বুধবার ২৫ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬

বাসা-বাড়িতে গ্যাস লিকেজের লক্ষণ চিনে নিন, জানুন করণীয়

লাইফস্টাইল ডেস্ক

Rising Cumilla - Gas stove
গ্যাসের চুলা/ছবি: রাইজিং কুমিল্লা সম্পাদিত

দৈনন্দিন জীবনের গুরুত্বপূর্ণ চাহিদার মধ্যে প্রাকৃতিক গ্যাস অন্যতম। আধুনিক জীবনযাত্রায় রান্না থেকে শুরু করে বিভিন্ন কাজে গ্যাস অপরিহার্য ভূমিকা পালন করে। তবে প্রয়োজনীয় এই গ্যাস সঠিকভাবে নিয়ন্ত্রণ করতে না পারলে ছোট দুর্ঘটনা থেকে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ড পর্যন্ত ঘটতে পারে, যা প্রাণহানির ঝুঁকিও তৈরি করে।

ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্স অধিদপ্তরের মিডিয়া সেলের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মো. শাহজাহান শিকদার বলেন, “বাড়িতে গ্যাস লিকেজ প্রতিরোধে ব্যবস্থা নেওয়া অতি জরুরি। আগে থেকে সতর্ক থাকলে প্রাণ ও সম্পদ রক্ষা করা সম্ভব।”

এজন্য গ্যাস লিকেজের লক্ষণ ও প্রতিরোধের উপায় সম্পর্কে সচেতন থাকা প্রয়োজন। এবার তাহলে কনস্টেলোশনের এক প্রতিবেদনের বরাত গ্যাস লিকেজ শনাক্ত এবং সমাধানের উপায় জেনে নেয়া যাক-

প্রথম ও সবচেয়ে স্পষ্ট লক্ষণ: প্রাকৃতিক গ্যাস মূলত গন্ধহীন। তবে নিরাপত্তার জন্য এতে মার্কেপ্টেন নামক একটি গন্ধযুক্ত পদার্থ মেশানো হয়। ফলে বাসা-বাড়িতে কোথাও গ্যাস লিক হলে পচা ডিমের মতো অস্বাভাবিক দুর্গন্ধ পাওয়া যায়। এ গন্ধ থেকেই সহজে লিকেজ বোঝা সম্ভব।

দ্বিতীয় লক্ষণ: পাইপ বা সিলিন্ডারে উচ্চ চাপে গ্যাস সংরক্ষিত থাকে। কোথাও লিক হলে সেই চাপের স্থান দিয়ে গ্যাস বের হওয়ার সময় হিস হিস শব্দ শোনা যায়। এমন শব্দ শুনলে দ্রুত সতর্ক হতে হবে।

তৃতীয় লক্ষণ: অনেকেই বাসার সৌন্দর্যের জন্য ছোট গাছ রাখেন। কিন্তু গ্যাস লিক থাকলে আশপাশের গাছ ধীরে ধীরে শুকিয়ে যেতে বা মারা যেতে পারে। এটিও লিকেজের একটি লক্ষণ।

চতুর্থ লক্ষণ: গ্যাস লিক হলে বাতাসে অক্সিজেনের পরিমাণ কমে যেতে পারে। এতে মাথা ঘোরা, বমি বমি ভাব, মাথাব্যথাসহ নানা শারীরিক সমস্যা দেখা দিতে পারে।

গ্যাস লিকেজ হলে করণীয়

দ্রুত স্থান ত্যাগ করা: গ্যাস লিকেজ শনাক্ত হলে দেরি না করে ওই স্থান ছেড়ে নিরাপদ জায়গায় চলে যেতে হবে। সম্ভব হলে খোলা জায়গায় আশ্রয় নিন।

আগুন ও বৈদ্যুতিক যন্ত্র ব্যবহার না করা: বন্ধ ঘরে জমে থাকা গ্যাসে সামান্য আগুনের ফুলকিও বড় অগ্নিকাণ্ডের কারণ হতে পারে। তাই লিকেজের সময় আগুন জ্বালানো বা কোনো বৈদ্যুতিক যন্ত্র চালু করা থেকে বিরত থাকতে হবে।

দরজা-জানালা খুলে দেওয়া: ঘরে গ্যাস জমে থাকলে দরজা-জানালা খুলে দিন। এতে গ্যাস বের হয়ে যাবে এবং বাইরে থেকে বাতাস ঢুকে ঝুঁকি কমবে।

গ্যাস সরবরাহের মূল লাইন বন্ধ করা: যদি সম্ভব হয়, পাইপলাইন বা সিলিন্ডারের মূল সরবরাহ বন্ধ করে দিন। এতে গ্যাস বের হওয়া বন্ধ হবে।

ফায়ার সার্ভিসকে জানানো: গ্যাস লিকেজ শনাক্ত করলে দ্রুত নিকটস্থ ফায়ার সার্ভিসকে অবহিত করুন। প্রয়োজনে তারা এসে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে সহায়তা করবে এবং বড় দুর্ঘটনা প্রতিরোধ করা সম্ভব হবে।

দুর্ঘটনা প্রতিরোধে অতিরিক্ত সতর্কতা

গ্যাস লিকেজের ঝুঁকি কমাতে নিয়মিত গ্যাসলাইন রক্ষণাবেক্ষণ করা জরুরি। অপ্রয়োজনে গ্যাস লাইন ব্যবহার না করা, মূল সুইচ হাতের কাছে রাখা, বাসায় অগ্নিনির্বাপণ যন্ত্র রাখা এবং সম্ভব হলে কার্বন মনোক্সাইড শনাক্তকারী যন্ত্র ব্যবহার করা নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে সহায়ক হতে পারে।

উল্লেখ্য, সাম্প্রতিক সময়ে কুমিল্লার দাউদকান্দি এলাকায় গ্যাস সিলিন্ডার বিস্ফোরণ ও চট্টগ্রামের হালিশহরে গ্যাস লাইনের লিকেজ থেকে বিস্ফোরণসহ দেশের বিভিন্ন জায়গায় গ্যাস লিকেজ থেকে বিস্ফোরণের ঘটনায় জনমনে আতঙ্ক দেখা দিয়েছে। তবে আতঙ্ক না হয়ে সচেতনতা ও দ্রুত পদক্ষেপই গ্যাস লিকেজজনিত বড় দুর্ঘটনা থেকে রক্ষা পাওয়া যাবে।

আরও পড়ুন