
ফারহা এমদাদ
২০২৪ এর জুলাইয়ের স্মৃতিচারণ করে নিজের অনুভূতি প্রকাশ করেছেন কুমিল্লার নারী নেত্রী ও সমাজসেবক ফারহা এমদাদ ইম্পা।
বৃহস্পতিবার (২ জুলাই) নিজের ফেসবুক আইডিতে তিনি জুলাই নিয়ে কিছু কথা (পর্ব-১) নামক শিরোনামে এক পোস্ট শেয়ার করেন।
রাইজিং কুমিল্লার পাঠকদের জন্য ফারহা এমদাদের ফেসবুক স্ট্যাটাসটি তুলে ধরা হল:
জুলাই নিয়ে কিছু কথা
পর্ব-১
আমি ফারহা এমদাদ। জন্ম কুমিল্লা মোগলটুলি ফারুকী হাউজ আমার নানার বাড়িতে। আমার নানারা মোগলটুলির স্হায়ী সদস্য। নবাব ফারুকীর বংশধর। আমি ৫ম বংশধর। ছোটথেকে এই শহরে থাকা ও বেড়ে উঠা।।স্কুল কলেজ ও এই শহরেই। কখনো কোন প্রকার সমস্যার সম্মুখীন হতে হয়নি রাজনৈতিক ভাবে আলহামদুলিল্লাহ।
আওয়ামী লীগ দ্বারা আমার বা আমার পরিবারের কখনো কোন ক্ষতি হয় নি। তবে কেনো আমি ২০২৪ এর জুলাইতে নিজেকে যুক্ত করেছিলাম। কারণ ২০১৫ সালে আমি আমার আপন ছোট ভাই কাজী ইনজামামুল হক সামি কে হারিয়েছি। মাত্র ২১ বছর বয়সে আমার ভাই একটি রোড এক্সিডেন্টে মারা যায়। আল্লাহ আমার ভাই কে জান্নাত নসিব করুক। তারপর থেকে আমি এই বয়সী কারও মৃত্যু দেখতে পারি না।
যখন ২৪ সে আমি দেখতে পেয়েছি এই বয়সী অনেক ছাত্র মারা যাচ্ছে আমি চুপ করে থাকতে পারি নি। আমি প্রতিবাদ করেছি নিজের জায়গা থেকে যতটুকু পারি প্রতিবাদ করেছি। আমি এবং আমার মত অনেকে সম্পূর্ণ আবেগ থেকে নিজেদের যুক্ত করেছিলো।।আমার কোন স্বার্থ ছিলো না আমি সরকারি চাকরি করবো না করার ইচ্ছেও কখনো ছিলো না। আমার কেও আওয়ামলীগের হাতে হেনস্তা বা ক্ষতিগ্রস্হ হয়নি। সত্যি বলতে আমাদের পরিবার সাধারণ জীবন যাপন করে নিজরা কখনো কোন ঝামেলায় যুক্ত হয়নি।।
আওয়ামী লীগ তো আমার কোন ক্ষতি করেনি কিন্তু তারপরও কেনো তাদের বিরুদ্ধে আমি কথা বলেছি আন্দোলন করেছি। পরিবারের অনেকে আওয়ামী লীগ করতো ওরা সবাই আমাকে অনেক বুঝাতো কিন্তু আমার দৃষ্টিতে ওরা ভুল ছিল। আমি অন্যায়ের পক্ষে থাকতে পারি নি। যা ন্যায় তার পক্ষে নিজেকে যুক্ত করেছি। ক্ষমতার জন্য মানুষ এত হিংস্র হতে পারে না।
যা অন্যায় তা অন্যায় অস্বীকার করার উপায় নেই। এই আন্দোলনে অনেক আওয়ামী পরিবারের মানুষ ও যুক্ত ছিলো এটাও অস্বীকার করার উপায় নেই। সবার সমন্বয়ে এই আন্দোলন সফল হয়েছে। আন্দোলনে যুক্ত হবার জন্য জীবনে ১ম বার আমি রাজনৈতিক ভাবে হয়রানির শিকার হই। আমাকে কল দিয়ে বলা হয় আমার নামে মামলা হচ্ছে আমি ১১ নং আসামি আমি জামাতের নেত্রী শুরু আমি আন্দোলন করেছি আমার পরিবারের কেউ এগুলোতে ছিলো না আমার হাসবেন্ড তো পছন্দই করতো না এবং অনেক কিছু জানতোও না কিন্তু আওয়ামীলীগের কিছু মানুষ ওর দোকানে গিয়ে দোকান তালা দিয়ে দেয় বললো আর খোলা যাবে না। তারপর আরো অনেক কিছু ঘটে কঠিন সময় পার করি।
তারপর আসলো ৫ আগষ্ট। আন্দলোন সফল হলো। ভেবেছিলাম একটা নতুন যাত্রা শুরু হবে সবার সমন্বয়ে। কিন্তু দুঃখের বিষয় ৫ আগষ্টের পর এক বিশেষ গোষ্ঠী নিজের কে এই আন্দোলনের প্রধান বলে জুলাইয়ের সাথে বেইমানি শুরু করে। জুলাইকে হাইজেক করে। যারা ৫ আগষ্টের আগে বলতো "আমরা" আন্দোলন করছি ওরা বলতে শুরু করলো "আমি" আন্দোলন করেছি। শুরু হল আমরা থেকে আমির খেলা। নিজের কৃতিত্ব নেওয়ার খেলা। বিভাজন শুরু হলো।
তারপর হুট করে মামলা বানিজ্য শুরু আমার এলাকার আমার এক বোন যে নিজে আওয়ামী পরিবারের হয়ে আমার সাথে আন্দোলনে যুক্ত ছিলো ওর বাবা ঐ সময় আইসিইউ তে ভর্তি ওর বাবার নামেও মামলা হয় (উনি এক সময় আওয়ামী লীগ করতো কিন্তু অনেক আগেই শারীরিক অসুস্থতার জন্য রাজনীতি থেকে সরে যায়)। সে একটা পোষ্ট করে ওটা ২ মিনিটের মধ্যে আমার চোখে পরে তারপর আমি ওর সাথে কথা বলে এটা সমাধানের চেষ্টা করি। এরপর একে একে শুরু হতে থাকে এক সময় রাজনীতি করা মানুষের নামে করা হয়রানি মূলক মামলা। সত্যি বলতে এগুলো আগে বুঝিনি কারণ এসবের সাথে কখনো যুক্ত হইনি।
তারপর কিছু মানুষের রূপ দেখলাম টাকা র জন্য লোভ দেখলাম। আমি কিছু পরিচিত মানুষের নামে করা মামলা থেকে তাদের মুক্ত করতে চাচ্ছিলাম কিন্তু কিছু ধান্দাবাজ যারা এসেছিলো ধান্দামি করতে ওরা বলে ৫ লাখ দিতে বলেন, ১০ লাখ দিতে বলেন। অর্থাৎ বাটপারি শুরু হল, আর জুলাই ধ্বংসের শুরু হল।
সম্পাদক : শাদমান আল আরবী | নির্বাহী সম্পাদক : তানভীর আল আরবী
ঠিকানা : ঝাউতলা, ১ম কান্দিরপাড়, কুমিল্লা-৩৫০০। ফোন : ০১৩১৬১৮৬৯৪০, ই-মেইল : [email protected], বিজ্ঞাপন: [email protected], নিউজরুম: [email protected] © ২০২৩ রাইজিং কুমিল্লা সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত। | Design & Developed by BDIGITIC