মঙ্গলবার ৩ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬

নারীদের বাদ দিয়ে উন্নয়ন অসম্ভব — যশোরে তারেক রহমান

রাইজিং কুমিল্লা অনলাইন

Rising Cumilla - Development is possible without women — Tarique Rahman in Jessore
নারীদের বাদ দিয়ে উন্নয়ন অসম্ভব — যশোরে তারেক রহমান

বিএনপি চেয়ারম্যান তারেক রহমান জামায়াতে ইসলামীর সমালোচনা করে বলেছেন, “এদেশের নারীদের ঘরের ভেতরে আটকে রাখাই তাদের রাজনীতি।” তিনি অভিযোগ করেন, জামায়াতের শীর্ষ নেতারা আন্তর্জাতিক গণমাধ্যম ও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে নারীদের নিয়ে কুরুচিপূর্ণ ও আপত্তিকর মন্তব্য করেছেন, যা কোটি কোটি কর্মজীবী মা-বোনদের জন্য অবমাননাকর।

আজ সোমবার (০২ ফেব্রুয়ারি) দুপুরে যশোর সদর উপজেলার উপশহর কলেজ মাঠে জেলা বিএনপির আয়োজিত জনসভায় এসব কথা বলেন তারেক রহমান।

তারেক রহমান বলেন, “দেশের অর্ধেক জনগোষ্ঠী নারী। তাদের বাদ দিয়ে কোনো উন্নয়ন সম্ভব নয়।” তিনি অভিযোগ করেন, জামায়াত বর্তমানে নিজেদের নারী কর্মীদের গ্রামে গ্রামে পাঠিয়ে মা-বোনদের কাছ থেকে এনআইডি ও বিকাশ নম্বর সংগ্রহ করছে।
তার ভাষায়, “হয়তো কাউকে সামান্য কিছু টাকা বিকাশ করবে, কিন্তু পরে আর তাদের খুঁজে পাওয়া যাবে না।”

তিনি আরও বলেন, “জামায়াত সকাল-বিকাল শুধু মিথ্যাচারে লিপ্ত। একাত্তরে তাদের কারণেই লাখ লাখ মানুষ শহীদ হয়েছেন, মা-বোনেরা সম্ভ্রম হারিয়েছেন। ফলে তাদের বিশ্বাস করার কোনো কারণ নেই।”

তারেক রহমান অভিযোগ করেন, “৫ আগস্টের পর একটি বিশেষ রাজনৈতিক দল পরিকল্পিতভাবে নারীদের অবমাননা করছে এবং তাদের ঘরের ভেতরে আটকে রাখার ষড়যন্ত্র করছে।”
তিনি প্রশ্ন রাখেন, “জামায়াতের নারী কর্মীদের কাছে কি আমরা জানতে চাইতে পারি না—আপনাদের নেতা আপনাদের নিয়েও এমন কুরুচিপূর্ণ চিন্তা করেন কেন?”

বিএনপি সরকার গঠন করলে প্রতিটি গৃহিণীর জন্য ‘ফ্যামিলি কার্ড’ চালু করা হবে বলে প্রতিশ্রুতি দেন তারেক রহমান।
তিনি বলেন, “দেশনেত্রী খালেদা জিয়া নারী শিক্ষার প্রসারে মাধ্যমিক পর্যন্ত অবৈতনিক শিক্ষা চালু করেছিলেন। সেই ধারাবাহিকতায় আমরা প্রতিটি পরিবারের গৃহিণীর হাতে ফ্যামিলি কার্ড পৌঁছে দেব, যার মাধ্যমে মায়েরা প্রতি মাসে রাষ্ট্রীয় সুবিধা পাবেন।”

তিনি গার্মেন্টস শিল্প ও দেশের অর্থনীতিতে নারীদের অবদানের কথা উল্লেখ করে বলেন, “যারা কর্মজীবী নারীদের নিয়ে কুরুচিপূর্ণ মন্তব্য করে, তারা কখনো জনগণের বন্ধু হতে পারে না।”

তারেক রহমান বলেন, “বিএনপি উন্নয়নের রাজনীতি করে, উন্নয়নের নামে প্রতারণা করে না।”
সরকার গঠন করলে—

  • কৃষকের দোরগোড়ায় ন্যায্য মূল্যে সার, বীজ ও কীটনাশক পৌঁছে দেওয়া হবে
  • ১০ হাজার টাকা পর্যন্ত কৃষি ঋণ সুদসহ মওকুফ করা হবে

শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের খাল খনন কর্মসূচি পুনরায় চালুর ঘোষণা দিয়ে তিনি বলেন, “উলশী খালসহ সারা দেশের বন্ধ খালগুলো খনন করে ফসল উৎপাদন দ্বিগুণ করা হবে।”

যশোর অঞ্চলের সম্ভাবনা তুলে ধরে তারেক রহমান বলেন—

  • ফুল চাষ আধুনিকায়ন করে বিদেশে রপ্তানি
  • বন্ধ চিনিকল পুনরায় চালু
  • আখ চাষিদের ভাগ্যোন্নয়ন
  • চিনি উৎপাদনে স্বয়ংসম্পূর্ণতা

বেকারত্ব দূর করতে প্রতিটি এলাকায় ভোকেশনাল ট্রেনিং ইনস্টিটিউট ও আইটি পার্ক নির্মাণের প্রতিশ্রুতিও দেন তিনি।

আগামী ১২ ফেব্রুয়ারির নির্বাচনকে “দেশপ্রেমিক ও দেশবিরোধীদের লড়াই” উল্লেখ করে তারেক রহমান বলেন,
“একটি চক্র এনআইডি ও বিকাশ নম্বর নিয়ে মানুষের ভোটাধিকার কেড়ে নেওয়ার ষড়যন্ত্র করছে।”
তিনি সতর্ক করে বলেন, “ভোট গণনায় দেরির অজুহাতে কারচুপির চেষ্টা হলে তা শক্ত হাতে প্রতিরোধ করতে হবে।”

তিনি বলেন, “আমরা এমন বাংলাদেশ চাই যেখানে মুসলমান, হিন্দু, বৌদ্ধ ও খ্রিষ্টান সবাই শান্তিতে বসবাস করবে। রাজনীতির গুণগত পরিবর্তনই আমাদের লক্ষ্য।”

যশোর জেলা বিএনপির সভাপতি অ্যাডভোকেট সৈয়দ সাবেরুল হক সাবুর সভাপতিত্বে আয়োজিত এই জনসভায় যশোরসহ সাত জেলার ২২টি সংসদীয় আসনের ধানের শীষের প্রার্থীদের মঞ্চে পরিচয় করিয়ে দেন তারেক রহমান এবং তাদের পক্ষে ভোট চান।

সভায় বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেন তারেক রহমানের উপদেষ্টা মেহেদী আহমেদ ধ্বনি, ভাইস চেয়ারম্যান নিতাই রায় চৌধুরী, অধ্যাপক নার্গিস বেগম, খুলনা বিভাগীয় সাংগঠনিক সম্পাদক অনিন্দ্য ইসলাম অমিতসহ কেন্দ্রীয় ও স্থানীয় নেতারা।

সকাল থেকেই যশোর, নড়াইল, মাগুরা, ঝিনাইদহ, কুষ্টিয়া, চুয়াডাঙ্গা ও মেহেরপুর জেলা থেকে খণ্ড খণ্ড মিছিল নিয়ে নেতাকর্মী ও সমর্থকেরা জনসভাস্থলে আসেন। বাস, মাইক্রোবাসসহ বিভিন্ন যানবাহনে করে আসা নেতাকর্মীরা ব্যানার-ফেস্টুন ও স্লোগানে মুখর করে তোলেন পুরো এলাকা।

বেলা ২টা ১০ মিনিটে তারেক রহমান মঞ্চে উপস্থিত হলে “তারেক রহমানকে স্বাগতম”, “তারেক রহমান এগিয়ে চলো” স্লোগানে মুখরিত হয়ে ওঠে জনসভাস্থল। বেলা ২টা ১৭ মিনিটে বক্তব্য শুরু করে প্রায় ৪০ মিনিট তিনি বক্তব্য দেন।

নেতাকর্মীদের মতে, দীর্ঘদিন পর দলের শীর্ষ নেতার সরাসরি উপস্থিতি তাদের নতুন করে উজ্জীবিত করেছে এবং এটি নির্বাচনি মাঠে বড় প্রভাব ফেলবে।

আরও পড়ুন