
স্মৃতিশক্তি হারিয়ে ফেলা বা ডিমেনশিয়া এখন বিশ্বজুড়ে দ্রুত বাড়তে থাকা এক বড় স্বাস্থ্যঝুঁকি। তবে আশার খবর হলো—প্রতিদিনের কিছু সহজ মানসিক চর্চাই এই ঝুঁকি উল্লেখযোগ্যভাবে কমিয়ে দিতে পারে।
সাম্প্রতিক এক গবেষণায় দেখা গেছে, নিয়মিত বই পড়া, ডায়েরি লেখা কিংবা নতুন ভাষা শেখার মতো অভ্যাস ডিমেনশিয়ার ঝুঁকি প্রায় ৪০ শতাংশ পর্যন্ত কমাতে সক্ষম।
আমেরিকার শিকাগোর রাশ ইউনিভার্সিটি মেডিকেল সেন্টার-এর গবেষকরা টানা আট বছর ধরে ১,৯৩৯ জন মানুষের ওপর এই গবেষণা পরিচালনা করেন। গবেষণার ফলাফল প্রকাশিত হয়েছে বিশ্বখ্যাত চিকিৎসাবিষয়ক সাময়িকী ‘নিউরোলজি’-তে।
গবেষক ড. আন্দ্রেয়া জামিত জানান, যারা সারাজীবন বুদ্ধিবৃত্তিক কাজে সক্রিয় থাকেন, তাদের মস্তিষ্ক অন্যদের তুলনায় অনেক বেশি শক্তিশালী থাকে। নিয়মিত পড়াশোনা ও লেখালেখির সঙ্গে যুক্ত ব্যক্তিদের ক্ষেত্রে অ্যালঝাইমার্স (স্মৃতিভ্রমের সবচেয়ে বড় ধরন)-এর ঝুঁকি প্রায় ৩৮ শতাংশ কমে যায়। শুধু তাই নয়, এই অভ্যাসগুলো রোগটির প্রকাশ ৫ থেকে ৭ বছর পর্যন্ত পিছিয়ে দিতে পারে।
গবেষণায় আরও দেখা গেছে— শৈশব থেকেই যারা পড়ার অভ্যাস গড়ে তোলেন, নিয়মিত খবরের কাগজ বা মানচিত্র দেখেন এবং অন্তত একটি বিদেশি ভাষা শেখার চেষ্টা করেন, তাদের মস্তিষ্ক দীর্ঘ সময় সক্রিয় থাকে।
মধ্যবয়সে যারা নিয়মিত লাইব্রেরি বা জাদুঘরে যান এবং বার্ধক্যেও লেখালেখি বা বুদ্ধিবৃত্তিক খেলা—যেমন দাবা বা পাজল—চালিয়ে যান, তারা ডিমেনশিয়ার ঝুঁকি থেকে অনেকটাই সুরক্ষিত থাকেন।
বর্তমানে বিশ্বজুড়ে ডিমেনশিয়া আক্রান্ত রোগীর সংখ্যা উদ্বেগজনকভাবে বাড়ছে। ধারণা করা হচ্ছে, ২০৫০ সালের মধ্যে এ সংখ্যা ১৫ কোটিরও বেশি হবে। অনেকেই মনে করেন বয়স বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে স্মৃতিশক্তি কমে যাওয়া স্বাভাবিক। তবে এই গবেষণা বলছে, ডিমেনশিয়া বার্ধক্যের অনিবার্য অংশ নয়; সচেতন মানসিক চর্চার মাধ্যমে বার্ধক্যেও স্মৃতিশক্তি অটুট রাখা সম্ভব।
গবেষণার গুরুত্বপূর্ণ পরিসংখ্যান এক নজরে—
ঝুঁকি হ্রাস: নিয়মিত মানসিক চর্চায় অ্যালঝাইমার্সের ঝুঁকি কমে ৩৮ শতাংশ।
রোগ বিলম্বিত হওয়া: সচেতন ব্যক্তিদের ক্ষেত্রে গড় আক্রান্ত হওয়ার বয়স ৯৪ বছর, যেখানে অসচেতনদের ক্ষেত্রে তা ৮৮ বছর।
মানসিক সক্ষমতা: যারা সারাজীবন পড়ালেখা ও বুদ্ধিবৃত্তিক কাজে যুক্ত ছিলেন, মৃত্যুর আগ পর্যন্ত তাদের চিন্তাশক্তি ও স্মৃতিশক্তি তুলনামূলকভাবে অনেক ভালো ছিল।
এ বিষয়ে যুক্তরাজ্যভিত্তিক গবেষণা সংস্থা অ্যালঝাইমার্স রিসার্চ ইউকে-এর বিশেষজ্ঞ ড. আইসোল্ড র্যাডফোর্ড বলেন, এই গবেষণা আশার আলো দেখাচ্ছে। এটি স্পষ্ট করেছে যে ডিমেনশিয়া বার্ধক্যের অবধারিত পরিণতি নয়। মানসিকভাবে সক্রিয় থাকলেই ব্যক্তি নিজেই নিজের সুরক্ষার পথ তৈরি করতে পারেন।










