সোমবার ২ মার্চ, ২০২৬

ইরানে সংঘাত: বিশ্ববাজারে অস্থির জ্বালানি তেলের দাম, এক লাফে বেড়েছে ১০%

রাইজিং কুমিল্লা ডেস্ক

ছবি: রয়টার্স

ইরানে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের যৌথ হামলার ফলে এক লাফে ১০ শতাংশ দাম বেড়েছে জ্বালানি তেলের দাম। মধ্যপ্রাচ্যে নতুন করে যুদ্ধাবস্থার প্রেক্ষাপটে বিশ্ববাজারে তেলের দাম হঠাৎ বেড়েছে।

রবিবার (১ মার্চ) বার্তাসংস্থা রয়টার্সের এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়েছে।

রয়টার্সের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, বিশ্ববাজারের মানদণ্ড ব্রেন্ট ক্রুড রোববার ওভার-দ্য-কাউন্টার লেনদেনে প্রায় ১০ শতাংশ বেড়েছে। বর্তমানে প্রতি ব্যারেল তেলের দাম ৮০ ডলারে পৌঁছেছে। এর আগে শুক্রবার দাম ছিল ৭৩ ডলার, যা জুলাইয়ের পর সর্বোচ্চ অবস্থান ছিল। সাপ্তাহিক ছুটির কারণে ফিউচারস লেনদেন আপাতত বন্ধ রয়েছে।

বিশ্লেষকদের মতে, পরিস্থিতির আরও অবনতি হলে তেলের দাম দ্রুত বাড়তে পারে। বিশেষ করে হরমুজ প্রণালি বন্ধ হয়ে যাওয়ার সম্ভাবনাই বাজারের সবচেয়ে বড় উদ্বেগ।

জ্বালানি বিশ্লেষণা প্রতিষ্ঠান আইসিআইএস–এর জ্বালানি ও রিফাইনিং বিভাগের পরিচালক অজয় পারমার বলেন, সামরিক হামলা তেলের দামের পক্ষে সহায়ক হলেও মূল বিষয় হলো হরমুজ প্রণালীর সম্ভাব্য বন্ধ হয়ে যাওয়া।

রয়টার্স জানিয়েছে, বিশ্বের মোট তেল পরিবহনের ২০ শতাংশেরও বেশি এই প্রণালি দিয়ে সম্পন্ন হয়। তেহরানের সতর্কবার্তার পর অধিকাংশ ট্যাংকার মালিক, তেল কোম্পানি ও ট্রেডিং হাউস ওই পথ দিয়ে অপরিশোধিত তেল, জ্বালানি ও এলএনজি পরিবহন সাময়িকভাবে স্থগিত করেছে।

পারমারের মতে, যদি প্রণালি দীর্ঘ সময়ের জন্য বন্ধ থাকে, তাহলে তেলের দাম ব্যারেলপ্রতি ১০০ ডলার বা তারও বেশি হতে পারে।

নরওয়ে-ভিত্তিক গবেষণা প্রতিষ্ঠান রেস্টার্ড এনার্জি–এর বিশ্লেষক জর্জে লিওনের মতে, হরমুজ প্রণালি বন্ধ হলে বিকল্প পাইপলাইন ব্যবহার করেও দৈনিক ৮ থেকে ১০ মিলিয়ন ব্যারেল সরবরাহ ঘাটতি তৈরি হতে পারে। তাদের পূর্বাভাস অনুযায়ী, বাজার স্বাভাবিকভাবে চালু হলে দাম প্রায় ৯২ ডলার পর্যন্ত উঠতে পারে।

অন্যদিকে তেল উৎপাদক জোট ওপেক প্লাস এপ্রিল থেকে প্রতিদিন ২ লাখ ৬ হাজার ব্যারেল উৎপাদন বাড়ানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছে। তবে এ পরিমাণ বৈশ্বিক চাহিদার তুলনায় খুবই সামান্য—০ দশমিক ২ শতাংশেরও কম। ফলে বিশ্লেষকদের মতে, বর্তমান অস্থিরতা সামাল দিতে এই বাড়তি উৎপাদন যথেষ্ট নাও হতে পারে।

আরও পড়ুন