
স্মরণকালের শক্তিশালী ঘূর্ণিঝড় ‘ড্যানিয়েলের’ তাণ্ডবে লিবিয়ায় সুনামির মতো সাগরে ভেসে যাওয়া মানুষকে উদ্ধার করতে রীতিমত লড়াই করতে হচ্ছে উদ্ধারকারী দলগুলোকে। ভয়াবহ এই বন্যার পানিতে ডুবে বা ভেসে গিয়ে এখন পর্যন্ত প্রাণহানি হয়েছে ৫ হাজার ২০০ মানুষের।
আন্তর্জাতিক মানবিক সহয়তা সংস্থা রেড ক্রিসেন্ট জানিয়েছে, এখন পর্যন্ত ১০ হাজার মানুষ নিখোঁজ রয়েছে। তাদের অনুমান অনুযায়ী প্রায় ২০ হাজার মানুষ বাস্তুচ্যুত হয়েছে।
এদিকে স্থানীয় কর্তৃপক্ষের বয়ানে জানা গেছে, পুরো দারনা শহরই ভেসে গেছে। বন্যায় সবচেয়ে ক্ষতিগ্রস্ত শহরটির অ্যাম্বুলেন্স সোসাইটি জানিয়েছে, শুধুমাত্র এই শহরেই ২ হাজার ৩০০ মানুষের মৃত্যু হয়েছে।
এই বন্যাকে অনেকে ‘সুনামির মতো’ বলেও আখ্যায়িত করেছেন। সমুদ্রের পানিতে যারা ভেসে গেছেন, তাদের মরদেহ পানি থেকে উদ্ধারে হিমশিম খাচ্ছেন উদ্ধারকারীরা।
লিবিয়ায় চলতি বছর মারাত্মক গরমের পর বৃষ্টি, তারপরও এমন ঘূর্ণিঝড় তাণ্ডব চালায়। এটি জলবায়ু পরিবর্তনের একটি অন্যতম প্রভাব মনে করছেন জার্মানির লাইপজিগ বিশ্ববিদ্যালয়ের জলবায়ু বিজ্ঞানী এবং আবহাওয়াবিদ কার্স্টেন হাউস্টেইন।
বিবিসি জানিয়েছে, এই ভয়াবহ বিপদে যারা পড়েছেন তাদের যে উদ্ধার করা হবে সেই পরিস্থিতিও এখন লিবিয়ায় নেই। কারণ ২০১১ সালে সাবেক শাসক কর্নেল মোহাম্মদ গাদ্দাফিকে হত্যার পর রাজনৈতিক অস্থিতিশীলতার মুখে পড়ে দেশটি। আর তখন থেকে শুরু করে এখন পর্যন্ত দেশটিতে শুধুমাত্র যুদ্ধই চলেছে। ফলে কোনো প্রাকৃতিক বিপর্যয় দেখা দিলে-বিপর্যয় পরবর্তী বিষয়াবলী যে সামাল দেওয়া হবে এমন কোনো বাহিনী বা অবকাঠামোই তৈরি করা সম্ভব হয়নি।
বিবিসি আরো জানিয়েছে, কিছু উদ্ধার তৎপরতা সেখানে শুরু হয়েছে, যাতে এগিয়ে এসেছে মিশরও। তবে লিবিয়ার রাজনৈতিক পরিস্থিতির কারণে এ তৎপরতা কিছু বাধাগ্রস্ত হচ্ছে। দেশটি এখন দুটি সরকারের নিয়ন্ত্রণে বিভক্ত হয়ে আছে। যুক্তরাষ্ট্র, জার্মানি, ইরান, ইটালি, কাতার এবং তুরস্কসহ কিছু দেশ জানিয়েছে প্রয়োজনীয় সহায়তা করতে তারাও প্রস্তুত আছে।
সূত্র: সিএনএন, বিবিসি










