শুক্রবার ৬ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬

লক্ষ্মীপুরে বিএনপি-জামায়াত সংঘর্ষ—আহত ১০

রাইজিং কুমিল্লা প্রতিবেদক

Rising Cumilla - Chandraganj Police Station Lakshmipur
চন্দ্রগঞ্জ থানা লক্ষ্মীপুর/ছবি: সংগৃহীত

লক্ষ্মীপুরের চন্দ্রগঞ্জ উপজেলায় বিএনপি ও জামায়াত ইসলামী বাংলাদেশের নেতাকর্মীদের মধ্যে সংঘর্ষের ঘটনায় পাল্টাপাল্টি মামলা দায়ের করা হয়েছে। শনিবার রাতে (১৭ জানুয়ারি) দায়ের করা এসব মামলায় মোট ৩৮৭ জনকে আসামি করা হয়েছে।

রোববার (১৮ জানুয়ারি) দুপুরে চন্দ্রগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোরশেদ আলম বিষয়টি নিশ্চিত করেন।

চন্দ্রগঞ্জ থানায় দায়ের করা মামলাগুলোর মধ্যে একটি করেছেন জামায়াত ইসলামী বাংলাদেশের যুব বিভাগের নেতা হেজবুল্লাহ এবং অপরটি করেছেন বিএনপি কর্মী কামাল হোসেন।

পুলিশ জানায়, হামলার অভিযোগ এনে জামায়াতের যুববিভাগের চরশাহী ইউনিয়নের ৪ নম্বর ওয়ার্ড সভাপতি হেজবুল্লাহ সোহেল বাদী হয়ে ১৭০ জনের বিরুদ্ধে মামলা করেছেন। মামলায় ১০ জনের নাম উল্লেখ করা হয়েছে এবং অজ্ঞাতনামা আরও ১৬০ জনকে আসামি করা হয়েছে।

অন্যদিকে, একই ঘটনায় বিএনপি কর্মী কামাল হোসেন ১৭ জনের নাম উল্লেখ করে এবং অজ্ঞাতনামা ২০০ জনকে আসামি করে পৃথক একটি মামলা দায়ের করেছেন।

এর আগে গত বৃহস্পতিবার (১৫ জানুয়ারি) সন্ধ্যায় চরশাহী ইউনিয়নের বটগাছতল এলাকায় বিএনপি ও জামায়াতের নেতাকর্মীদের মধ্যে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। এতে উভয় পক্ষের অন্তত ১০ জন আহত হন।

এদিকে, শনিবার দুপুরে জেলা রিটার্নিং কর্মকর্তা ও জেলা প্রশাসক এসএম মেহেদী হাসান লক্ষ্মীপুরের চারটি আসনের প্রার্থীদের নিয়ে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের নির্বাচনি আচরণবিধি সম্পর্কে অবহিতকরণ সভার আয়োজন করেন। সভায় চরশাহী ইউনিয়নের সংঘর্ষের বিষয়টি আলোচনায় উঠে আসে।

সভায় রিটার্নিং কর্মকর্তা এসএম মেহেদী হাসান ও পুলিশ সুপার মো. আবু তারেক সকল প্রার্থীকে নির্বাচনি আচরণবিধি মেনে চলার আহ্বান জানান।

লক্ষ্মীপুর-৩ আসনের জামায়াত প্রার্থী মোহাম্মদ রেজাউল করিম অভিযোগ করে বলেন, “আমাদের মহিলা কর্মীদের কর্মসূচিতে বিএনপির নেতাকর্মীরা বাধা দেয়। পরে তারা আমাদের পুরুষ নেতাকর্মীদের ওপর হামলা চালায়। ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত করে জড়িতদের আইনের আওতায় আনার দাবি জানাচ্ছি।”

অন্যদিকে লক্ষ্মীপুর-৩ আসনের বিএনপি প্রার্থী শহীদ উদ্দীন চৌধুরী এ্যানি বলেন, “জামায়াতের লোকজন ভোটারদের কাছ থেকে আইডি কার্ড সংগ্রহ করছিল। ঘটনার সূত্রপাত সেখান থেকেই। উভয় পক্ষের মধ্যেই অপরাধ প্রবণতা দেখা গেছে। আমি আহত নেতাকর্মীদের সঙ্গে হাসপাতালেও ছিলাম। প্রশাসনের কাছে সুষ্ঠু তদন্ত ও যথাযথ পদক্ষেপের আহ্বান জানাচ্ছি।”

চন্দ্রগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোরশেদ আলম বলেন, “চরশাহীর ঘটনায় জামায়াত ও বিএনপি পাল্টাপাল্টি মামলা করেছে। ঘটনার তদন্ত চলমান রয়েছে এবং অভিযুক্তদের গ্রেপ্তারের জন্য পুলিশ কাজ করছে।”

আরও পড়ুন