
আজ সোমবার থেকে সিলেট নগরীতে অবৈধভাবে চলাচলকারী ব্যাটারিচালিত অটোরিকশার বিরুদ্ধে অভিযান শুরু করতে যাচ্ছে সিলেট মেট্রোপলিটন পুলিশ (এসএমপি)। নগরীর সড়কগুলোতে শৃঙ্খলা ফিরিয়ে আনতে এবং যানজট নিরসনে এই পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে।
পাঁচটি পয়েন্টে একযোগে অভিযান
এসএমপির পক্ষ থেকে জানানো হয়, সকাল ৮টা থেকে একযোগে নগরীর পাঁচটি গুরুত্বপূর্ণ পয়েন্টে এই অভিযান শুরু হবে। স্থানগুলো হলো মেন্দিবাগ, নাইওরপুল, জিতু মিয়ার পয়েন্ট, রিকাবীবাজার এবং পাঠানটুলা। সিনিয়র পুলিশ অফিসারদের তত্ত্বাবধানে ব্যাটারিচালিত অটোরিকশা ও অন্যান্য অবৈধ যানবাহনের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে।
এই অভিযানে উপস্থিত থাকবেন এসএমপি কমিশনার আবদুল কুদ্দুছ চৌধুরী। তিনি সকাল ৯টায় রিকাবীবাজার পয়েন্টে সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলবেন।
সড়ক শৃঙ্খলা ফেরাতে নির্দেশনার আট দফা:
এর আগে, এসএমপি নগরীর সড়কগুলোতে শৃঙ্খলা ফিরিয়ে আনতে আট দফা নির্দেশনা জারি করেছিল। এই নির্দেশনার প্রধান উদ্দেশ্য হলো নগরবাসীর ভোগান্তি কমানো এবং সড়ক দুর্ঘটনা প্রতিরোধ করা। নির্দেশনাবলী হলো:
১। যানজটমুক্ত নগরী গড়ে তুলতে সিলেট মহানগরীতে কোনো ব্যাটারি চালিত রিকশা রেজিস্ট্রেশনবিহীন বা ভুয়া নম্বর প্লেটযুক্ত যানবাহন চলাচল করতে পারবে না।
২। অনুমোদিত স্ট্যান্ডে নির্ধারিত সংখ্যার বেশি সিএনজি চালিত অটোরিকশা রাখা যাবে না।
৩। অনুমোদনবিহীন ও অননুমোদিত স্থানে কোনো ধরনের পার্কিং করা যাবে না।
৪। মোটরসাইকেল চালক ও আরোহী উভয়কেই বাধ্যতামূলকভাবে হেলমেট পরিধান করতে হবে।
৫। সকাল ৮টা থেকে রাত ১০টা পর্যন্ত নগরীতে ট্রাক, কাভার্ড ভ্যান ও লরি প্রবেশ করতে পারবে না।
৬। বাস, মিনিবাস, কোচ, কার, মাইক্রোবাস ও হাইয়েসের চালকরা ড্রাইভিং লাইসেন্স, গাড়ির কাগজপত্র ও সিটবেল্ট ছাড়া গাড়ি চালাতে পারবেন না।
৭। কোনো পরিবহনে অতিরিক্ত যাত্রী বা অতিরিক্ত ভাড়া নেওয়া যাবে না। এছাড়া হেডলাইট, ব্রেক লাইট ও সিগন্যাল লাইট সঠিকভাবে সচল না থাকলে গাড়ি রাস্তায় নামানো যাবে না।
৮। সিলেট শহরের ভেতরে যত্রতত্র যাত্রী ওঠানামা করানো বা রাস্তার মাঝে গাড়ি পার্কিং করা যাবে না।
এসএমপির অতিরিক্ত উপ-কমিশনার (গণমাধ্যম) মোহাম্মদ সাইফুল ইসলাম জানান, এই নির্দেশনা কার্যকর করতে নগরজুড়ে মাইকিং করা হয়েছে। যারা নির্দেশ অমান্য করবে, তাদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
এসএমপি কমিশনার বলেন, অনুমোদনবিহীন, কাগজপত্র ছাড়া বা নিয়ম অমান্যকারী কোনো যানবাহনকেই নগরীতে চলাচল করতে দেওয়া হবে না। এই পদক্ষেপগুলো নগরবাসীর জন্য একটি নিরাপদ এবং যানজটমুক্ত পরিবেশ নিশ্চিত করবে।








