
কুমিল্লার মনোহরগঞ্জ উপজেলার আমতলী–কেশতলা এলাকায় ডাকাতিয়া নদীর ওপর অবস্থিত পুরোনো ব্রিজটি দীর্ঘদিন ধরে স্থানীয় মানুষের জন্য মরণফাঁদে পরিণত হয়েছে। প্রতিদিন এই ব্রিজ দিয়ে চলাচল করতে গিয়ে সীমাহীন দুর্ভোগ ও চরম ঝুঁকির মুখে পড়ছেন হাজারো মানুষ। প্রতিনিয়ত কয়েক শতাধিক যানবাহন চলাচল করলেও সংস্কারের অভাবে ব্রিজটি এখন দুর্ঘটনার কেন্দ্রবিন্দুতে পরিণত হয়েছে।
সরেজমিনে দেখা গেছে, ডাকাতিয়া নদীর ওপর নির্মিত এই পুরোনো ব্রিজটি ধিকচান্দা, বচইড়, আমতলী, লাকসাম ও মনোহরগঞ্জ এলাকার মানুষের যাতায়াতের অন্যতম প্রধান মাধ্যম। প্রতিদিন শতাধিক যানবাহন ছাড়াও শত শত শিক্ষার্থী ও সাধারণ মানুষ এই ব্রিজ ব্যবহার করে চলাচল করেন। দীর্ঘদিন সংস্কার না হওয়ায় ব্রিজটির অবস্থা দিন দিন আরও ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে উঠছে।
স্থানীয়দের অভিযোগ, ব্রিজের দুই পাশ অত্যন্ত উঁচু ও সংকীর্ণ হওয়ায় একটি গাড়ি ব্রিজে উঠলে বিপরীত দিক থেকে অন্য গাড়ি পার হতে পারে না। বিশেষ করে রাতের বেলায় আলো না থাকায় দুর্ঘটনার আশঙ্কা বহুগুণ বেড়ে যায়। এরই মধ্যে একাধিক দুর্ঘটনা ঘটেছে। গত বছর আমতলী গ্রামের এক অটোরিকশাচালক ব্রিজ থেকে পড়ে প্রাণ হারান।
অটোরিকশাচালক মো. আলমগীর হোসেন বলেন, “ব্রিজের বেহাল দশার কারণে আশপাশ এলাকার কয়েক হাজার মানুষ প্রতিদিন দুর্ভোগ পোহাচ্ছেন। এই সড়কের সঙ্গে ধিকচান্দা, বচইড়, আমতলী, লাকসাম ও মনোহরগঞ্জ সড়কের সংযোগ থাকায় নিয়মিত শত শত যাত্রী ও পথচারী এই ব্রিজ ব্যবহার করেন। রাতের বেলায় চলাচল আরও বেশি ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে ওঠে। দ্রুত ব্যবস্থা না নিলে ব্রিজটি ভেঙে পড়ে যোগাযোগ সম্পূর্ণ বিচ্ছিন্ন হয়ে যাওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।”
সিএনজিচালিত অটোরিকশাচালক মো. জসিম উদ্দিন বলেন, “প্রতিদিন ঝুঁকি নিয়েই আমাদের এই ব্রিজ পার হতে হয়। এখানে আগেও বেশ কয়েকটি দুর্ঘটনা ঘটেছে। বিশেষ করে অপরিচিত কেউ রাতে এ সড়কে এলে বড় দুর্ঘটনার শিকার হওয়ার সম্ভাবনা বেশি। আমরা একাধিকবার জনপ্রতিনিধি ও উপজেলা এলজিইডিকে জানিয়েছি, কিন্তু কাজ শুধু প্রতিশ্রুতির মধ্যেই সীমাবদ্ধ।”
আমতলী উচ্চ বিদ্যালয়ের সহকারী প্রধান শিক্ষক মো. জহুরুল আলম বলেন, “প্রায় ২০ বছর আগে ব্রিজটি নির্মাণ করা হয়। বর্তমানে ব্রিজের পূর্ব ও পশ্চিম পাশ অত্যন্ত উঁচু ও ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে গেছে। প্রতিদিন প্রায় পাঁচ শতাধিক যানবাহন চলাচলের পাশাপাশি এলাকার সাধারণ মানুষ ও শিক্ষার্থীরা এই ব্রিজ ব্যবহার করে। ছোটখাটো দুর্ঘটনা এখন নিত্যদিনের ঘটনা। দক্ষিণ পাশে যে নতুন ব্রিজ নির্মাণাধীন রয়েছে, সেটির কাজ দ্রুত শেষ করে পুরোনো ব্রিজটি বন্ধ করে দেওয়া জরুরি।”
এ বিষয়ে মনোহরগঞ্জ উপজেলা প্রকৌশলী মো. শাহ আলম বলেন, “চলতি অর্থবছরে উপজেলা পরিষদ থেকে বরাদ্দ পাওয়া গেলে ব্রিজটি সংস্কারের কাজ করা হবে।”
মনোহরগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) গাজালা পারভীন রুহি বলেন, “উপজেলার যে কোনো জনদুর্ভোগের বিষয়ে প্রশাসন সজাগ রয়েছে। ঝুঁকিপূর্ণ এই ব্রিজটি সংস্কারের জন্য প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণ করা হবে।”










