মঙ্গলবার ৩ মার্চ, ২০২৬

শীতের শুরুতে ডায়েটে আনুন পরিবর্তন—যা বলছেন পুষ্টিবিদরা

লাইফস্টাইল ডেস্ক

Rising Cumilla -Make changes to your diet at the beginning of winter—what nutritionists say
শীতের শুরুতে ডায়েটে আনুন পরিবর্তন—যা বলছেন পুষ্টিবিদরা/প্রতীকি ছবি: এআই/রাইজিং কুমিল্লা

শীতের আগমনী বার্তা ইতিমধ্যেই জানান দিতে শুরু করেছে গ্রামের দিকে। যদিও শহরের দিকে এখনো সেভাবে শীতের তীব্রতা অনুভূত হচ্ছে না, তবুও এই সময়টাকেই অনেকে ‘শরীর খারাপের মৌসুম’ হিসেবে চিহ্নিত করেন। শীতের শুরু মানেই চারদিক ধোঁয়াশায় ঢাকা পড়া। সকালে হাঁটতে বের হলেই চোখ জ্বালা, গলা শুকিয়ে যাওয়া, কাশির মতো সমস্যাগুলি নিত্যসঙ্গী।

বিশেষজ্ঞদের মতে, বাতাসের এই বিষাক্ত উপাদান কেবল ফুসফুস নয়, আমাদের হার্ট, ত্বক, এমনকি রক্তে শর্করার ওপরেও গুরুতর প্রভাব ফেলে। যদিও আশপাশের পরিবেশ চট করে বদলানো সম্ভব নয়, তবে প্রতিদিনের ডায়েটের মাধ্যমে শরীরকে সঠিক ইমিউনিটি (রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা) দেওয়া সম্ভব। পুষ্টিবিদদের মতে, আপনি প্রতিদিন কী খাচ্ছেন, সেটাই দূষণ থেকে সুরক্ষার প্রথম ঢাল হতে পারে।

অ্যান্টি-অক্সিডেন্টই আপনার রক্ষাকবচ:

বায়ুদূষণ শরীরে ‘অক্সিডেটিভ স্ট্রেস’ তৈরি করে—এমন এক প্রক্রিয়া, যা কোষের ভেতরে অস্থিতিশীল রাসায়নিক তৈরি করে এবং ধীরে ধীরে শরীরের ক্ষতি করতে শুরু করে। অ্যান্টি-অক্সিডেন্ট সমৃদ্ধ খাবারই এই ক্ষতি ঠেকাতে সাহায্য করে।

যেসব খাবারে অ্যান্টি-অক্সিডেন্ট মেলে:

পালং, মেথি, সজনে, কারি পাতা, বাঁধাকপি, ব্রকোলির মতো সবজিতে প্রচুর ভিটামিন সি ও ই থাকে, যা লিভারের ডিটক্স প্রক্রিয়ায় সাহায্য করে। কমলালেবু, আমলকী, পেয়ারা ফুসফুসের আবরণকে রক্ষা করে এবং শরীরের প্রাকৃতিক অ্যান্টি-অক্সিডেন্ট পুনরুদ্ধারে সহায়তা করে। মাছ, আখরোট, তিসি (ফ্ল্যাক্সসিডস) ও চিয়া সিডসে থাকা ওমেগা-৩ দূষণের প্রভাবে হওয়া ইনফ্লেমেশন (প্রদাহ) কমায় এবং হার্টকে সুরক্ষিত রাখে। কাজু, সূর্যমুখী ও কুমড়ার বীজে থাকে ভিটামিন ই, জিঙ্ক ও সেলেনিয়াম, যা ত্বক ও ফুসফুসকে রক্ষা করে। দূষণের ক্ষতি কমাতে একটি সহজ মিশ্রণ কার্যকর হতে পারে: প্রতিদিন ১০০-২০০ মিলিগ্রাম ভিটামিন সি, ১০-১৫ মিলিগ্রাম ভিটামিন ই এবং ১ গ্রাম ওমেগা-৩।

স্মুদিতে এক চা-চামচ ফ্ল্যাক্সসিডস পাউডার যোগ করা, স্টার ফ্রায়েড সবজিতে সামান্য তিল ছড়িয়ে নেওয়া, অথবা বাঁধাকপি হালকা টস করে তাতে একটু হলুদ গুঁড়া ও লেবুর রস মিশিয়ে নেওয়ার মতো ছোট ছোট পরিবর্তনেই শরীরে বড় প্রভাব পড়তে পারে।

গলার সংক্রমণ থেকে সুরক্ষা: নাক-মুখের যত্ন:

গলা, নাক ও মুখই সর্বপ্রথম দূষণের কবলে পড়ে। এদের সঠিক খেয়াল রাখতে পারলে সংক্রমণের ঝুঁকি অনেক কমে যায়। এই দুটি প্রাকৃতিক উপাদান ইনফ্লেমেশন বা প্রদাহ কমাতে সাহায্য করে। এগুলো চা, স্যুপ বা ডালে ব্যবহার করা যেতে পারে। এক চামচ কাঁচা মধু গলার শুষ্কতা কমায় এবং ব্যাকটেরিয়া রোধে সাহায্য করে। সুস্থ অন্ত্র মানেই শক্তিশালী রোগপ্রতিরোধ ক্ষমতা। নিয়মিত দই বা প্রো-বায়োটিক পানীয় ডায়েটে রাখুন।

অতিরিক্ত কফি, ঝাল বা ঠাণ্ডা খাবার এড়িয়ে চলুন। এর পরিবর্তে গরম পানি বা আদা-মুলেঠি দিয়ে তৈরি ভেষজ পানীয় পান করতে পারেন।

সকালের জন্য বিশেষ টিপস:

উষ্ণ পানীয় দিয়ে দিন শুরু: গরম পানি ও মধু দিয়ে দিন শুরু করা উচিত। এটি গলাকে সতেজ রাখবে। এটি গলার খেয়াল রাখবে ও শরীরকে প্রয়োজনীয় শক্তি দেবে। শীতের দিনে উষ্ণ পানীয় শুধু আরামই দেয় না, রোগপ্রতিরোধ ক্ষমতাও বাড়ায়।

শীতের দিনের বিশেষ পানীয়:

পানীয়ের নামউপকারিতাখাওয়ার আদর্শ সময়
হলুদ মেশানো দুধইনফ্লেমেশন কমায়। (হলুদ, গোলমরিচ, দারচিনি ও দুধের মিশ্রণ)ঘুমের আগে
তুলসী-আদা চাপ্রাকৃতিকভাবে সর্দি-কাশি কমায়।দিনের যেকোনো সময়
কেশর-বদাম দুধত্বক সুস্থ রাখে ও শক্তি বাড়ায়। (ভিটামিন ই ও হেলদি ফ্যাটে ভরপুর)দিনের যেকোনো সময়/রাতে
জোয়ান বা জিরা পানিহজমে সাহায্য করে।সকালে খালি পেটে
আপেল-দারচিনি ইনফিউশনঅ্যান্টি-অক্সিডেন্টসমৃদ্ধ বিকল্প।ডেজার্ট হিসেবে

হলুদের কারকিউমিন শোষণ বাড়াতে গোলমরিচের পাইপেরিন দরকার। আদায় থাকা জিঞ্জারল প্রদাহ কমায়। বাদাম ও বীজে থাকা ভিটামিন ই ও জিংক ইমিউনিটি মজবুত করে।

 

সূত্র : দ্য ওয়াল

আরও পড়ুন