মঙ্গলবার ৩ মার্চ, ২০২৬

দেশে ৩৫ জেলায় নিপাহ ভাইরাস ছড়িয়েছে—প্রস্তুত থাকার নির্দেশ হাসপাতালগুলোকে

রাইজিং কুমিল্লা ডেস্ক

Rising Cumilla - Nipah virus has spread to 35 districts in the country - hospitals instructed to be prepared
দেশে ৩৫ জেলায় নিপাহ ভাইরাস ছড়িয়েছে—প্রস্তুত থাকার নির্দেশ হাসপাতালগুলোকে/ছবি: কোলাজ রাইজিং কুমিল্লা

দেশের ৬৪ জেলার মধ্যে ৩৫ জেলায় নিপাহ ভাইরাসের সংক্রমণ শনাক্ত হয়েছে। প্রাণঘাতী এই ভাইরাসে আক্রান্ত হয়ে গত বছর (২০২৫) দেশে চারজনের মৃত্যু হয়েছে। মৃতদের সবার শরীরেই পরীক্ষার মাধ্যমে নিপাহ ভাইরাসের সংক্রমণ নিশ্চিত করা হয়েছিল। সর্বশেষ একজন রোগী রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যান।

রোগতত্ত্ব, রোগনিয়ন্ত্রণ ও গবেষণা প্রতিষ্ঠান (আইইডিসিআর) জানায়, এর আগের বছর ২০২৪ সালে দেশে নিপাহ ভাইরাসে আক্রান্ত হয়ে মোট পাঁচজনের মৃত্যু হয়। ওই বছর ভাইরাসটিতে আক্রান্ত হয়েছিলেন পাঁচজনই।

আজ বুধবার (০৭ জানুয়ারি) রাজধানীতে আইইডিসিআরের মিলনায়তনে অনুষ্ঠিত ‘নিপাহ ভাইরাসের বিস্তার ও ঝুঁকি বিষয়ে মতবিনিময়’ শীর্ষক এক সভায় এসব তথ্য জানানো হয়। সভায় সভাপতিত্ব করেন আইইডিসিআরের পরিচালক অধ্যাপক তাহমিনা শিরীন।

সভায় আইইডিসিআরের বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা শারমিন সুলতানা বলেন, প্রতিবছর শীত মৌসুমে বাংলাদেশে নিপাহ ভাইরাসের সংক্রমণ বৃদ্ধি পায়। এটি একটি অত্যন্ত মারাত্মক রোগ সৃষ্টিকারী ভাইরাস, যার মৃত্যুহার প্রায় ৭২ শতাংশ। দেশে সাধারণত কাঁচা খেজুরের রস পান করার মাধ্যমে মানুষ নিপাহ ভাইরাসে আক্রান্ত হয়।

তিনি আরও জানান, প্রায় ২৮ শতাংশ ক্ষেত্রে এই ভাইরাস একজন থেকে অন্যজনের মধ্যে সংক্রমিত হয়। উদ্বেগজনক বিষয় হলো—নিপাহ ভাইরাসের বিরুদ্ধে এখনো কার্যকর কোনো চিকিৎসা বা টিকা আবিষ্কৃত হয়নি, যা পরিস্থিতিকে আরও ঝুঁকিপূর্ণ করে তুলছে।

সভায় আন্তর্জাতিক উদরাময় গবেষণা কেন্দ্র, বাংলাদেশের (আইসিডিডিআরবি) সংক্রামক রোগ বিভাগের সহযোগী বিজ্ঞানী ও নিপাহ ভাইরাস জরিপ সমন্বয়কারী ডা. সৈয়দ মঈনুদ্দিন সাত্তার জানান, আক্রান্ত ৩৫ জেলার মধ্যে ফরিদপুর, রাজবাড়ী, নওগাঁ ও লালমনিরহাটে সংক্রমণ ও মৃত্যুহার তুলনামূলকভাবে বেশি।

তিনি বলেন, ঝুঁকিপূর্ণ জেলাগুলোতে নজরদারি কার্যক্রম জোরদার করা হয়েছে এবং সংশ্লিষ্ট হাসপাতালগুলোকে প্রয়োজনীয় প্রস্তুতি নিতে নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।

মতবিনিময় সভায় নিপাহ ভাইরাস প্রতিরোধে জনসচেতনতা বৃদ্ধির ওপর বিশেষ গুরুত্বারোপ করা হয়। বক্তারা বলেন, এ ক্ষেত্রে গণমাধ্যমের ভূমিকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কাঁচা খেজুরের রস পান না করা এবং স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলার বিষয়ে জনসচেতনতা তৈরির লক্ষ্যে প্রতি বছরের মতো এবারও এই সভার আয়োজন করা হয়েছে।

অনুষ্ঠানে আরও উপস্থিত ছিলেন স্বাস্থ্য শিক্ষা অধিদপ্তরের মহাপরিচালক নাজমুল হোসেনসহ সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন পর্যায়ের কর্মকর্তারা।

নিপাহ ভাইরাস প্রতিরোধে করণীয়

  • কাঁচা খেজুরের রস পান করা যাবে না
  • আংশিক খাওয়া বা পোকায় কাটা ফল খাওয়া থেকে বিরত থাকতে হবে
  • ফলমূল পরিষ্কার পানি দিয়ে ভালোভাবে ধুয়ে খেতে হবে
  • নিপাহ রোগের লক্ষণ দেখা দিলে দ্রুত নিকটস্থ সরকারি হাসপাতালে যেতে হবে
  • আক্রান্ত রোগীর সংস্পর্শে এলে সাবান ও পানি দিয়ে ভালোভাবে হাত ধুতে হবে
আরও পড়ুন