
শীত মৌসুমের শুরুতেই দেশীয় পুঁটি মাছের শুঁটকি তৈরির কাজে ব্যস্ত হয়ে উঠেছেন নড়াইল সদর উপজেলার মাইজপাড়া ইউনিয়নের শলুয়া এবং সিংগাশোলপুর ইউনিয়নের শোলপুর গ্রামের মৎস্যজীবীরা। এই শুঁটকি প্রস্তুত প্রক্রিয়ায় কোনো প্রকার রাসায়নিক ব্যবহার করা হয় না এবং সম্পূর্ণ নিরাপদ পরিবেশে তৈরি হয় বলে দিন দিন এর চাহিদা কেবল নড়াইলেই নয়, বরং দেশের অন্যান্য জেলাতেও বাড়ছে।
সরেজমিনে শলুয়ার বিলে গিয়ে দেখা যায়, বিলের মাঝে খোলা জায়গায় বাঁশ ও খুঁটি দিয়ে তৈরি করা হয়েছে সারি সারি মাচা। এই মাচার উপর দিয়েই চলছে দেশি মাছ শুকানোর কাজ। জেলার বিভিন্ন খাল, বিল ও নদী থেকে প্রতিদিন সংগৃহীত দেশীয় মাছ এখানে নিয়ে আসা হচ্ছে। মাছগুলো ভালোভাবে শুকানোর পরই তা সংরক্ষণ করে দেশের বিভিন্ন জেলায় বিক্রির জন্য প্রস্তুত করা হয়।
গোপালগঞ্জ জেলার মুকসুদপুর এলাকা থেকে মাছ শুকানোর কাজ করতে আসা মো. কবির শেখ ও কামরুল শেখ জানান, এখানে মূলত কই, চাঁদা এবং পুঁটি মাছের শুঁটকি তৈরি হয়। তবে এর মধ্যে পুঁটি মাছের শুঁটকির উৎপাদনই সবচেয়ে বেশি, যা স্থানীয়ভাবে চ্যাপা শুটকি নামে পরিচিত। তারা নিশ্চিত করেন যে, মাছ শুকানোর কাজে কোনো ধরনের রাসায়নিক প্রক্রিয়া ব্যবহার করা হয় না। শুধুমাত্র লবণ মেখে কড়া রোদে শুকিয়ে এই শুঁটকি প্রস্তুত করা হয়।
মৎস্যজীবী মো. মুসা মিয়া জানান, শীতকাল শুরু হলে খাল ও বিলের পানি কমে যায়। এই সময় জেলেদের জালে প্রচুর পরিমাণে দেশীয় প্রজাতির মাছ ধরা পড়ে। সেই মাছ তুলনামূলক কম দামে কিনে তারা শুঁটকি তৈরি করেন। তবে দুঃখের বিষয়, বর্তমানে এই শুঁটকি দালালদের মাধ্যমে বিক্রি করা বেশ কষ্টসাধ্য হয়ে উঠেছে। তিনি আক্ষেপ করে বলেন, যদি দালালদের বাদ দিয়ে সরাসরি ক্রেতা বা পার্টির কাছে শুঁটকি বিক্রি করা যেত, তাহলে এই ব্যবসায় তাদের ভালো লাভ হতো।
আরেক মৎস্যজীবী অলোক বিশ্বাস উৎপাদনের হিসাব দিয়ে বলেন, সাধারণত দুই থেকে তিন মণ কাঁচা মাছ শুকালে এক মণ শুঁটকি পাওয়া যায়। প্রকার ও মানভেদে এক মণ শুঁটকি সাত থেকে আট হাজার টাকায় বিক্রি হচ্ছে।
নড়াইল জেলা মৎস্য কর্মকর্তা মাহবুবুর রহমান জানান, জেলায় এই বছর ৮০ টন (টন) শুঁটকি উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রা ধরা হয়েছে। নড়াইলের শুঁটকি সম্পূর্ণভাবে রাসায়নিকমুক্ত হওয়ায় জেলার পাশাপাশি দেশের অন্যান্য জেলাতেও এর উচ্চ চাহিদা রয়েছে। তিনি আরও জানান যে, নড়াইল জেলা মৎস্য অফিস এসব ব্যবসায়ীদের মানসম্মত শুঁটকি প্রস্তুত করার জন্য নিয়মিতভাবে প্রয়োজনীয় প্রশিক্ষণ ও পরামর্শ দিয়ে সহায়তা করে আসছে।








