শুক্রবার ১০ এপ্রিল, ২০২৬

৫০ জনেরও কম মানুষের শরীরে—কী এই ‘গোল্ডেন ব্লাড’?

রাইজিং কুমিল্লা ডেস্ক

প্রতীকি ছবি/সংগৃহীত

রক্তের চারটি গ্রুপ—এ, বি, ও এবং এবি—সম্পর্কে আমরা সবাই কমবেশি জানি। এর সঙ্গে যুক্ত হয় আরএইচ (Rh) ফ্যাক্টর, যার ভিত্তিতে প্রতিটি গ্রুপ আবার পজিটিভ (+) বা নেগেটিভ (-) হিসেবে ভাগ করা হয়। যেমন—এ(+), বি(-) ইত্যাদি।

তবে এই পরিচিত শ্রেণিবিভাগের বাইরেও রয়েছে এক অত্যন্ত বিরল রক্তের ধরন—যাকে বলা হয় “সোনালি রক্ত” (Golden Blood)। যদিও নামের সঙ্গে মিল নেই, এই রক্তের রংও সাধারণ রক্তের মতোই লাল।

কতটা বিরল এই রক্ত?

এই রক্তের গ্রুপ অত্যন্ত দুর্লভ। ধারণা করা হয়, প্রতি ৬০ লাখ মানুষের মধ্যে মাত্র একজনের শরীরে এই রক্ত পাওয়া যেতে পারে। বর্তমানে বিশ্বে প্রায় ৪৩ জন মানুষের শরীরে এই রক্ত রয়েছে বলে জানা গেছে। কিছু মতে এই সংখ্যা ৪৯ পর্যন্ত হতে পারে। অর্থাৎ, পৃথিবীতে ৫০ জনেরও কম মানুষের শরীরে এই রক্ত রয়েছে।

কী এই “সোনালি রক্ত”?

সাধারণত রক্ত পজিটিভ বা নেগেটিভ হবে কি না, তা নির্ভর করে আরএইচ প্রোটিনের উপস্থিতির ওপর। এই প্রোটিন থাকলে রক্ত পজিটিভ, না থাকলে নেগেটিভ।

কিন্তু ১৯৬০ সালে এক অন্তঃসত্ত্বা নারীর শরীরে এমন এক ধরনের রক্ত শনাক্ত হয়, যেখানে আরএইচ সিস্টেমের কোনো প্রোটিনই নেই। ফলে এটিকে প্রচলিত পজিটিভ বা নেগেটিভ কোনো শ্রেণিতে ফেলা যায়নি। এই বিশেষ রক্তের নাম দেওয়া হয় “সোনালি রক্ত” বা Rh-null blood।

কারা পায় এই রক্ত?

গবেষণায় দেখা গেছে, এই রক্তের ধরন মূলত জিনগত কারণে হয়ে থাকে। অর্থাৎ এটি প্রজন্ম থেকে প্রজন্মে যেতে পারে। তবে সব ক্ষেত্রে তা হয় না—কখনো কয়েক প্রজন্ম পরেও হঠাৎ কারও শরীরে এই রক্ত দেখা দিতে পারে।

কার কাছ থেকে রক্ত নিতে পারেন তারা?

যাদের শরীরে “সোনালি রক্ত” রয়েছে, তারা সাধারণত শুধুমাত্র একই ধরনের রক্তধারীর কাছ থেকেই রক্ত নিতে পারেন। অন্য কোনো রক্ত তাদের শরীরে গেলে মারাত্মক প্রতিক্রিয়া বা বিষক্রিয়া ঘটতে পারে।

কেন একে সবচেয়ে “দামি” রক্ত বলা হয়?

এই রক্তকে পৃথিবীর সবচেয়ে মূল্যবান বা “দামি” রক্ত বলা হয়। কারণ, যাদের শরীরে Rh-null blood রয়েছে, তারা তাত্ত্বিকভাবে যেকোনো Rh টাইপের মানুষকে রক্ত দিতে পারেন।

বিশেষ করে বিরল কিছু রোগের চিকিৎসায় এই রক্ত অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে। এর দুর্লভতা এবং চিকিৎসাগত গুরুত্বই একে “সোনালি রক্ত” হিসেবে আলাদা মর্যাদা দিয়েছে।

আরও পড়ুন