জুন ১৬, ২০২৪

রবিবার ১৬ জুন, ২০২৪

মধ্যরাতে শেষ হচ্ছে উপজেলা নির্বাচনের প্রচার, আজ মাঠে নামবে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী

Bangladesh Election Commission (EC)
বাংলাদেশ নির্বাচন কমিশন। গ্রাফিক্স: রাইজিং কুমিল্লা

দেশের ষষ্ঠ উপজেলা পরিষদ নির্বাচনে দ্বিতীয় ধাপে ভোটের বাকি আর মাত্র একদিন। আজ রবিবার (১৯ মে) মধ্যরাতেই শেষ হচ্ছে এ ভোটের প্রচার। নির্বাচনে পরিবেশ শান্তিপূর্ণ রাখতে আজ মাঠে নামছে বিজিবি, র‌্যাবসহ আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী।

এ ধাপে দেশের ৬৩ জেলার ১৫৭ উপজেলায় ভোটের লড়াইয়ে মাঠে আছেন ১৮২৮ প্রার্থী। আর বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় নির্বাচিত হয়েছেন ২১ জন প্রার্থী।

এ পর্যায়ে নির্বাচন সংশ্লিষ্ট উপজেলাগুলোতে চলছে প্রার্থীদের শেষ মুহূর্তের প্রচার। উপজেলা পরিষদ নির্বাচন আইন অনুযায়ী, ভোটের ৩২ ঘণ্টা আগে প্রচার বন্ধ করতে হবে। এরই মধ্যে ভোটগ্রহণের সব ধরনের প্রস্তুতি নিয়েছে নির্বাচন কমিশন। ২১ মে ভোটের দিন কেন্দ্রের পরিবেশ শান্তিপূর্ণ ও নির্বিঘ্ন রাখতে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যদের প্রতি কঠোর নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।

নির্বাচন কমিশনের (ইসি) নির্বাচন ব্যবস্থাপনা শাখার উপসচিব মো. আতিয়ার রহমান জানিয়েছেন, বিভিন্ন বাহিনীর সদস্যরা পাঁচদিনের জন্য মাঠে নিয়োজিত থাকবে। এ নিয়ে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় ইতোমধ্যে পরিপত্র জারি করেছে।

পরিপত্র অনুযায়ী, সমতলে সাধারণ ভোটকেন্দ্রে পুলিশ, আনসার ও গ্রামপুলিশের ১৭ জন করে এবং ঝুঁকিপূর্ণ কেন্দ্রে ১৯ জনের ফোর্স মোতায়েন থাকবে। দুর্গম ও পার্বত্য এলাকায় সাধারণ কেন্দ্রে ১৯ জন ও ঝুঁকিপূর্ণ কেন্দ্রে ২১ জনের ফোর্স মোতায়েন থাকবে।

নির্বাচনী আচরণবিধি প্রতিপালনে প্রতি ইউনিয়নে থাকবেন একজন করে নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট। এ ছাড়াও প্রতিটি মোবাইল বা স্ট্রাইকিং ফোর্সের সঙ্গে একজন করে এক্সিকিউটিভ ম্যাজিস্ট্রেট নিয়োজিত থাকবে।

এদিকে নির্বাচনী অপরাধ আমলে নিয়ে বিচার করার জন্য উপজেলায় থাকবে একজন করে বিচারিক ম্যাজিস্ট্রেট। সরকারি জরুরি সেবা ৯৯৯-এ থাকবে বিশেষ টিম। ওই টিম নির্বাচন সংক্রান্ত প্রাপ্ত অভিযোগ-তথ্যের বিষয়ে দ্রুত ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য সরাসরি এলাকাভিত্তিক আইনশৃঙ্খলা সমন্বয় সেলে প্রেরণ করবে।

অন্যদিকে নির্বাচন উপলক্ষে ভোটের দিন সংশ্লিষ্ট উপজেলাগুলোতে সাধারণ ছুটি ঘোষণা করা হয়েছে।

ইসির অতিরিক্ত সচিব অশোক কুমার দেবনাথ গণমাধ্যমকে বলেন, রোববার মধ্যরাতে দ্বিতীয় ধাপের প্রচার শেষ হবে। অবাধ, সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ ভোটগ্রহণের জন্য সব ধরনের প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছে। এ ভোট নিয়ে নির্বাচন কমিশন সর্বোচ্চ সতর্ক অবস্থায় রয়েছে। প্রার্থীদের অভিযোগ প্রসঙ্গে তিনি বলেন, নির্বাচনে অভিযোগ পাল্টা অভিযোগ থাকবেই। কোথাও কোনো ঘটনা ঘটলে সঙ্গে সঙ্গে ব্যবস্থা নিচ্ছি। আচরণবিধি ভঙ্গ ও অভিযোগের ভিত্তিতে ইতিপূর্বে অনেক প্রার্থী ও এমপিকে শোকজ করা হয়েছে।

দ্বিতীয় ধাপে ১৫৭ উপজেলায় প্রথমে মনোনয়নপত্র জমা দেন ২ হাজার ৫৫ জন। তাদের মধ্য থেকে ১৭৭ জন প্রার্থিতা প্রত্যাহার করায় ভোটের মাঠে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন ১ হাজার ৮২৮ জন। তাদের মধ্যে চেয়ারম্যান পদে ৬০৫ জন, ভাইস চেয়ারম্যান পদে ৬৯৪ জন, মহিলা ভাইস চেয়ারম্যান পদে ৫২৯ জন প্রার্থী রয়েছেন।

দ্বিতীয় ধাপের উপজেলা নির্বাচনে বিনাভোটে জয়ী ২১ প্রার্থী

একাধিক প্রতিদ্বন্দ্বী না থাকায় এরই মধ্যে এ ধাপে নির্বাচিত হয়েছেন ২১ জন। তাদের মধ্যে রয়েছেন চেয়ারম্যান পদে-কুমিল্লা আদর্শ সদরে আমিনুল ইসলাম, জামালপুরের ইসলামপুরে মো. আ. ছালাম, ফরিদপুরের নাগরকান্দায় মো. ওয়াহিদুজ্জামান, চট্টগ্রামের রাউজানে এ কে এম এহছানুল হায়দার চৌধুরী, চট্টগ্রামের রাঙ্গুনিয়ায় আবুল কাশেম চিশতী, সাভারে মঞ্জুরুল আলম রাজীব ও মৌলভীবাজার সদরে উপজেলার কামাল হোসেন।

ভাইস চেয়ারম্যান পদে-রাজশাহীর বাগমারায় শহীদুল ইসলাম, রাঙামাটির রাজস্থালীতে হারাধন কর্মকার, কুমিল্লা আদর্শ সদরে আহাম্মেদ নিয়াজ, চট্টগ্রামের রাউজানে নুর মোহাম্মদ, নারায়ণগঞ্জের আড়াইহাজারে রফিকুল ইসলাম, চাঁদপুরের হাজীগঞ্জে সুমন ও রূপগঞ্জে মিজানুর রহমান।

এ ছাড়া মহিলা ভাইস চেয়ারম্যান পদে-রাঙামাটির রাজস্থালীতে গৌতমী খিয়াং, ব্রাহ্মণবাড়িয়ার কসবায় সাঈদা সুলতানা, কুমিল্লা আদর্শ সদরে হোসনে আরা বেগম, চট্টগ্রামের রাউজানে রুবিনা ইয়াছমিন রুজি, চট্টগ্রামের রাঙ্গুনিয়ায় হোসনে আরা বেগম, নারায়ণগঞ্জের আড়াই হাজারে শাহিদা মোশারফ ও রূপগঞ্জে ফেরদৌসী আক্তার বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় নির্বাচিত হয়েছেন।