রবিবার ১ মার্চ, ২০২৬

ইতিহাস ঐতিহ্যের শহর কুমিল্লা পচে গেছে, বাঁচাতে দরকার সমন্বিত উদ্যোগ: এমপি মনির চৌধুরী

রাইজিং কুমিল্লা প্রতিবেদক

ইতিহাস ঐতিহ্যের শহর কুমিল্লা পচে গেছে, বাঁচাতে দরকার সমন্বিত উদ্যোগ: এমপি মনির চৌধুরী/ছবি: রাইজিং কুমিল্লা

কুমিল্লা-৬ আসনের সংসদ সদস্য মনিরুল হক চৌধুরী বলেন, ইতিহাস ঐতিহ্যের শহর কুমিল্লা পচে গেছে। এ শহরকে বাঁচাতে দরকার সমন্বিত উদ্যোগ। সিটি করপোরেশন, সড়ক ও জনপদ, পানি উন্নয়ন বোর্ডের যৌথ উদ্যোগে শহরের যানজট নিরসন, জলাবদ্ধতা দূরীকরণ, অপরিকল্পিত নগরায়ন রোধ সম্ভব।

রোববার (০১ মার্চ) সিটি করপোরেশনের কর্মকর্তাদের সাথে মতবিনিময় সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

তিনি বলেন, আমি নির্বাচনের আগে জনগণের কাছে উন্নয়নের ওয়াদা করেছি। যেখানে গেছি সেখানেই দেখেছি রাস্তাঘাট ভাঙ্গা। রাস্তার উন্নয়নের ওয়াদা না করেও উপায় ছিলো না। এখন আমার সময় কাজের মাধ্যমে ওয়াদা রক্ষা করা। আল্লাহ সহায় আর আপনাদের সার্বিক সহযোগিতা দরকার।

সিটি করপোরেশনের সীমানা বৃদ্ধির বিষয়ে তিনি বলেন, সীমানা বৃদ্ধির প্রস্তাব চুড়ান্ত পর্যায়ে আছে। ঈদের পরপরই স্থানীয় সরকার মন্ত্রীর সাথে এ বিষয়ে কথা বলবো। সিটি করপোরেশন সীমানা বৃদ্ধি যে প্রস্তাব আছে সেটা বাস্তবায়ন হয়ে যাক, তখন ওয়ার্ড পুনর্ঘটন, সদর ও সদর দক্ষিণ উপজেলা পুনর্ঘটনের করতে হবে। সে ক্ষেত্রে একই কমিশন কাজ করবে। ময়নামতি, মোকাম, ভারেল্লা এ ৩টি ইউনিয়ন আগে কোতোয়ালির অংশ ছিলো। এটা বুড়িচং কেনো গেলো। প্রস্তাব আছে উপজেলা করার, আলাদা উপজেলা হবে, নতুবা আদর্শ সদরের সাথে একীভূত করা যেতে পারে।

তিনি বলেন, শহরকে বাঁচাতে ওয়াসা গঠন জরুরি। কুমিল্লাকে বাঁচাতে দরকার হলে কারফিউ দিয়ে হলেও ওয়াসা গঠন করতে হবে। ওয়াসা কার্যক্রম অবিলম্বে শুরু করতে হবে। এ নিয়ে সিটি করপোরেশনকে অফিসিয়াল প্রস্তাব দেয়ার জন্য বলেন তিনি।

পদুয়ার বাজার হয়ে দক্ষিণের মানুষ শহরে প্রবেশ করতে পারছে না। যে কোন কারনে হোক এটা বন্ধ করে দেয়া হয়েছে। একটা চলাচলের রাস্তাকে ডিভাইডার দিয়ে বন্ধ করে দেয়ার নজির আর দ্বিতীয়টি আছে বলে মনে হয় না। দক্ষিণের মানুষ শহরে ঢুকতে বেগ পোহাতে হয়। অনতিবিলম্বে এই সমস্যার সমাধান দরকার। ইউলুপ স্থাপন করে নিচের ব্যারিকেড খুলে দেয়ার দাবি জানান।

গোমতীর মাটি কাটার বিষয়ে মনিরুল হক চৌধুরী বলেন, মাটি কাটার বিষয়ে কোন ছাড় নয়। এটা গোমতি হোক আর সোনার খনি হোক। এক ইঞ্চি মাটিও কেউ কাটবে না। হাজী ইয়াছিন বলেছে জিরো টলারেন্স, আমি তাঁকে সমর্থন জানিয়ে বলছি এক ইঞ্চি মাটিও কেউ কাটবে না। ওসি সাহেবকে বলছি কেউ যদি মাটি কাটার জন্য সুপারিশ করতে যায় তাকে বেঁধে রেখে আমাকে খবর দিবেন।

জলাবদ্ধতা নিয়ে বলেন, চাঁনপুরের জলাবদ্ধতা বিসিকের জলাবদ্ধতা মানবসৃষ্ট। জলাবদ্ধতা নিরসনে পানি উন্নয়ন বোর্ডের সাথে মিটিং করেছি। তারা রাজি হয়েছে। কুমিল্লার পানি ডাকাতিয়া হয়ে মেঘনা পর্যন্ত ১০ কিলোমিটার বন্ধ হয়ে গেছে। এগুলো নিয়ে পানি উন্নয়ন বোর্ড স্টাডি করছে, ওদের সাথে সিটি করপোরেশন সমন্বয় করে কাজ করবেন। দক্ষিণ কুমিল্লা উত্তর নোয়াখালী সেচ প্রকল্প আবার চালু করলে জলাবদ্ধতা কমবে।

তিনি আরও বলেন, শহরকে বিকেন্দ্রীকরণ করতে মেডিকেল কলেজের ক্যাম্পাস গোমতীর উত্তরে নিতে সাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের সাথে বৈঠক হয়েছে। ওদের টিম আসবে। শিগগিরই কাজ শুরু হবে। বড় শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের দ্বিতীয় ক্যাম্পাস শহরের বাইরে নিলে যানজট নিরসন হবে।

এর আগে তিনি আদর্শ সদর উপজেলার কর্মকর্তাদের সাথে মতবিনিময় করেন।

মতবিনিময় সভায় উপস্থিত ছিলেন সিটি করপোরেশনের প্রশাসক মোঃ শাহ আলম, জেলা সিভিল সার্জন আলী নুর মোহাম্মদ বশীর আহমেদ, আদর্শ সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ফাতেমা তুজ জোহরা, সহকারী কমিশনার (ভূমি) মাশিয়াত আকতার, কোতয়ালী মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা তৌহিদুল আনোয়ার, দক্ষিণ জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক আশিকুর রহমান মাহমুদ ওয়াসিম, সিনিয়র সহ সভাপতি আমিরুজ্জামান আমির, সাবেক যুগ্ম আহ্বায়ক মোজাহিদ চৌধুরী, সাবেক কাউন্সিলর আহমেদ সোয়েব সোহেল, রাজিউর রহমান রাজিব, হারুন অর রশিদ, খলিলুর রহমান মজুমদারসহ সিটি করপোরেশন ও উপজেলার সকল দপ্তরের প্রতিনিধি, রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দরা উপস্থিত ছিলেন।

আরও পড়ুন