
পবিত্র ঈদুল ফিতর উপলক্ষে দেশের সব হাসপাতালে নিরবচ্ছিন্ন চিকিৎসাসেবা নিশ্চিত করতে বিশেষ নির্দেশনা দিয়েছে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর।
রোববার (১৫ মার্চ) জারি করা এক অফিস আদেশে এসব নির্দেশনা দেওয়া হয়। আদেশে স্বাক্ষর করেন স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের পরিচালক (হাসপাতাল ও ক্লিনিকসমূহ) ডা. আবু হোসেন মো. মঈনুল আহসান।
ঈদের ছুটির সময়েও রোগীরা যাতে জরুরি ও প্রয়োজনীয় চিকিৎসাসেবা পান, তা নিশ্চিত করতেই দেশের সব সরকারি ও বেসরকারি হাসপাতালের জন্য এসব নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।
নির্দেশনাগুলো হলো–
১. জরুরি বিভাগে প্রয়োজনের অতিরিক্ত চিকিৎসক পদায়নের মাধ্যমে সার্বক্ষণিক চিকিৎসকের উপস্থিতি নিশ্চিত করতে হবে।
২. জরুরি বিভাগ, লেবার রুম, ইমার্জেন্সি ওটি, ল্যাব, ব্লাড ব্যাংক, সিটি স্ক্যান ও এমআরআই সার্বক্ষণিক চালু রাখতে হবে।
৩. কর্মস্থলে পর্যাপ্ত জনবল ও চিকিৎসাসেবা নিশ্চিত করতে ঈদের আগে ও পরে সমন্বয় করে জনবলকে পর্যায়ক্রমে ছুটি দেওয়া যেতে পারে।
৪. প্রতিষ্ঠান প্রধান নিরবচ্ছিন্ন জরুরি চিকিৎসা কার্যক্রম ও জনস্বার্থকে প্রাধান্য দিয়ে ছুটি মঞ্জুর করতে পারবেন।
৫. সিভিল সার্জন ও বিভাগীয় পরিচালককে অবহিত করে ঈদের ছুটিকালে নিজ জেলার মধ্যে অতি প্রয়োজনীয় জনবল সমন্বয় করা যাবে।
৬. হাসপাতালের অন্তবিভাগ ইউনিট প্রধানরা প্রতিদিন তাদের বিভাগীয় কার্যক্রম তদারক করবেন। মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল, বিশেষায়িত হাসপাতাল, জেলা সদর হাসপাতাল ও উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে জরুরি ল্যাব ও এক্স-রে সেবা সার্বক্ষণিক চালু রাখতে হবে। উপজেলা পর্যায়ে বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকদের অন-কল সেবা চালু রাখতে হবে।
৭. ছুটি শুরু হওয়ার আগেই পর্যাপ্ত ওষুধ, আইভি ফ্লুইড, কেমিক্যাল রি-এজেন্ট ও সার্জিক্যাল সামগ্রী মজুদ রাখতে হবে এবং তাৎক্ষণিক সরবরাহের ব্যবস্থা নিশ্চিত করতে হবে। এ ক্ষেত্রে স্টোর কিপার বা দায়িত্বপ্রাপ্ত স্টাফকে নিজ জেলা ও উপজেলায় অবস্থান করতে হবে।
৮. অ্যাম্বুলেন্স সার্ভিস সার্বক্ষণিক চালু রাখতে হবে।
৯. ছুটি চলাকালে হাসপাতালের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে স্থানীয় প্রশাসন ও আইন প্রয়োগকারী সংস্থাকে আগামপত্র দিতে হবে।
১০. ছুটি চলাকালে সব স্বাস্থ্যসেবা প্রতিষ্ঠানে অগ্নিনির্বাপণ বিষয়ে বিশেষ সতর্কতা অবলম্বন করতে হবে।
১১. প্রতিষ্ঠান প্রধান ও বিভিন্ন বিভাগের প্রধানরা ছুটিকালীন দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তা-কর্মচারীদের সঙ্গে নিয়মিত যোগাযোগ রাখবেন এবং ঈদের দিন কুশল বিনিময় করবেন।
১২. প্রতিষ্ঠান প্রধান ছুটিতে গেলে বিধি অনুযায়ী দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তা নির্ধারণ করতে হবে। দায়িত্ব গ্রহণকারী কর্মকর্তার নাম ও মোবাইল নম্বর ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানাতে হবে।
১৩. ঈদের দিন রোগীদের জন্য উন্নতমানের খাবার পরিবেশনের ব্যবস্থা তদারকি করবেন প্রতিষ্ঠান প্রধান এবং রোগীদের সঙ্গে শুভেচ্ছা বিনিময় করবেন।
১৪. বহির্বিভাগ একাধারে ৭২ ঘণ্টার বেশি বন্ধ রাখা যাবে না। এ বিষয়ে প্রতিষ্ঠান প্রধানরা নিজ নিজ প্রতিষ্ঠানের জন্য সিদ্ধান্ত নেবেন।
১৫.
ক) বেসরকারি ক্লিনিক ও হাসপাতালকে রেজিস্টার্ড চিকিৎসকের অধীনে সার্বক্ষণিক জরুরি ও প্রসূতি বিভাগ চালু রাখতে হবে।
খ) কোনো রোগী রেফার করার আগে প্রয়োজনীয় প্রাথমিক চিকিৎসা এবং যাত্রাপথে চিকিৎসা নিশ্চিত করতে হবে।
গ) রেফার করা রোগীদের জন্য অ্যাম্বুলেন্স পাওয়ার বিষয়টি নিশ্চিত করতে প্রয়োজনীয় সহযোগিতা দিতে হবে।
১৬. যে কোনো দুর্যোগ বা অনাকাঙ্ক্ষিত দুর্ঘটনার ঘটনা ঘটলে তাৎক্ষণিকভাবে স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের কন্ট্রোলরুমকে অবহিত করতে হবে।









