
‘ভারতীয় আধিপত্যবাদ ও ওসমান হাদির আত্মত্যাগ’ বিষয়ে বাংলাদেশ তরুণ কলাম লেখক ফোরাম, নোয়াখালী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় (নোবিপ্রবি) শাখার আয়োজনে অনুষ্ঠিত হয়েছে মুক্ত আলোচনা।
২৬ ডিসেম্বর (শুক্রবার) রাত নয়টায় অনলাইন মাধ্যম গুগল মিটে শুরু হয় উক্ত মুক্ত আলোচনা। মূল আলোচক হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশ তরুণ কলাম লেখক ফোরাম, নোবিপ্রবি শাখার বর্তমান উপদেষ্টা ও সাবেক সভাপতি মাহমুদুল হাসান।
প্রায় আড়াইঘন্টা ধরে চলা মুক্ত আলোচনায় উপজীব্য বিষয় হিসেবে উঠে আসে ‘ বাংলাদেশ–ভারত রাষ্ট্রীয় সম্পর্ক, বাংলাদেশে ভারতীয় আধিপত্যবাদ ও তার কার্যপ্রণালি, বাংলাদেশের প্রেক্ষাপটে এর প্রাসঙ্গিকতা ও সুদূরপ্রসারী প্রভাব। এছাড়াও দুই দেশের পররাষ্ট্রনীতি, ডিপ স্টেইট, ভারতীয় আধিপত্যবাদ বিরোধী বক্তব্য ভারতবিরোধী কি না ‘।
আলোচনায় অংশগ্রহণ করা নোবিপ্রবির বিভিন্ন বিভাগের শিক্ষার্থীদের করা নানাবিধ প্রশ্নের জবাবে আলোচক মাহমুদুল হাসান পিংপং ডিপ্লোম্যাসি, জাপান–আমেরিকা ও চীন–আমেরিকার সম্পর্ক, মিডিয়ার সংকট, বিকল্প মিডিয়া গড়ে না ওঠার কারণ, মিডিয়া ন্যারেটিভ ও শব্দচয়নের পার্থক্য তুলে ধরেন।
এছাড়াও প্রো ন্যাশনালিজম বনাম এক্সট্রিম ন্যাশনালিজম, সিভিল সোসাইটি এনগেজমেন্ট, নীতিনির্ধারণে তৃণমূল মানুষের ভূমিকা, ভোটের আগের দিনের রাজনীতি, বাঙালি জাতির মনস্তত্ত্ব, জুলাই গণ-অভ্যুত্থান পরবর্তী বিপ্লবী সরকার গঠনে ব্যর্থতার কারণ এবং দেশের বর্তমান অর্থনীতি ও ভবিষ্যৎ করণীয় নিয়েও সংক্ষেপে আলোকপাত করা হয়েছে।
মুক্ত আলোচনায় অংশগ্রহণকারী নোবিপ্রবির রাষ্ট্রবিজ্ঞান বিভাগের ২০২২-২৩ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থী নুসরাত জাহান শান্তা বলেন ‘প্রতিহিংসার রাজনীতি ও কলুষিত ইতিহাস থেকে মুক্তি না পেলে বাংলাদেশের সার্বিক মুক্তি সম্ভব নয়; এর মূল পথ হলো সাংস্কৃতিক মুক্তি। এই পথ মসৃণ করতে গিয়েই শহীদ ওসমান হাদি জীবন দিয়েছেন। বর্তমান উত্তাল সময়ে এমন বুদ্ধিবৃত্তিক মুক্ত আলোচনা প্রশংসনীয়। এ আয়োজনের জন্য বাংলাদেশ তরুণ কলাম লেখক ফোরাম, নোবিপ্রবি শাখা ও আলোচক মাহমুদ ভাইকে ধন্যবাদ। আশা করি ভবিষ্যতে এমন পাঠচক্র আরও বাড়বে ও শিক্ষার্থীদের অংশগ্রহণ বৃদ্ধি পাবে, ইনশাআল্লাহ।’
বাংলাদেশ তরুণ লেখক কলাম ফোরাম, নোবিপ্রবি শাখার সভাপতি মো: রেদোয়ান বলেন, ‘বিজয়ের মাসেও শহীদ ওসমান হাদির হত্যার বিচার না হওয়ায় আমরা ব্যথিত। অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের ব্যর্থতার মধ্যেও আমরা নীরব থাকবো না। হাদি ভাইয়ের রক্ত বৃথা যেতে দেওয়া হবে না। ভারতীয় আধিপত্যবাদের বিরুদ্ধে তাঁর বুদ্ধিবৃত্তিক লড়াই হিংসা নয়, চিন্তা ও লেখার মাধ্যমে এগিয়ে নিতে হবে। এই লক্ষ্যেই আজকের মুক্ত আলোচনার আয়োজন যা ইনসাফ প্রতিষ্ঠার পথে এক গুরুত্বপূর্ণ পথনির্দেশক । আমরা বিশ্বাস করি এ জমিনে একদিন ইনসাফ কায়েম হবেই, ইনশাআল্লাহ ‘।
উল্লেখ্য, শরীফ ওসমান বিন হাদি (৩০ জুন ১৯৯৩ – ১৮ ডিসেম্বর ২০২৫) ছিলেন একজন বাংলাদেশি রাজনীতিবিদ, সাংস্কৃতিক কর্মী, লেখক ও শিক্ষক। তিনি ইনকিলাব মঞ্চের মুখপাত্র এবং ঢাকা-৮ আসন থেকে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে প্রার্থী হওয়ার ঘোষণা দেন। জুলাই শহিদদের অধিকার, আওয়ামী লীগ নিষেধাজ্ঞা আন্দোলন ও ভারতীয় আধিপত্যবাদবিরোধী রাজনীতির জন্য তিনি পরিচিত ছিলেন।
১২ ডিসেম্বর জুমার নামাজের পর ঢাকার বিজয়নগরে গুলিবিদ্ধ হয়ে তিনি ১৮ ডিসেম্বর সিঙ্গাপুরে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মৃত্যুবরণ করেন।









