
অতিরিক্ত ওজন ও জীবনযাপনের অনিয়মের কারণে বর্তমানে ফ্যাটি লিভারের সমস্যা দ্রুত বাড়ছে। বিশেষজ্ঞদের মতে, বেশি ওজনের কারণে যে সমস্যাগুলো দেখা দেয়, তার মধ্যে অন্যতম হলো ফ্যাটি লিভার। প্রতিদিনের খাবারে থাকা অতিরিক্ত চর্বি ধীরে ধীরে লিভারে জমা হতে থাকে, ফলে সমস্যা আরও জটিল আকার ধারণ করে।
চিকিৎসকদের ভাষ্য অনুযায়ী, লিভার সাধারণত মোট ওজনের পাঁচ থেকে ছয় শতাংশ পর্যন্ত চর্বি সহ্য করতে পারে। কিন্তু এর বেশি চর্বি জমলে তা বিপজ্জনক হয়ে ওঠে। সময়মতো চিকিৎসা না করালে এই সমস্যা থেকে ‘সিরোসিস অফ লিভার’-এর মতো মারাত্মক রোগও হতে পারে।
এছাড়া ডায়াবিটিস, থাইরয়েডসহ বিভিন্ন হরমোনজনিত রোগ থাকলে ফ্যাটি লিভারের ঝুঁকি আরও বেড়ে যায়। তাই আগেভাগেই সতর্ক হওয়া খুবই জরুরি। ফ্যাটি লিভারের কিছু গুরুত্বপূর্ণ লক্ষণ নিচে তুলে ধরা হলো—
হাতে ত্বকের সংক্রমণ
হাতের ত্বকে বারবার ফুসকুড়ি, লাল চাকার মতো দাগ অথবা চুলকানির সমস্যা দেখা দিলে অবহেলা করা উচিত নয়। যদিও এসব ত্বকের সমস্যা বিভিন্ন কারণে হতে পারে, তবে ঘন ঘন এমন লক্ষণ দেখা দিলে তা ফ্যাটি লিভারের ইঙ্গিত হতে পারে। বিশেষজ্ঞদের মতে, ফ্যাটি লিভারের কারণে রক্তে লবণ জমে গিয়ে এমন ত্বকজনিত সমস্যা দেখা দেয়।
অতিরিক্ত ক্লান্তি
অল্প পরিশ্রমেই যদি অতিরিক্ত ক্লান্তি অনুভূত হয়, তাহলে তা শরীরের দুর্বলতা ভেবে এড়িয়ে যাওয়া ঠিক নয়। দীর্ঘদিন ধরে এমন অবস্থা চলতে থাকলে সমস্যাটি গুরুতর আকার নিতে পারে। এ ধরনের উপসর্গ দেখা দিলে দ্রুত চিকিৎসকের শরণাপন্ন হওয়ার পরামর্শ দেন বিশেষজ্ঞরা।
কোলেস্টেরল বৃদ্ধি
খারাপ কোলেস্টেরল বা এলডিএল-এর মাত্রা বেড়ে গেলে অনেক ক্ষেত্রেই ফ্যাটি লিভারের ঝুঁকি তৈরি হয়। এলডিএল ক্রমাগত বাড়তে থাকলে অবশ্যই পরীক্ষা করে নিশ্চিত হতে হবে লিভারে অতিরিক্ত চর্বি জমছে কি না।
ভুঁড়ি বেড়ে যাওয়া
অকারণে পেটের মেদ বা ভুঁড়ি বেড়ে যাওয়া ফ্যাটি লিভারের অন্যতম লক্ষণ হতে পারে। সঙ্গে যদি ঘন ঘন ক্লান্তি অনুভূত হয়, তাহলে এটি আরও বেশি সতর্কতার ইঙ্গিত দেয়।
চিকিৎসকদের মতে, সঠিক খাদ্যাভ্যাস ও নিয়মিত স্বাস্থ্য পরীক্ষা করলে ফ্যাটি লিভারের ঝুঁকি অনেকটাই কমানো সম্ভব।
সূত্র: এই সময়










