শুক্রবার ১৪ আগস্ট, ২০২৬

১৫ আগস্ট নিয়ে কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের দেওয়ালে ছাত্রলীগের পোস্টারিং, বিভিন্ন ছাত্রসংগঠনের প্রতিবাদ

কুবি প্রতিনিধি

Rising Cumilla - main gate of Comilla University (CoU)
কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের (কুবি) প্রধান ফটক/ছবি: সংগৃহীত

কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের (কুবি) প্রধান ফটকে পোস্টারিং করেছে নিষিদ্ধ সংগঠন বাংলাদেশ ছাত্রলীগ। বৃহস্পতিবার (১৩ আগস্ট) ভোরে সংগঠনটির আংশিক কমিটির সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদকের নেতৃত্বে এ পোস্টারিং করা হয়। এ ঘটনায় বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন ছাত্রসংগঠন নিন্দা ও প্রতিবাদ জানিয়েছে।

এর আগে গত ২৯ জুলাই, কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রলীগের দুই সদস্যের কমিটি ঘোষণা করা হয়। সেখানে নৃবিজ্ঞান বিভাগের ২০১৬-১৭ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থী মো. আমিনুর রহমান বিশ্বাস সভাপতি এবং একই শিক্ষাবর্ষের ফিন্যান্স অ্যান্ড ব্যাংকিং বিভাগের শিক্ষার্থী পার্থ সরকার সাধারণ সম্পাদক মনোনীত করা হয়।

এদিকে বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রদল ও ছাত্রশিবিরসহ বেশকিছু সংগঠন নিষিদ্ধ ছাত্রলীগের কার্যক্রমকে প্রতিহতের কথা জানায়। গতকাল বৃহস্পতিবার (১৩ আগস্ট) শাখা ছাত্রদলের আহ্বায়ক মোস্তাফিজুর রহমান শুভ ও সদস্য সচিব মো. আবুল বাশার প্রেস বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে ছাত্রলীগের পোস্টারিংসহ কথিত কর্মকাণ্ডের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ জানান।

শাখা ছাত্রদলের সদস্য সচিব মো. আবুল বাশার বলেন, ‘যদি-কিন্তু ছাড়াই স্পষ্ট করে বলতে চাই, নিষিদ্ধ ও পতিত আওয়ামী লীগের কোনো কার্যক্রম কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয় বা এর আশপাশে করতে দেওয়া হবে না। গত ১৭ বছরে সংঘটিত সব অনিয়ম, দমন-পীড়ন ও অপরাধের সুষ্ঠু তদন্তের মাধ্যমে দায়ীদের বিচার নিশ্চিত করতে হবে।’

তিনি আরও বলেন, ‘ক্যাম্পাসের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট কোনো ব্যক্তি যদি পতিত আওয়ামী লীগের কর্মকাণ্ডের সঙ্গে জড়িত থাকার সুনির্দিষ্ট প্রমাণ পাওয়া যায়, তাহলে আইন ও বিশ্ববিদ্যালয়ের বিধিবিধান অনুযায়ী তাদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নিতে হবে। কোনো অপশক্তিকে ক্যাম্পাসের শান্তিপূর্ণ পরিবেশ নষ্ট করার সুযোগ দেওয়া হবে না।’

জাতীয় ছাত্রশক্তির সংগঠক নাঈম ভূঁইয়া বলেন, ‘আজকে নিষিদ্ধ ঘোষিত একটি সংগঠন ক্যাম্পাসের দেওয়ালে পোস্টার টানিয়েছে। নিষিদ্ধ সংগঠনের বিষয়ে কোনো ছাড় নয়। ক্যাম্পাসের আশপাশে যেকোনো সময় তাদের প্রতিহত করতে আমরা প্রস্তুত। বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনকে বলব, যত দ্রুত সম্ভব সিসিটিভি ফুটেজ চেক করে তাদের চিহ্নিত করে আইনের আওতায় আনার ব্যবস্থা করুন।’

ছাত্রশিবিরের সভাপতি মোজাম্মেল হোসেন আবির বলেন, ‘জুলাই অভ্যুত্থানের রক্তাক্ত ইতিহাস ও শিক্ষার্থীদের ওপর তাদের সন্ত্রাসী কার্যক্রম আমরা ভুলিনি। বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনকে অবিলম্বে চিহ্নিত ছাত্রলীগের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে হবে। একই সঙ্গে যেসব শিক্ষকের ইন্ধনে তারা মাথাচাড়া দিতে চায়, তাদের বিরুদ্ধেও পদক্ষেপ নিতে হবে।’
তিনি আরও বলেন, ‘ক্যাম্পাসে ছাত্রলীগকে পাওয়া মাত্রই তাদের সন্ত্রাসী কার্যক্রমের হিসাব কড়ায়-গণ্ডায় নেওয়া হবে। শিক্ষার্থীদের প্রতি ফোঁটা রক্তের হিসাব নেওয়া হবে।’

বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর অধ্যাপক ড. আবদুল হাকিম বলেন, ‘আমরা দেখেছি ক্যাম্পাসের বাইরে আওয়ামী লীগের কিছু পোস্টার লাগানো হয়েছে। আমরা দেখিনি কে বা কারা এটা লাগিয়েছে। এটা ক্যাম্পাসের বাইরে, তাই আমাদের অধীনে নেই। তবে কেউ যদি লিখিত দেয়, আমরা ব্যবস্থা গ্রহণ করব।’

তিনি আরও বলেন, ‘আমরা নির্দেশ দিয়েছি, শুধু আওয়ামী লীগ নয়, ক্যাম্পাসের ভেতরে যেকোনো ধরনের রাজনৈতিক ব্যানার টানানো নিষেধ।’

আরও পড়ুন