
অনলাইন কেনাকাটায় ভোক্তার স্বার্থ রক্ষা ও সেবার মানোন্নয়নে ডিজিটাল মার্কেটপ্লেস দারাজ ও ফুডপান্ডা-কে একগুচ্ছ নির্দেশনা দিয়েছে জাতীয় ভোক্তা-অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তর।
নতুন নির্দেশনা অনুযায়ী, ক্যাশ অন ডেলিভারির ক্ষেত্রে গ্রাহককে পণ্য যাচাই করে মূল্য পরিশোধের সুযোগ দিতে হবে। পাশাপাশি অনলাইনে প্রদর্শিত পণ্যের গুণগত মান নিশ্চিত করার দায়ভারও সংশ্লিষ্ট মার্কেটপ্লেসকে নিতে হবে।
মঙ্গলবার রাজধানীর কারওয়ানবাজারে অধিদপ্তরের প্রধান কার্যালয়ে আয়োজিত এক বিশেষ আলোচনা সভায় এসব সিদ্ধান্ত জানানো হয়। ভোক্তার স্বার্থ সংরক্ষণ এবং ই-কমার্স প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে জমা হওয়া অভিযোগ দ্রুত নিষ্পত্তির লক্ষ্যেই এ সভার আয়োজন করা হয়।
অধিদপ্তরের মহাপরিচালক ফারুক আহম্মেদের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত সভায় পরিচালক (অভিযোগ ও তদন্ত) মোহাম্মদ আজিজুল ইসলাম বলেন, দারাজ ও ফুডপান্ডার বিরুদ্ধে সাম্প্রতিক সময়ে বিপুল সংখ্যক অভিযোগ পাওয়া যাচ্ছে। ভোক্তা-অধিকার সংরক্ষণ আইন ও প্রচলিত ই-কমার্স নির্দেশিকার বেশ কিছু বাধ্যবাধকতা যথাযথভাবে অনুসরণ না করায় সাধারণ মানুষ ক্ষুব্ধ হয়ে অভিযোগ দাখিল করছেন।
সভায় পরিচালক (যুগ্ম সচিব) সেবাস্টিন রেমাসহ উভয় প্রতিষ্ঠানের প্রতিনিধিরা উপস্থিত ছিলেন। দীর্ঘ পর্যালোচনা শেষে গ্রাহকসেবা নিশ্চিত করতে ৬টি সুনির্দিষ্ট সিদ্ধান্ত গৃহীত হয়।
গৃহীত সিদ্ধান্তসমূহ
১. দ্বিভাষিক নীতি: দারাজ ও ফুডপান্ডার অনলাইন বিজনেস পলিসি ও শর্তাবলী বাংলা ও ইংরেজি—উভয় ভাষায় প্রকাশ করতে হবে।
২. যোগাযোগের বহুমুখিতা: অভিযোগ জানানোর জন্য শুধু চ্যাটবক্স নয়, টেলিফোন, মোবাইল ও ইমেইল নম্বর দৃশ্যমান রাখতে হবে।
৩. যাচাইয়ের সুযোগ: ক্যাশ অন ডেলিভারিতে গ্রাহক পণ্য পরীক্ষা করে টাকা পরিশোধের সুযোগ পাবেন।
৪. মানের দায়ভার: প্রদর্শিত পণ্যের গুণগত মান নিশ্চিত করার দায়িত্ব মার্কেটপ্লেসের; বিক্রেতা ও পণ্যের মান যাচাই করে তবেই প্রদর্শন করতে হবে।
৫. দ্রুত রিফান্ড: নির্ধারিত সময়ে পণ্য সরবরাহ করা না গেলে সরকারি নির্দেশিকা অনুযায়ী দ্রুততম সময়ে অর্থ ফেরত দিতে হবে।
৬. ধারাবাহিক মনিটরিং: অন্যান্য অনলাইন মার্কেটপ্লেস ও ই-কমার্স প্রতিষ্ঠানের সঙ্গেও নিয়মিত তদারকি সভা করবে অধিদপ্তর।
ভোক্তা অধিদপ্তর স্পষ্ট করেছে, আইন অমান্য করে পণ্য সরবরাহ বা প্রতারণার অভিযোগ প্রমাণিত হলে সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে কঠোর আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।









