
শীতের কারণে অনেকেই জামা বা শার্টের হাতা না গুটিয়েই অজু করেন। এতে কনুই পর্যন্ত পানি না পৌঁছানোর আশঙ্কা থাকে, যা অজু ভঙ্গের কারণ হতে পারে। কনুই ও টাখনুর ওপরের অংশ ভালোভাবে ধোয়া মুস্তাহাব।
সহিহ মুসলিমে বর্ণিত হাদিসে নুআঈম বিন মুজবির (রহ.) বলেন,
তিনি আবু হুরায়রা (রা.)-কে অজু করতে দেখেন—তিনি মুখমণ্ডল ভালোভাবে ধৌত করেন, বাহুর কিছু অংশসহ উভয় হাত ধোন, মাথা মাসেহ করেন এবং নলার কিছু অংশসহ উভয় পা ধৌত করেন। এরপর আবু হুরায়রা (রা.) বলেন,
“আমি রাসুলুল্লাহ (সা.)-কে এভাবেই অজু করতে দেখেছি।”
(সহিহ মুসলিম, হাদিস: ২৪৬)
পায়ের গোড়ালি ধোয়ার ব্যাপারে বিশেষ সতর্কতা
শীতের সময় অজুর ক্ষেত্রে সবচেয়ে বেশি অবহেলা দেখা যায় পা ধোয়ার সময়। অনেক সময় গোড়ালিতে পানি পৌঁছায় না। অথচ হাদিসে এ বিষয়ে কঠোর সতর্কতা এসেছে।
হজরত আবদুল্লাহ ইবনে আমর (রা.) বলেন,
“এক সফরে আমরা দেখি কিছু লোক তাড়াহুড়ো করে অজু করছে। তাদের পায়ের গোড়ালি শুকনো ছিল। তখন নবী করীম (সা.) বললেন—
‘পায়ের গোড়ালির জন্য জাহান্নামের শাস্তি! তোমরা খুব ভালোভাবে অজু কর।’”
(সহিহ মুসলিম, হাদিস: ২৪১)
প্রাকৃতিক প্রয়োজন চেপে রেখে অজু ও নামাজ নয়
শীতের দিনে ঠান্ডার কারণে অনেকে অজু ধরে রাখার জন্য প্রাকৃতিক প্রয়োজন চেপে রাখেন। এটি একদিকে স্বাস্থ্যের জন্য ক্ষতিকর, অন্যদিকে শরিয়তসম্মত নয়। এ অবস্থায় নামাজ আদায় করা মাকরূহ এবং নামাজের মান কমিয়ে দেয়।
হজরত আয়শা (রা.) বলেন,
“নবী করীম (সা.) বলেছেন—খাবার উপস্থিত থাকলে নামাজ নেই এবং মল-মূত্রের বেগ চেপে রাখা অবস্থায় নামাজ নেই।”
(সহিহ মুসলিম, হাদিস: ৫৬০)
হজরত আবু হুরায়রা (রা.) থেকে বর্ণিত,
“আল্লাহ ও আখিরাতে বিশ্বাসী কোনো মুমিনের জন্য বৈধ নয়, মল-মূত্রের বেগ থাকা অবস্থায় তা দূর না করে নামাজ আদায় করা।”
(সুনানে আবু দাউদ, হাদিস: ৯১)









