
নিষেধাজ্ঞা অমান্য করে চাঁদপুরের পদ্মা-মেঘনা নদীতে মা ইলিশ শিকারের দায়ে ২২ জেলেকে ১২ দিন করে কারাদণ্ড দিয়েছেন ভ্রাম্যমাণ আদালত। একই সঙ্গে প্রত্যেককে ২০০ টাকা করে জরিমানা করা হয়েছে। এ সময় ২৫ হাজার মিটার নিষিদ্ধ কারেন্টজাল, ছয়টি মাছ ধরার নৌকা ও পাঁচ কেজি ইলিশ জব্দ করা হয়। আটক দুই অপ্রাপ্তবয়স্ক জেলেকে মুচলেকা নিয়ে ছেড়ে দেওয়া হয়েছে।
সোমবার (১৯ অক্টোবর) সকালে চাঁদপুর সদর উপজেলা জ্যেষ্ঠ মৎস্য কর্মকর্তার কার্যালয় থেকে এসব তথ্য জানানো হয়।
অভিযানে অংশ নেওয়া সদর উপজেলা সহকারী মৎস্য কর্মকর্তা মো. মিজানুর রহমান জানান, মা ইলিশের প্রজনন রক্ষায় রোববার (১৮ অক্টোবর) বিকেল ৪টা থেকে রাত ১০টা পর্যন্ত মেঘনা নদীর বিভিন্ন এলাকায় অভিযান চালানো হয়। জেলা ও উপজেলা পর্যায়ের জ্যেষ্ঠ মৎস্য কর্মকর্তাদের তত্ত্বাবধানে এ অভিযান পরিচালিত হয়।
অভিযানকালে সদর উপজেলার আনন্দবাজার, লালপুর, কাচিকাটা, চিরাচর, হরিসভা, রনাগোয়াল, দোকানঘর ও বহরিয়া এলাকায় তল্লাশি চালানো হয়। এর মধ্যে চিরাচর এলাকা থেকে ১৮ জন এবং দোকানঘর এলাকা থেকে ছয় জেলেকে আটক করা হয়।
পরে রাত ১২টায় কোস্টগার্ডের চাঁদপুর স্টেশনে ভ্রাম্যমাণ আদালত বসানো হয়। জেলা প্রশাসনের সহকারী কমিশনার ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট নাহিদ ইকবাল, মো. রহমত উল্লাহ ও তানভীর রাব্বী আদালত পরিচালনা করেন। আদালত আটক ২২ জেলেকে ১২ দিন করে কারাদণ্ড দেওয়ার পাশাপাশি প্রত্যেককে ২০০ টাকা করে জরিমানা করেন। বাকি দুই জেলে অপ্রাপ্তবয়স্ক হওয়ায় মুচলেকা নিয়ে ছেড়ে দেওয়া হয়।
সহকারী মৎস্য কর্মকর্তা মো. মিজানুর রহমান আরও জানান, নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেটের উপস্থিতিতে জব্দ করা নিষিদ্ধ কারেন্টজাল আগুনে পুড়িয়ে বিনষ্ট করা হয়েছে। জব্দ পাঁচ কেজি ইলিশ এতিমখানায় বিতরণ করা হয়েছে। এ ছাড়া জব্দ ছয়টি মাছ ধরার নৌকা কোস্টগার্ডের হেফাজতে রয়েছে।
কারাদণ্ডপ্রাপ্ত জেলেরা হলেন রিফাত (২৫), রাসেল খান (২৬), দেলোয়ার হোসেন (৬০), সুজন গাজী (৩০), ইদ্রিস আলী (৩৫), নজরুল বেপারী (২৮), মনির মিজি (২৮), শহীদ গাজী (২৯), দেলোয়ার হোসেন মোল্লা (৬০), জাহাঙ্গীর বেপারী (৩৫), সেলিম ফকির (৩০), মো. নজরুল (৩০), কামাল বেপারী (৩৪), লিটন বেগ (৪৫), মাইনুদ্দিন (৪৭), নয়ন শরীফ (১৮), নিজাম প্রধানিয়া (৩৬), মো. রাসেল (৩০), মনির বেপারী (২৮), মোহাম্মদ হোসেন (১৯), রাসেল গাজী (২৫) ও মো. ইকবাল (২২)। তাঁদের বাড়ি চাঁদপুর ও পার্শ্ববর্তী শরীয়তপুর জেলায়।
মা ইলিশের প্রজনন নির্বিঘ্ন রাখতে নদীতে নিষেধাজ্ঞা বাস্তবায়ন ও অবৈধভাবে মাছ শিকার বন্ধে এ ধরনের অভিযান পরিচালনা করা হচ্ছে।









