
কৃষি, মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ এবং খাদ্য মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী মোহাম্মদ আমিন উর রশীদ বলেছেন, সঠিক পরিকল্পনা, দক্ষ ব্যবস্থাপনা এবং মাঠপর্যায়ের কার্যকর উদ্যোগ গ্রহণের মাধ্যমে এগ্রো-প্রোডাক্টকে দেশের প্রধান রপ্তানি পণ্য হিসেবে প্রতিষ্ঠা করা সম্ভব। তিনি বলেন, নবীন কর্মকর্তারা মাঠমুখী হয়ে কাজ করলে কৃষি সম্ভাবনা অর্থনৈতিক শক্তিতে রূপান্তরিত হওয়ার পাশাপাশি দেশের খাদ্যনিরাপত্তা ও আর্থ-সামাজিক উন্নয়ন নিশ্চিত হবে।
বৃহস্পতিবার (২৬ ফেব্রুয়ারি) বিকালে রাজধানীর মৃত্তিকা সম্পদ উন্নয়ন ইনস্টিটিউট-এ অনুষ্ঠিত ৪৪তম বিসিএস (প্রাণিসম্পদ) নবনিযুক্ত ক্যাডার কর্মকর্তাদের অংশগ্রহণে পাঁচ দিনব্যাপী অবহিতকরণ কোর্সের সমাপনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
মন্ত্রী বলেন, বিশ্বের অনেক দেশ বছরে চার থেকে আট মাস তুষারাচ্ছন্ন থাকে। সীমিত কৃষি মৌসুম থাকা সত্ত্বেও তারা কৃষিকে অর্থনীতির প্রধান ভিত্তি হিসেবে গড়ে তুলেছে। অথচ বাংলাদেশের অনুকূল জলবায়ু ও উর্বর মাটির কারণে সারা বছর ফসল উৎপাদনের সুযোগ থাকলেও প্রত্যাশিত অর্থনৈতিক সাফল্য অর্জনে আরও উদ্যোগ প্রয়োজন।
তিনি জোর দিয়ে বলেন, গরুর গোবর সঠিকভাবে প্রক্রিয়াজাত ও ব্যবহার করলে রাসায়নিক সারের ওপর নির্ভরতা কমানো সম্ভব। এতে পরিবেশ দূষণ কমবে এবং মাটির উর্বরতা সংরক্ষিত থাকবে।
তার ভাষায়,“আমরা লক্ষ কোটি টাকা খরচ করে কেমিক্যাল সার আনছি। অথচ গোবর সঠিকভাবে ব্যবহার করলে মাটি ও পরিবেশ—দুটিই সুরক্ষিত থাকবে।”
নবীন কর্মকর্তাদের উদ্দেশ্যে তিনি বলেন, তারা মানুষের সেবা প্রদানের দায়িত্বে নিয়োজিত। দেশের প্রাকৃতিক ও কৃষি সম্পদের সঠিক ব্যবহার নিশ্চিত করা গেলে ভবিষ্যৎ প্রজন্ম একটি সমৃদ্ধ ও টেকসই বাংলাদেশ পাবে।
তিনি আরও বলেন, সততা, দায়িত্ববোধ এবং দক্ষতার সঙ্গে মাঠপর্যায়ে কাজ করলে বাংলাদেশ কৃষি ও খাদ্যনিরাপত্তা খাতে একটি দৃঢ় অর্থনৈতিক ভিত্তি গড়ে তুলতে সক্ষম হবে।
মন্ত্রী জানান, প্রাণিসম্পদ খাতের উন্নয়নে বর্তমান সরকার ক্ষমতা গ্রহণের পর থেকে বহুমুখী পরিকল্পনা গ্রহণ করেছে। এর মধ্যে রয়েছে— গবাদিপশু পালনকারীদের ন্যায্যমূল্য নিশ্চিতকরণ, সহজ ঋণ সুবিধা, বীমা সুবিধা ও বাজারজাতকরণের জন্য ফার্মাস কার্ড চালুর উদ্যোগ।
তিনি বলেন, প্রাণিসম্পদ খাতে যুক্ত উদ্যোক্তা ও ক্ষুদ্র খামারিদের প্রয়োজনীয় সহায়তা নিশ্চিত করতে হবে। নবীন কর্মকর্তারা মাঠপর্যায়ে সক্রিয়ভাবে কাজ করলে এই খাতের উন্নয়ন ও সম্প্রসারণ আরও গতিশীল হবে।
অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রণালয়ের সচিব আবু তাহের মুহাম্মদ জাবের।
সভাপতিত্ব করেন প্রাণিসম্পদ অধিদপ্তর-এর মহাপরিচালক ড. মো. আবু সুফিয়ান। স্বাগত বক্তব্য রাখেন অধিদপ্তরের পরিচালক ড. মো. বয়জার রহমান।
এছাড়া উপস্থিত ছিলেন মৃত্তিকা সম্পদ উন্নয়ন ইনস্টিটিউটের মহাপরিচালক ড. বেগম সামিয়া সুলতানা সহ মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রণালয় এবং সংশ্লিষ্ট দপ্তরের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা।
অনুষ্ঠান শেষে মন্ত্রী মেধাবী নবীন কর্মকর্তাদের মাঝে সনদপত্র বিতরণ করেন।









