
রাইজিং কুমিল্লা ডেস্ক

রান্না করা, ফল কাটা কিংবা ঘরের সাধারণ কাজ—যে কাজগুলো প্রতিদিনই করেন অনেক মানুষ, সেগুলোই এখন হয়ে উঠছে আয়ের নতুন উৎস। মাথায় স্মার্টফোন বা অ্যাকশন ক্যামেরা বেঁধে দৈনন্দিন কাজের ভিডিও ধারণ করে ঘণ্টায় প্রায় ২৫০ টাকা পর্যন্ত আয় করছেন ভারতের হাজারো মানুষ।
সংবাদ সংস্থা এএফপি’র এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ‘অবজেক্টওয়েজ’-এর মতো একাধিক কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) ডেটা সংগ্রাহক প্রতিষ্ঠান দেশজুড়ে কর্মী নিয়োগ করছে। তাদের প্রধান কাজ হলো নিজের দৃষ্টিকোণ থেকে বিভিন্ন দৈনন্দিন কাজের ভিডিও ধারণ করা। প্রযুক্তি জগতে এই ধরনের ভিডিওকে বলা হয় ‘ইগো-সেন্ট্রিক ডেটা’ বা ফার্স্ট-পার্সন ডেটা।
স্মার্ট গ্লাস, হেড-মাউন্টেড ক্যামেরা কিংবা সাধারণ স্মার্টফোনের মাধ্যমে ধারণ করা এসব ভিডিও ব্যবহার করা হচ্ছে উন্নত এআই সিস্টেম ও হিউম্যানয়েড রোবটকে প্রশিক্ষণ দিতে। মানুষের মতো হাত-পা ব্যবহার করে কীভাবে ফল কাটতে হয়, কাপড় ভাঁজ করতে হয় কিংবা অন্যান্য গৃহস্থালির কাজ সম্পন্ন করতে হয়, তা শেখানোর জন্য প্রয়োজন বাস্তব জীবনের এমন তথ্যভাণ্ডার।
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, চ্যাটজিপিটি বা জেমিনির মতো এআই মডেল মূলত লেখা ও ছবি বিশ্লেষণ করে শেখে। কিন্তু বাস্তব জগতের শারীরিক কাজ আয়ত্ত করতে হলে মানুষের চোখে দেখা দৃশ্য এবং হাতের সূক্ষ্ম নড়াচড়ার তথ্য প্রয়োজন হয়। এ কারণেই ভারতীয় শ্রমিক, গৃহিণী ও সাধারণ মানুষের দৈনন্দিন কাজের ভিডিও সংগ্রহে আগ্রহী হয়ে উঠেছে প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠানগুলো।
কিছু প্রতিষ্ঠান আবার বিশেষ স্টুডিও তৈরি করে নির্দিষ্ট পরিবেশে একই কাজ বারবার করিয়ে ভিডিও ধারণ করছে, যাতে রোবট আরও নিখুঁতভাবে কাজ শিখতে পারে।
তবে এই নতুন আয়ের সুযোগের পাশাপাশি ভবিষ্যৎ নিয়ে উদ্বেগও দেখা দিয়েছে। বিশেষজ্ঞদের একাংশের মতে, যেসব মানুষ আজ নিজেদের কাজের ভিডিও দিয়ে রোবটকে প্রশিক্ষণ দিচ্ছেন, ভবিষ্যতে সেই রোবটই তাদের কর্মসংস্থানের জন্য চ্যালেঞ্জ হয়ে উঠতে পারে।
অন্যদিকে কেউ কেউ মনে করেন, রোবট সাধারণ ও পুনরাবৃত্তিমূলক কাজগুলো করলে মানুষ আরও সৃজনশীল ও দক্ষতাভিত্তিক কাজে মনোযোগ দেওয়ার সুযোগ পাবে। তবে অর্থনীতিবিদদের একটি অংশ সতর্ক করে বলছেন, ভারতের মতো দেশে যেখানে বিশাল শ্রমবাজার এখনও হাতের কাজনির্ভর, সেখানে এআই ও রোবটের বিস্তার উল্লেখযোগ্য প্রভাব ফেলতে পারে।
বিনিয়োগ প্রতিষ্ঠান মর্গ্যান স্ট্যানলির পূর্বাভাস অনুযায়ী, ২০৫০ সালের মধ্যে বিশ্বজুড়ে প্রায় ১০০ কোটি হিউম্যানয়েড রোবট বিভিন্ন খাতে কাজ করবে। ফলে বর্তমানে অতিরিক্ত আয়ের উৎস হিসেবে যে প্রযুক্তিকে গ্রহণ করছেন অনেক মানুষ, ভবিষ্যতে সেটিই পরবর্তী প্রজন্মের কর্মসংস্থানের জন্য বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়াতে পারে বলে আশঙ্কা করছেন বিশেষজ্ঞরা।
সম্পাদক : শাদমান আল আরবী | নির্বাহী সম্পাদক : তানভীর আল আরবী
ঠিকানা : ঝাউতলা, ১ম কান্দিরপাড়, কুমিল্লা-৩৫০০। ফোন : ০১৩১৬১৮৬৯৪০, ই-মেইল : [email protected], বিজ্ঞাপন: [email protected], নিউজরুম: [email protected] © ২০২৩ রাইজিং কুমিল্লা সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত। | Design & Developed by BDIGITIC