সোমবার ২৬ জানুয়ারি, ২০২৬

অনুমতি ছাড়া অন্যের মোবাইল ফোন গোপনে দেখা শরিয়তে নিষিদ্ধ

রাইজিং কুমিল্লা ডেস্ক

শায়খ ড. সাদ বিন তুর্কি আল-খাতলান/ছবি: সংগৃহীত

অনুমতি ছাড়া অন্যের মোবাইল ফোনের স্ক্রিনে চোখ রাখা ইসলামি শরিয়তের দৃষ্টিতে নিষিদ্ধ। এটি ব্যক্তিগত গোপনীয়তায় হস্তক্ষেপ এবং গুপ্তচরবৃত্তির শামিল বলে উল্লেখ করেছেন মক্কা-মদিনার শিক্ষক ও খ্যাতিমান ইসলামি চিন্তাবিদ শায়খ অধ্যাপক ড. সাদ বিন তুর্কি আল-খাতলান।

সৌদি আরবের ইমাম মুহাম্মদ বিন সৌদ ইসলামিক বিশ্ববিদ্যালয়ের শরিয়া বিভাগের অধ্যাপক এবং দুই পবিত্র মসজিদের শিক্ষক শায়খ ড. সাদ বিন তুর্কি আল-খাতলান সাম্প্রতিক এক ভিডিও বক্তব্যে বিষয়টি স্পষ্ট করেন। তিনি বলেন, অন্যের অনুমতি ছাড়া তার মোবাইল ফোনের স্ক্রিনে তাকানো ধর্মীয়ভাবে অনুমোদিত নয়।

ড. আল-খাতলান ব্যাখ্যা করে বলেন, মোবাইল ফোন সম্পূর্ণ ব্যক্তিগত ব্যবহারের বস্তু। ফোনের মালিকের সম্মতি ছাড়া এর স্ক্রিন কিংবা ভেতরের তথ্য অন্য কারও দেখার কোনো অধিকার নেই। তিনি কোরআনে কারিমের সূরা হুজুরাতের ১২ নম্বর আয়াতের আলোকে বিষয়টি তুলে ধরেন, যেখানে গুপ্তচরবৃত্তি ও অন্যের গোপনীয়তায় অনধিকার প্রবেশ স্পষ্টভাবে নিষিদ্ধ করা হয়েছে।

তার মতে, কারও মোবাইল ফোনে থাকা ব্যক্তিগত বার্তা, ছবি বা তথ্য—চাই তা অনিচ্ছাকৃত হোক বা ইচ্ছাকৃত—দেখা মূলত গোপনীয়তা লঙ্ঘনের অন্তর্ভুক্ত। ফলে ফোনের মালিক সন্তুষ্ট না থাকলে বা স্পষ্ট সম্মতি না দিলে এ ধরনের আচরণ হারাম হিসেবে গণ্য হবে।

তবে তিনি এটিও পরিষ্কার করেন, পরিস্থিতি ভিন্ন হতে পারে যদি ফোনের মালিক নিজেই কাউকে দেখানোর উদ্দেশ্যে স্ক্রিন খুলে ধরেন কিংবা কোনো ছবি বা ভিডিও শেয়ার করেন। সে ক্ষেত্রে আশপাশে থাকা কেউ তা দেখলে ধর্মীয়ভাবে কোনো বাধা নেই।

এই ফতোয়া এমন এক সময়ে সামনে এলো, যখন গণপরিবহন, ওয়েটিংরুম কিংবা জনসমাগমপূর্ণ স্থানে প্রায়ই দেখা যায়—অনেকে পাশের মানুষের মোবাইল স্ক্রিনে চোখ রাখছেন। ইসলামি শরিয়তের দৃষ্টিতে এ ধরনের আচরণ অনুচিত ও পরিহারযোগ্য বলে মন্তব্য করেন শায়খ ড. সাদ বিন তুর্কি আল-খাতলান।

আরও পড়ুন