শনিবার ২৮ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬

“আধুনিক কুমিল্লা বিনির্মাণে মহাপরিকল্পনা জানালেন মনিরুল হক চৌধুরী”

রাইজিং কুমিল্লা প্রতিবেদক

আধুনিক কুমিল্লা বিনির্মাণে মহাপরিকল্পনা জানালেন মনিরুল হক চৌধুরী/ছবি: সংগৃহীত

কুমিল্লা-৬ আসনে বিএনপির মনোনীত প্রার্থী মনিরুল হক চৌধুরী বলেছেন, ঐতিহাসিক স্বদেশ প্রত্যাবর্তনের পর দলের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান যেমন দেশ নিয়ে একটি সুস্পষ্ট পরিকল্পনার কথা বলেছেন, ঠিক তেমনি কুমিল্লা নিয়েও আমার নিজস্ব একটি পরিকল্পনা রয়েছে। আধুনিক কুমিল্লা বিনির্মাণ ও কুমিল্লাকে নতুনভাবে সাজানোর লক্ষ্যেই আমি এই পরিকল্পনা গ্রহণ করেছি।

শনিবার (২৭ ডিসেম্বর) কুমিল্লা বাঁচাও মঞ্চের উদ্যোগে আয়োজিত ‘আমার স্বপ্ন আমার কুমিল্লা’ শীর্ষক মুক্ত সংলাপে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

মনিরুল হক চৌধুরী বলেন, “একটি শহর, নগরকে সাজাতে শুধু এককেন্দ্রিক চিন্তা কিংবা উন্নয়ন করলে হবে না, সামগ্রিক উন্নয়নের চিন্তা, বিকাশ ও বাস্তবায়নের মাধ্যমেই একটি অঞ্চলকে সাজাতে হবে।”

কুমিল্লা নগরী, আদর্শ সদর, সদর দক্ষিণ ও সেনানিবাস এলাকার সার্বিক উন্নয়ন এবং জনগণের জীবনমান উন্নয়নের লক্ষ্যে বক্তব্য রাখতে গিয়ে তিনি বলেন, “আই হ্যাভ এ প্ল্যান ফর কুমিল্লা টু, আই হ্যাভ এ প্ল্যান ফর কুমিল্লা’স পিপলস।”

তিনি বলেন, কুমিল্লা একটি প্রাচীন ও ঐতিহ্যবাহী শহর। ব্রিটিশ আমল থেকেই কুমিল্লা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ জনপদ হিসেবে পরিচিত। কুমিল্লা বিভাগ গঠন এ অঞ্চলের প্রাণের দাবি হলেও দীর্ঘদিন ধরে এই দাবি উপেক্ষিত হয়ে আসছে। বিএনপি সরকার গঠন করলে এবং আমি সংসদে যাওয়ার সুযোগ পেলে কুমিল্লা বিভাগ অগ্রাধিকার ভিত্তিতে আদায় করবো, ইনশাআল্লাহ।

ঢাকা-চট্টগ্রাম সরাসরি রেললাইন চালুর প্রসঙ্গে তিনি বলেন, এডিবি ইতোমধ্যে প্রকল্পটির অনুমোদন দিয়েছে। খুব শিগগিরই এর কাজ শুরু হবে, ইনশাআল্লাহ।

কুমিল্লা বিমানবন্দর প্রসঙ্গে মনিরুল হক চৌধুরী বলেন, ব্রিটিশ আমল থেকেই কুমিল্লায় একটি বিমানবন্দর ছিল। কিন্তু অজ্ঞাত কারণে দীর্ঘদিন ধরে এটি অচল অবস্থায় পড়ে আছে। দ্রুত এই বিমানবন্দর চালুর লক্ষ্যে আমি কুমিল্লা বাঁচাও মঞ্চের উদ্যোগে দীর্ঘদিন ধরে কাজ করে যাচ্ছি। বিমানবন্দর চালু হলে এ অঞ্চলের বিদেশগামী মানুষের ভোগান্তি কমবে এবং ইপিজেডে বিদেশি ক্রেতাদের যাতায়াত সহজ হবে।

শহর বিকেন্দ্রীকরণের বিষয়ে তিনি বলেন, এই শহরে জায়গার সংকট থাকা সত্ত্বেও সব সরকারি দপ্তর এখানেই স্থাপন করা হচ্ছে। আমি অনেক আগেই আদর্শ সদরকে গোমতীর উত্তরে নিয়ে যাওয়ার কথা বলেছিলাম। পরে তারা তা করেছে, তবে অনেক দেরিতে।

কুমিল্লা সিটি করপোরেশনকে মেট্রোপলিটন সিটিতে রূপান্তরের প্রত্যয় ব্যক্ত করে তিনি বলেন, কুমিল্লা বিভাগ বাস্তবায়িত হলে কুমিল্লা হবে একটি পূর্ণাঙ্গ মেট্রোপলিটন সিটি। ১৭৮ বছরের পুরোনো কুমিল্লা পৌরসভা ও সদর দক্ষিণ পৌরসভা মিলিতভাবে যে অবস্থান রয়েছে, তা বর্ধিত করে আধুনিক নগরীতে রূপ দিতে চাই।

পর্যটন উন্নয়নের পরিকল্পনার কথা তুলে ধরে মনিরুল হক চৌধুরী বলেন, লালমাই পাহাড়কে কেন্দ্র করে একটি ইকো টুরিজম হাব গড়ে তোলার পরিকল্পনা রয়েছে। এতে ওই অঞ্চল একটি পূর্ণাঙ্গ পর্যটন অঞ্চলে রূপান্তরিত হবে। পাশাপাশি ড. আখতার হামিদ খানের স্মৃতিবিজড়িত কোটবাড়ি এলাকাকে ‘এএইচকে স্যাটেলাইট সিটি’ হিসেবে গড়ে তোলার পরিকল্পনা রয়েছে।

এ সময় উপস্থিত ছিলেন কুমিল্লা দক্ষিণ জেলা বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক নজরুল ইসলাম ভুঁইয়া স্বপন, সাবেক যুগ্ম আহ্বায়ক মোজাহিদ চৌধুরী, সাবেক অতিরিক্ত পিপি অ্যাডভোকেট গোলাম ফারুক, অধুনা থিয়েটারের প্রতিষ্ঠাতা অ্যাডভোকেট শহিদুল হক স্বপন, সদর দক্ষিণ উপজেলা বিএনপির সভাপতি অ্যাডভোকেট আক্তার হোসেন, সাধারণ সম্পাদক ফারুক চৌধুরী, সাবেক কাউন্সিলর বিল্লাল হোসেন, নাজনীন কাজল, কাজী মাহবুবুর রহমান, মো. শাহ আলমসহ শিক্ষক, সুশীল সমাজ, সাংবাদিক ও আইনজীবী প্রতিনিধিরা।

আরও পড়ুন