
অস্ট্রেলিয়ার পার্থে জমকালো আয়োজনের মধ্য দিয়ে শুরু হয়েছে এশিয়ান কাপ নারী ফুটবল। পার্থের বিখ্যাত রেস্টাঙ্গুলা–এ অনুষ্ঠিত হয় টুর্নামেন্টের উদ্বোধনী অনুষ্ঠান। প্রায় ৬০ হাজার দর্শক ধারণক্ষমতার এই মাঠটি মূলত ক্রিকেট ম্যাচের জন্য পরিচিত হলেও এদিন তা রূপ নেয় এক উৎসবের মঞ্চে।
উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে রেকর্ডসংখ্যক ৪৪ হাজার ৩৭৯ জন দর্শক উপস্থিত ছিলেন, যা নারী ফুটবলের জন্য বড় এক মাইলফলক।
স্বাগতিক অস্ট্রেলিয়া বিশ্বকাপ ফুটবলের আদলে সাজিয়েছে উদ্বোধনী অনুষ্ঠান। অস্ট্রেলিয়া ও ফিলিপাইনের উদ্বোধনী ম্যাচ শুরুর আগে ২৬০ জন শিল্পী ও কলাকুশলী পারফরম্যান্স পরিবেশন করেন। ফুটবল সংস্কৃতির মাধ্যমে একটি নতুন পৃথিবীর বার্তা তুলে ধরা হয় মনোমুগ্ধকর আয়োজনে।
উদীয়মান আরএন্ডবি শিল্পী জিপোরাহ সংগীত পরিবেশন করেন। থিম সং লিখেছেন পুরস্কারপ্রাপ্ত গীতিকার ন্যাট ডান। এছাড়া বিখ্যাত শিল্পী অড্রে ন্যূনা–র পরিবেশনা দর্শকদের মন্ত্রমুগ্ধ করে রাখে। আতশবাজির ঝলকানিতে পুরো স্টেডিয়াম হয়ে ওঠে রঙিন ও উৎসবমুখর।
জমকালো উদ্বোধনের পর মাঠে নামে অস্ট্রেলিয়া ও ফিলিপাইন। ম্যাচে ১-০ গোলে জয় তুলে নেয় ২০১০ আসরের চ্যাম্পিয়ন অস্ট্রেলিয়া।
তিন শহরে ১২ দেশের লড়াই
১২ দেশ নিয়ে শুরু হয়েছে এবারের আসর। তিনটি গ্রুপে ভাগ হয়ে দলগুলো লড়ছে শিরোপার জন্য। খেলা হচ্ছে অস্ট্রেলিয়ার তিন শহরে—পার্থ ছাড়াও Sydney এবং Gold Coast–এ। টুর্নামেন্ট চলবে আগামী ২১ মার্চ পর্যন্ত।
চীনের বিপক্ষে কঠিন পরীক্ষায় বাংলাদেশ
আগামীকাল মাঠে নামছে বাংলাদেশ। ‘বি’ গ্রুপে বাংলাদেশের প্রতিপক্ষ বর্তমান চ্যাম্পিয়ন চীন। ম্যাচটি অনুষ্ঠিত হবে সিডনির কমব্যাংক স্টেডিয়াম–এ, যা জুবিলি স্টেডিয়াম নামেও পরিচিত।
চীন মানেই শক্তিশালী দল, মানেই নয়বারের চ্যাম্পিয়ন। সেই শক্ত প্রতিপক্ষের বিপক্ষে নিজেদের অবস্থান ধরে রেখে লড়াইয়ের প্রস্তুতি নিচ্ছে বাংলাদেশ দল।
কোচের পরিকল্পনায় কৌশলী প্রস্তুতি
গোলপোস্ট থেকে মাঝমাঠ—সব জায়গায় রয়েছে কোচ পিটার জেমস বাটলার–এর বিশেষ পরিকল্পনা। বাংলাদেশ দল নিজেদের খেলাতেই বেশি মনোযোগ দিচ্ছে, প্রতিপক্ষ নিয়ে অতিরিক্ত ভাবছে না।
কোচ জানেন দলের সামর্থ্য। তার প্রত্যাশা—মেয়েরা যদি নিজেদের সেরাটা উজাড় করে দিয়ে খেলতে পারে, তাহলেই তিনি সন্তুষ্ট।
অনুশীলনে গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে বল দখল (পজেশন) ধরে রাখা, বল হারালে দ্রুত পুনরুদ্ধার এবং দ্রুত রূপান্তরের কৌশলে। পাঁচজন করে পাসিং অনুশীলনের মাধ্যমে দলীয় সমন্বয় বাড়ানোর চেষ্টা করা হয়েছে।
এছাড়া আটজন করে দুই ভাগে ভাগ হয়ে গেম পরিস্থিতির অনুকরণে অনুশীলন করানো হয়েছে।
সবচেয়ে বেশি দুশ্চিন্তা গোলপোস্ট নিয়ে। সাফ চ্যাম্পিয়নশিপে নজরকাড়া গোলরক্ষক রূপনা চাকমা–র ওপরই বেশি ফোকাস করা হয়েছে। গোলরক্ষক কোচরা তাকে নিয়ে আলাদা অনুশীলন করিয়েছেন, যাতে গোলপোস্ট আগলে রাখতে পারেন দৃঢ়ভাবে।
আজ সকালে জুবিলি স্টেডিয়ামে শেষ প্রস্তুতি অনুশীলন করবে বাংলাদেশ দল। এখন দেখার পালা—এশিয়ার শক্তিধর চীনের বিপক্ষে কেমন পারফরম্যান্স উপহার দেয় লাল-সবুজের প্রতিনিধিরা।









