বুধবার ১১ মার্চ, ২০২৬

ব্রাহ্মণবাড়িয়ার নবীনগরে ছায়াযুক্ত স্থানে হলুদ চাষে সাফল্যে উচ্ছ্বসিত কৃষক

সঞ্জয় শীল,নবীনগর,ব্রাহ্মণবাড়িয়া প্রতিনিধি

Rising Cumilla - Farmers are excited about their success in cultivating turmeric in a shaded area in Nabinagar, Brahmanbaria.
ব্রাহ্মণবাড়িয়ার নবীনগরে ছায়াযুক্ত স্থানে হলুদ চাষে সাফল্যে উচ্ছ্বসিত কৃষক/ছবি: প্রতিনিধি

ব্রাহ্মণবাড়িয়ার নবীনগরের নাটঘর ইউনিয়নের একইছড়া গ্রামের কৃষক জামির প্রমাণ করেছেন, পরিকল্পিত উদ্যোগ ও সময়োপযোগী পরামর্শ পেলে কৃষিতে সম্ভাবনার শেষ নেই। ছায়াযুক্ত মিশ্র ফলবাগানে হলুদ চাষ করে তিনি যেমন আর্থিকভাবে লাভবান হয়েছেন, তেমনি এই অঞ্চলের কৃষকদের সামনে খুলে দিয়েছেন নতুন একটি সম্ভাবনাময় পথ।

উপসহকারী কৃষি অফিসার জনাব ফারুক আহমেদের পরামর্শে ফ্ল্যাড রিকনস্ট্রাকশন ইমারজেন্সি এসিস্ট্যান্স প্রজেক্টের আওতায় জামির তার মিশ্র ফলবাগানে বারি হলুদ-১ জাতের হলুদ আবাদ করেন। ফলগাছের ছায়া সাধারণত যেখানে অব্যবহৃত থাকে, সেখানে হলুদ চাষ করে তিনি জমির সর্বোচ্চ ব্যবহার নিশ্চিত করেন। মাত্র ১৫ শতাংশ জমিতে হলুদ আবাদ করে তিনি প্রায় ২০ মণ কাঁচা হলুদ উৎপাদন করতে সক্ষম হন।
বর্তমানে বাজারে কাঁচা হলুদ কেজি প্রতি গড়ে ৬০ টাকা দরে বিক্রি হওয়ায় এ আবাদ থেকে তার আয় দাঁড়িয়েছে প্রায় অর্ধ লক্ষ টাকা। তুলনামূলকভাবে কম খরচে এমন আয় হওয়ায় এই চাষ কৃষকের জন্য বেশ লাভজনক হয়ে উঠেছে।

একইছড়া গ্রামের কৃষক জামির জানান, তার সদ্য প্রয়াত বাবা হিরণ মিয়ার আগ্রহে উপজেলা কৃষি অফিসের পরামর্শ নিয়ে গত মার্চে ১৫ শতাংশ জায়গায় ৬০ কেজি হলুদের বীজ বপণ করেন। ঠিক দশমাস পরে পরিত্যক্ত জায়গায় প্রায় ৮০০ কেজি হলুদ উৎপাদিত হয়েছে। ফল বাগান থেকে ফল আহরণের পাশাপাশি ছায়াতে হলুদ ভালো হয় দেখে প্রতিবেশি অনেকেই উৎসাহিত হচ্ছে।

উপসহকারী কৃষি অফিসার জনাব ফারুক আহমেদ জানান, ছায়াযুক্ত ফলবাগানে হলুদ এবং আদা চাষের সম্ভাবনা অত্যন্ত উজ্জ্বল। আদা ও হলুদ আংশিক ছায়া সহনশীল ফসল হওয়ায় আম, লিচু, কাঁঠালসহ বিভিন্ন ফলবাগানে সহজেই এ ফসল যুক্ত করা যায়। এতে একই জমি থেকে একাধিক ফসল উৎপাদন সম্ভব হয়, যা কৃষকের মোট আয় বাড়াতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে।

এ প্রসঙ্গে উপজেলা কৃষি অফিসার মোঃ জাহাঙ্গীর আলম লিটন জানান, “মিশ্র ফলবাগানে আদা ও হলুদ চাষ কৃষকদের জন্য একটি টেকসই ও লাভজনক প্রযুক্তি। জলবায়ু পরিবর্তনের প্রেক্ষাপটে এমন ফসল নির্বাচন জরুরি, যা কম ঝুঁকিতে ভালো ফলন দিতে পারে। জামির মিয়ার সাফল্য প্রমাণ করে, ছায়াযুক্ত জমিও সঠিক ব্যবস্থাপনায় আয়বর্ধক সম্পদে রূপান্তর করা যায়।”

কৃষি বিভাগ সূত্রে জানা যায়, নবীনগর উপজেলায় চলতি মৌসুমে একাধিক জায়গায় পরিত্যক্ত এবং ফল বাগানের ছায়ায় প্রায় ১৫ বিঘা জায়গায় আদা এবং হলুদ আবাদ হয়েছে। ভবিষ্যতে এ ধরনের প্রকল্পের আওতায় ছায়াযুক্ত জমিতে মসলা ফসল চাষ সম্প্রসারণ করা হলে একদিকে কৃষকের আয় বাড়বে, অন্যদিকে দেশীয় মসলার উৎপাদনও বৃদ্ধি পাবে। এতে আমদানি নির্ভরতা কমে কৃষি অর্থনীতিতে ইতিবাচক প্রভাব পড়বে।
সব মিলিয়ে, কৃষক জামিরের সাফল্যে হলুদ চাষ শুধু ব্যক্তিগত সাফল্যের গল্প নয়; বরং এটি নবীনগরসহ আশপাশের এলাকার কৃষকদের জন্য একটি অনুকরণীয় দৃষ্টান্ত। সঠিক পরামর্শ, আধুনিক প্রযুক্তি ও সাহসী উদ্যোগ থাকলে ছায়াযুক্ত বাগানই হতে পারে কৃষকের স্বপ্ন পূরণের নতুন ক্ষেত্র।

আরও পড়ুন