
‘বৃক্ষরোপণে সাজাই দেশ, সবার আগে বাংলাদেশ’—এই প্রতিপাদ্যকে সামনে রেখে ফেনীতে উৎসবমুখর পরিবেশে শুরু হয়েছে সপ্তাহব্যাপী বৃক্ষরোপণ অভিযান ও বৃক্ষমেলা।
মঙ্গলবার (১৪ জুলাই) দুপুরে ফিতা কেটে ও বেলুন উড়িয়ে মেলার আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করেন ফেনীর জেলা প্রশাসক মনিরা হক।
এর আগে সকাল সাড়ে ১১টায় শহরের মিজান রোডস্থ মিজান ময়দান থেকে একটি বর্ণাঢ্য র্যালি বের করা হয়। র্যালিটি শহরের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ সড়ক প্রদক্ষিণ করে শহীদ জহির রায়হান হল মাঠে গিয়ে শেষ হয়। পরে সেখানে আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়।
এবারের বৃক্ষমেলায় মোট ২০টি স্টল স্থান পেয়েছে। স্টলগুলোতে দেশি-বিদেশি বিভিন্ন প্রজাতির ফলদ, বনজ, ঔষধি ও ফুলের গাছের চারা প্রদর্শন ও বিক্রির ব্যবস্থা রাখা হয়েছে।
বিভাগীয় বন কর্মকর্তা মোহাম্মদ রুহুল আমিনের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত আলোচনা সভায় বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (সার্বিক) আল আমিন সরকার, অতিরিক্ত পুলিশ সুপার সাইদুর রহমান, কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপপরিচালক কৃষিবিদ মোহাম্মদ আতিক উল্লাহ এবং ফেনী সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা সুলতানা নাসরিন কান্তা।
এছাড়াও অনুষ্ঠানে রেড ক্রিসেন্ট সোসাইটির সাধারণ সম্পাদক সালাহ উদ্দিন মামুন, ফেনী সদর বন বিভাগের রেঞ্জ কর্মকর্তা বাবুল চন্দ্র ভৌমিক, জেলা করাত কল মালিক সমিতির সভাপতি আমির হোসেন চৌধুরী, নার্সারি মালিক সমিতির সভাপতি আবু বক্কর ছিদ্দিকসহ বিভিন্ন সরকারি-বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের প্রতিনিধি ও স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিরা উপস্থিত ছিলেন। অনুষ্ঠানটি সঞ্চালনা করেন সাংস্কৃতিক সংগঠক মাহতাব সোহেল।
উদ্বোধনী বক্তব্যে জেলা প্রশাসক মনিরা হক বলেন, পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষা এবং ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য বাসযোগ্য বাংলাদেশ গড়ে তুলতে ব্যাপকহারে বৃক্ষরোপণের বিকল্প নেই। তিনি বলেন, শুধু গাছ লাগালেই দায়িত্ব শেষ হয় না; প্রতিটি গাছের যথাযথ পরিচর্যা নিশ্চিত করতে হবে। একটি গাছ পরিণত হলে তা পরিবেশ, জীববৈচিত্র্য এবং মানুষের জীবনমান উন্নয়নে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে।
আলোচনা সভায় বক্তারা বলেন, জলবায়ু পরিবর্তনের বিরূপ প্রভাব মোকাবিলা এবং দেশের খাদ্য নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে পরিকল্পিত বৃক্ষরোপণ অত্যন্ত জরুরি। তাই শহর থেকে গ্রাম—প্রত্যেকটি খালি জায়গায় ফলদ, বনজ ও ঔষধি গাছ লাগাতে সর্বস্তরের মানুষের অংশগ্রহণ প্রয়োজন।
বিভাগীয় বন কর্মকর্তা মোহাম্মদ রুহুল আমিন জানান, শহীদ জহির রায়হান হল মাঠে আয়োজিত এই বৃক্ষমেলা প্রতিদিন সকাল থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত সবার জন্য উন্মুক্ত থাকবে। মেলায় সাশ্রয়ী মূল্যে উন্নতমানের চারা বিক্রির পাশাপাশি দর্শনার্থীদের গাছের পরিচর্যা ও রোপণ বিষয়ে পরামর্শও দেওয়া হবে।










