
নোয়াখালী, ফেনী ও লক্ষ্মীপুর পল্লী অঞ্চলের গ্রামীণ অবকাঠামো উন্নয়নে ২ হাজার ৫০০ কোটি টাকার সুকুক বা ইসলামী বন্ড ইস্যু করতে যাচ্ছে বাংলাদেশ সরকার।
সোমবার (৩ নভেম্বর) বাংলাদেশ ব্যাংকের শরিয়াহ অ্যাডভাইজরি কমিটির সভায় এ বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।
সভায় নতুন এই প্রকল্পের নাম নির্ধারণ করা হয়েছে ‘সপ্তম বিনিয়োগ সুকুক বন্ড’। প্রকল্পটির লক্ষ্যমাত্রা ধরা হয়েছে আড়াই হাজার কোটি টাকা, যা খোলা বাজার থেকে উত্তোলন করা হবে।
এই তহবিল ব্যয় করা হবে নোয়াখালী, ফেনী ও লক্ষ্মীপুর জেলার পল্লী এলাকার গ্রামীণ অবকাঠামো উন্নয়নে। প্রকল্পটি ৭ বছর মেয়াদি এবং এটি ইজারা পদ্ধতিতে ইস্যু করা হবে।
সাধারণ বিনিয়োগকারীরাও করতে পারবেন সুকুকে বিনিয়োগ
এই সুকুক প্রজেক্টে সাধারণ বিনিয়োগকারীরাও অংশ নিতে পারবেন। বিনিয়োগের জন্য সর্বনিম্ন ১০ হাজার টাকা বিনিয়োগ করতে হবে। মেয়াদ শেষে বিনিয়োগকারীরা উচ্চ মুনাফা পাওয়ার সুযোগ পাবেন।
যেভাবে করবেন সুকুকে বিনিয়োগ
বাংলাদেশ ব্যাংকের অনুমোদিত ডিলার ব্যাংকগুলো সাধারণত ট্রেজারি বন্ড বিক্রি করে। পাশাপাশি সহযোগী কিছু ব্যাংকও এই সেবা প্রদান করে থাকে।
বিনিয়োগের আগে দেখতে হবে, যে ব্যাংকে আপনার হিসাব রয়েছে, সেই ব্যাংক ট্রেজারি পণ্য বিক্রি করে কি না। যদি না করে, তাহলে যে ব্যাংক ট্রেজারি পণ্য বিক্রি করে, সেখানে হিসাব খুলে সুকুকে বিনিয়োগ করতে হবে।
যারা আবেদন করবেন, তারা সবাই বন্ড পাবেন। তবে আনুপাতিক ভিত্তিতে আবেদনকারীদের মধ্যে বন্ড বিতরণ করা হবে।
নিলামে অংশগ্রহণের সময়সীমা নির্ধারণ করা হয়েছে
৮ ফেব্রুয়ারি সকাল ১০টা থেকে ৯ ফেব্রুয়ারি দুপুর আড়াইটা পর্যন্ত।
মুনাফা কত
সুকুক প্রকল্পটি ৭ বছর মেয়াদি হলেও প্রতি ৬ মাস পরপর মুনাফা প্রদান করা হবে। পাশাপাশি এতে রয়েছে কর রেয়াতের সুবিধা।
এই প্রকল্পে সম্ভাব্য মুনাফার হার ৯ দশমিক ৬০ শতাংশ। প্রাপ্ত মুনাফার পুরো অংশই বিনিয়োগকারীরা পাবেন।
ঝুঁকিহীন ও শরিয়াহসম্মত বিনিয়োগ
প্রচলিত সঞ্চয়পত্রের তুলনায় সুকুকের গঠনতান্ত্রিক কাঠামো ভিন্ন। ফলে এটি যেমন শরিয়াহসম্মত বিনিয়োগকারীদের জন্য আদর্শ, তেমনি সাধারণ বিনিয়োগকারীদের জন্যও ঝুঁকিহীন বিনিয়োগের সুযোগ তৈরি করে।
এই বিনিয়োগে রয়েছে রাষ্ট্রীয় গ্যারান্টি, যা একে আরও নিরাপদ করে তুলেছে।








