রবিবার ২২ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬

ইইউর বাজারে প্রতিযোগিতায় ভালো করছে বাংলাদেশ

বাসস

ছবি: শাটারস্টক

গত পাঁচ বছরে ইউরোপীয় ইউনিয়নের (ইইউ) সামগ্রিক পোশাক আমদানি প্রবৃদ্ধি সীমিত থাকলেও, বাংলাদেশ বেশ কিছু প্রধান প্রতিযোগীর তুলনায় ভালো পারফরম্যান্স দেখিয়েছে।

ইউরোস্ট্যাটের তথ্য অনুযায়ী, ২০২১-২০২৫ সালের মধ্যে ইইউর পোশাক আমদানি বাজার সম্প্রসারিত হলেও সাম্প্রতিক সময়ে প্রবৃদ্ধির গতি ধীর হয়েছে।

২০২৪ থেকে ২০২৫ সালের দুই বছরের পরিসংখ্যান বিশ্লেষণ করে দেখা গেছে, বিশ্ববাজার থেকে ইইউর পোশাক আমদানি মাত্র ২.১০ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়ে ৮৮.১৫ বিলিয়ন ইউরো থেকে বেড়ে ৯০.০০ বিলিয়ন ইউরো হয়েছে। এই সময়ে বাংলাদেশ থেকে আমদানি ৫.৯৭ শতাংশ বেড়ে ১৯.৪১ বিলিয়ন ইউরোতে পৌঁছেছে। একই সময়ে চীন থেকে আমদানি ১.১৭ শতাংশ বেড়ে ২৬.৫৮ বিলিয়ন ইউরোতে দাঁড়িয়েছে, আর তুরস্ক থেকে আমদানি ১০.৭৩ শতাংশ কমেছে।

দীর্ঘমেয়াদি চিত্রে (২০২১–২০২৫), ইইউর পোশাক আমদানি ৭২.২৫ বিলিয়ন ইউরো থেকে ৯০.০০ বিলিয়ন ইউরোতে উন্নীত হয়েছে, যা ২৪.৫৬ শতাংশ বৃদ্ধি। একই সময়ে বাংলাদেশ থেকে আমদানি ১৪.৩০ বিলিয়ন থেকে ১৯.৪১ বিলিয়ন ইউরোতে বেড়ে ৩৫.৮১ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়েছে। চীন ও ভারতের বৃদ্ধি যথাক্রমে ২১.৪৮ শতাংশ ও ৩৩.১৮ শতাংশ। অন্যদিকে, তুরস্কের আমদানি ৯.২২ বিলিয়ন থেকে ৮.৩৪ বিলিয়ন ইউরোতে নেমেছে, যা ৯.৪৮ শতাংশ হ্রাস।

বিজিএমইএ’র সাবেক পরিচালক ও ডেনিম এক্সপার্ট লিমিটেডের অতিরিক্ত ব্যবস্থাপনা পরিচালক মহিউদ্দিন রুবেল বাসসকে বলেন, “গত দুই বছরে ইইউ’র সামগ্রিক আমদানি প্রবৃদ্ধি সীমিত থাকলেও, বাংলাদেশ প্রধান প্রতিযোগীদের তুলনায় ভালো করেছে। প্রায় ৬ শতাংশ প্রবৃদ্ধি এসেছে, যেখানে বাজারের সামগ্রিক বৃদ্ধি ছিল মাত্র ২ শতাংশের কিছু বেশি—এটি ইতিবাচক সংকেত।”

তিনি বলেন, “দীর্ঘমেয়াদে চীন ও তুরস্কের তুলনায় বাংলাদেশ তার আপেক্ষিক অবস্থান শক্তিশালী করেছে। এটি প্রতিযোগিতামূলক মূল্য, সরবরাহ চেইনের স্থিতিশীলতা এবং ক্রেতাদের আস্থার প্রতিফলন। তবে বছরের শেষে পুরোপুরি অবস্থান ধরে রাখা সম্ভব হয়নি।”

মহিউদ্দিন রুবেল আরও জানান, বছরের দ্বিতীয়ার্ধ কঠিন ছিল এবং প্রবৃদ্ধি নেতিবাচক দিকে মোড় নিয়েছিল। এছাড়া, ইউরোপে সামগ্রিক মূল্যচাপের কারণে পোশাকের দাম উল্লেখযোগ্যভাবে কমলেও বাংলাদেশ পরিমাণের দিক থেকে প্রবৃদ্ধি বজায় রাখতে সক্ষম হয়েছে।

তিনি আশা প্রকাশ করেন, বাংলাদেশের স্থিতিশীল রাজনৈতিক পরিস্থিতি এবং নতুন সরকারের প্রতিযোগিতা বাড়ানোর কার্যকর ভূমিকার কারণে বিশ্ব পরিস্থিতির বড় কোনো অবনতি না হলে ভবিষ্যতে বাংলাদেশ আরও ভালো করতে পারবে।

মহিউদ্দিন রুবেল জানান, এই মূল্যচাপ প্রায় সব দেশকেই প্রভাবিত করেছে, তবে ভিয়েতনাম ও তুরস্ক তুলনামূলকভাবে কম ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।

আরও পড়ুন