্য নিয়োগের বিজ্ঞপ্তি মঙ্গলবার (৪ জুন) শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা বিভাগ প্রকাশ করেন। এই আবেদন শেষ তারিখ ২৬শে জুন পর্যন্ত ছিল। কিন্তু বৃহস্পতিবার(২৪শে জুলাই) খুলনা প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে উপাচার্য নিয়োগ দেওয়া হলেও এখনও পর্যন্ত বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয়ে এই নিয়োগ প্রক্রিয়া সম্পূর্ণ করতে পারেনি সংশ্লিষ্টরা।

মঙ্গলবার (১৩ মে) শিক্ষার্থীদের ২৯ দিন আন্দোলনের পরিপ্রেক্ষিতে শিক্ষা মন্ত্রণালয় বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক উপাচার্য অধ্যাপক ড. শুচিতা শরমিনকে অব্যাহতি প্রদান করেন। ঐদিন অন্তর্বর্তীকালীন উপাচার্য হিসেবে দায়িত্ব পান রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের ফলিত রসায়ন ও কেমিকৌশল বিভাগের শিক্ষক অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ তৌফিক আলম।

বর্তমানে অন্তর্বর্তীকালীন উপাচার্য দিয়ে চলছে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রশাসনিক, কোষাধ্যক্ষ ও অ্যাকাডেমিক কার্যক্রম।

বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রধান-নির্বাহী পদটি কার্যত শূন্য থাকায় স্থবির হয়ে পড়েছে প্রশাসনিক কার্যক্রম। স্থায়ী উপাচার্য নিয়োগ না দেয়ায় বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রশাসনিক বিভিন্ন পদে নিয়োগপ্রাপ্ত শিক্ষক ও কর্মকর্তাদের ভিতরে অনাস্থা পরিলক্ষিত দেখা যায়। আবার কেউ কেউ অন্তর্বর্তীকালীন উপাচার্যের অধীনে প্রশাসনিক কাজ করতে অনীহা প্রকাশ করেন।

একটি বিশ্ববিদ্যালয়ে অন্তর্বর্তীকালীন উপাচার্য হলো, একটি সাময়িক ব্যবস্থা, যিনি পূর্বসূরির পদ খালি থাকা অবস্থায় বা স্থায়ী নিয়োগ না হওয়া পর্যন্ত স্বল্প সময়ের জন্য দায়িত্ব পালন করেন। তার কাজের সীমাবদ্ধতা না থাকলেও তিনি সাধারণত দীর্ঘমেয়াদী কিংবা বড় ধরনের সিদ্ধান্ত নেন না। তার মূল উদ্দেশ্য হলো পরবর্তী পূর্ণকালীন উপাচার্য নিয়োগ না হওয়া পর্যন্ত বিশ্ববিদ্যালয়ের কার্যক্রম চালু রাখা, যেন বিশ্ববিদ্যালয়ের স্বাভাবিক কার্যক্রম বিঘ্নিত না ঘটে।

পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ে উপাচার্য নিয়োগ রাষ্ট্রীয় সর্বোচ্চ পর্যায়ের নীতিনির্ধারণী সিদ্ধান্ত। সরকারকে অত্যন্ত সতর্কতার সাথে উপাচার্য নিয়োগ করতে হয় কারণ বিশ্ববিদ্যালয়গুলো রাষ্ট্রের অন্যতম স্পর্শকাতর জায়গা। তবে বাস্তবতা হলো একজন প্রজ্ঞাবান, যোগ্য, সৎ একাডেমিশিয়ান প্রফেসরকে খুঁজে বের করে উপাচার্য নিয়োগ দেওয়া সময় সাপেক্ষ। তাই সরকার বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে অন্তর্বর্তীকালীন উপাচার্য নিয়োগ দেওয়ার প্রথা প্রচলন চালু করেন।

তবে আপাতদৃষ্টিতে বিষয়টি ভালো মনে হলেও উপাচার্য নিয়োগ প্রক্রিয়া বিলম্বিত হওয়ায় বিশ্ববিদ্যালয়ে বিভিন্ন নেতিবাচক প্রভাব পড়ে।
অনেক সময় বিশ্ববিদ্যালয়েগুলোতে নতুন উপাচার্য নিয়োগ দিতে সরকার ৪-৫ মাস সময় নেয়। যা অত্যন্ত পরিতাপের বিষয়। উপাচার্য পদটি একটি বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রধান নির্বাহীর পদ অথচ সেই উপাচার্য নিয়োগ নিয়ে কর্তৃপক্ষের বা সরকারের প্রস্তুতি, উদ্যোগ ও পদক্ষেপ দেখে মাঝে মাঝে অবাক হতে হয়। মনে হয় যেন দেখার কেউ নেই।

বিশ্লেষকের, মতে যথাসময়ে বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে সরকার সময়মতো উপাচার্য নিয়োগ দিচ্ছে না বা দিতে পারছে না। আর এভাবে উপাচার্য নিয়োগ বিলম্বিত হওয়ায় বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে বিভিন্ন জটিলতা তৈরি হতে পারে।

একজন রুটিন দায়িত্বের উপাচার্য বিশ্ববিদ্যালয়ে কি করতে পারবেন আর কি করতে পারবেন না তা নিয়ে রয়েছে ভিন্ন মত পার্থক্য। প্রকৃতি পক্ষে অন্তর্বর্তীকালীন উপাচার্যের সুনির্দিষ্ট কর্মপরিধির বিষয়ে কোনো নির্দেশনা নেই। তাই অনেক উপাচার্য নিজের পছন্দ মতো কাজ করেন।

যেমন, বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয়ে রুটিন দ্বায়িত্ব থাকা উপাচার্য অধ্যাপক ড. এ কে এম মাহবুব হাসানের বিরুদ্ধে সিন্ডিকেট সভা ছাড়াই সাময়িক বরখাস্ত হওয়া এক কর্মকর্তাকে দায়িত্বে পুনর্বহাল ও পাঁচ কর্মকর্তাকে বদলির অভিযোগ উঠেছিল।

বিশ্লেষকরা আরো মনে করেন, উপাচার্য নিয়োগ বিলম্বিত হওয়ায় কারণে শত শত প্রশ্ন সামনে আসতে পারে। তাই বিশ্ববিদ্যালয়ে উচ্চশিক্ষা ও গবেষণা কার্যক্রম গতিশীল রাখতে উপাচার্য নিয়োগ প্রক্রিয়া দ্রুত করা প্রয়োজন। উপাচার্য নিয়োগের বিষয়টি সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের বিশেষ গুরুত্ব সহকারে দেখা উচিত।

বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা জানান,গত তিন মাস যাবৎ অন্তর্বর্তীকালীন উপাচার্য দিয়ে চলছে বিশ্ববিদ্যালয়। শিক্ষা মন্ত্রণালয় একই দিনে দুইটি বিশ্ববিদ্যালয়ের বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করেছে। যার মধ্য তারা একটিতে উপাচার্য দিয়েছে। কিন্তু তারা আমাদের কে এখনো বঞ্চিত রাখছে। সংশ্লিষ্টদের উচিত দ্রুততর সহিত আমাদের বিশ্ববিদ্যালয়ে স্থায়ী উপাচার্য নিয়োগ দিয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের সংকট নিরসন করা।

বিশ্ববিদ্যালয়ের গণিত বিভাগ ২০২১-২২ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থী মো.সিয়াম সাহারিয়ার,”স্থায়ী ভিসি না থাকায় স্থবির আছে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রশাসনিক কর্যকরম। স্থায়ী ভিসি না থাকায় দীর্ঘ মেয়াদি উন্নয়নমূলক কোন কাজ হচ্ছে না।যেখানে শিক্ষকসংকট তো আছেই, শিক্ষক নিয়োগ ও বলা যায় স্থবির হয়ে আছে। আশা করি শিক্ষা মন্ত্রণালয় আমাদের অতি শীঘ্রই স্থায়ী ভিসি দিবেন।”

উপাচার্য নিয়োগের বিড়ম্বনা হওয়ার কারণ জানতে চাইলে জীব বিজ্ঞান অনুষদের ডিন ড. হাফিজ আশরাফুল বলেন,” এটা সরকারে বিষয়, আমরা সামগ্রিক ভাবে যদি পুরো দেশের দিকে তাকায়। গভর্নমেন্ট কি ভাবে ফাংশন করছে, সেটা আসলে আমরা বুঝতে পারি। গভর্নমেন্ট আসলে প্রোএক্টিভ না হয়ে রিএক্টিভ হচ্ছে। প্রোএক্টিভ হলে গভর্নমেন্টের একটা মিশন থাকে ভিশন থাকে। আর রিএক্টিভ হলে,যেমন কুয়েটে চলছিলনা যার কারণে ইউজিসি (ভিসি) দিয়ে দিল, আর এখানে একজন এন্ট্রেরিম ভিসি দিয়ে রাখছে, চলছে তো, এরকম একটা সিসুয়েশন আসলে । আসলে গভর্নমেন্টের এবিষয়টা আমার পক্ষে থেকে মন্তব্য করাটা কঠিন।”

আরও পড়ুন