জুন ১৬, ২০২৪

রবিবার ১৬ জুন, ২০২৪

জিয়াউর রহমানের ৪৩তম মৃত্যুবার্ষিকী আজ

Ziaur Rahman
ছবি: সংগৃহীত

আজ ৩০ মে, সাবেক রাষ্ট্রপতি ও বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল-বিএনপির প্রতিষ্ঠাতা জিয়াউর রহমানের ৪৩তম শাহাদাতবার্ষিকী। ১৯৮১ সালের এই দিবাগত রাতে চট্টগ্রাম সার্কিট হাউসে একদল বিপথগামী সৈনিকের হাতে তিনি শাহাদাত বরণ করেন। সেই থেকেই তার প্রতিষ্ঠিত দল বিএনপি দিবসটিকে জিয়াউর রহমানের শাহাদাৎবার্ষিকী হিসেবে পালন করে আসছে।

মৃত্যুবার্ষিকী যথাযোগ্য মর্যাদায় পালনের লক্ষ্যে ১৫ দিনব্যাপী কর্মসূচি গ্রহণ করেছে বিএনপি এবং এর বিভিন্ন অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠন। কর্মসূচির মধ্যে রয়েছে আলোচনা সভা, সেমিনার, আলোকচিত্র প্রদর্শনী, কালো ব্যাজ ধারণ, সংবাদপত্রে ক্রোড়পত্র প্রকাশ, দুস্থদের মাঝে খাদ্য ও ত্রাণ বিতরণ।

জিয়াউর রহমান নানা কারণে বাংলাদেশের ইতিহাসের গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায়ে স্থান করে নিয়েছেন। তিনি ছিলেন একজন পেশাদার সৈনিক। ছয় বছর রাষ্ট্র পরিচালনা করেছিলেন তিনি। ১৯৩৬ সালের ১৯ জানুয়ারি বগুড়ার গাবতলী থানার বাগবাড়িতে মাতুলালয়ে জন্মগ্রহণ করেন। তার বাবা মনসুর রহমান কলকাতায় একজন কেমিস্ট হিসেবে সরকারি চাকরিতে নিয়োজিত ছিলেন। শৈশব ও কৈশোরের একটি সময় গ্রামে কাটিয়ে তিনি বাবার সঙ্গে কলকাতায় এবং দেশ বিভাগের পর করাচিতে চলে যান। শিক্ষাজীবন শেষে ১৯৫৩ সালে পাকিস্তান মিলিটারি একাডেমিতে অফিসার ক্যাডেট হিসেবে ভর্তি হয়ে ১৯৫৫ সালে কমিশন লাভ

করেন। ১৯৬৫ সালে পাকিস্তান-ভারত যুদ্ধে খেমকারান সেক্টরে একটি কোম্পানির অধিনায়ক হিসেবে যুদ্ধ পরিচালনা করেন। তার কোম্পানি যুদ্ধে সবচেয়ে বেশি খেতাব লাভ করে। ১৯৭১ সালের পাকিস্তানি বাহিনী যখন নিরস্ত্র জনতার ওপর ঝাঁপিয়ে পড়ে, জিয়াউর রহমান তখন চট্টগ্রাম কালুরঘাট বেতার কেন্দ্র থেকে বিশ্বসম্প্রদায়কে বাংলাদেশের মানুষের এ ন্যায়সংগত সংগ্রামে সমর্থনের আবেদন জানান। ৯ মাসের মুক্তি সংগ্রামে তিনি একটি সেক্টরের অধিনায়ক হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। বীরত্বের স্বীকৃতিস্বরূপ বীরোত্তম খেতাব দেওয়া হয় তাকে।

১৯৭৫ সালে দেশে রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর এক বিশেষ প্রেক্ষাপটে জিয়াউর রহমান রাষ্ট্র পরিচালনার দায়িত্ব গ্রহণ করেন। ৩ নভেম্বর ব্রিগেডিয়ার খালেদ মোশাররফের নেতৃত্বে সামরিক অভ্যুত্থানে খন্দকার মোশতাক আহমদ ক্ষমতাচ্যুত হন এবং সেনাবাহিনীর তৎকালীন উপপ্রধান মেজর জেনারেল জিয়াউর রহমানকে গৃহবন্দি করা হয়। সেনাবাহিনীতে বিশৃঙ্খলা ছড়িয়ে পড়লে সিপাহি-জনতার মিলিত প্রয়াসে তিনি বন্দিদশা থেকে মুক্ত হন। একপর্যায়ে প্রতিষ্ঠা করেন বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি)। তার প্রতিষ্ঠিত দল বেশ কয়েকবার রাষ্ট্রীয় ক্ষমতায় ছিল।

দিবসটি উপলক্ষে গতকাল এক বিবৃতিতে বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর দলের প্রতিষ্ঠাতার শাহাদতবার্ষিকী যথাযথ মর্যাদায় উদ্‌যাপনের জন্য দল, অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠনের নেতাকর্মী, সমর্থক, শুভানুধ্যায়ী এবং বিভিন্ন সামাজিক, সাংস্কৃতিক সংগঠনসহ সকল স্তরের জনগণের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন।

তিনি বলেন, এই মহান উদার গণতন্ত্রী শহীদ জিয়ার জনপ্রিয়তা দেশি-বিদেশি চক্রান্তকারীরা কখনোই মেনে নিতে পারেনি। এই চক্রান্তকারীরা ১৯৮১ সালের ৩০শে মে রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানকে হত্যা করে। এই মর্মান্তিক ঘটনার মধ্যদিয়ে দেশবাসী একজন মহান দেশপ্রেমিক জাতীয়তাবাদীকে হারায়। তবে চক্রান্তকারীরা যতই চেষ্টা করুক কোনো ক্ষণজন্মা রাষ্ট্রনায়ককে পৃথিবী থেকে সরিয়ে দিলেই তিনি বিস্মৃত হন না। বরং নিজ দেশের জনগণের হৃদয়ে চিরজাগরূক হয়ে অবস্থান করেন। জাতীয় জীবনের চলমান সংকটে শহীদ জিয়ার প্রদর্শিত পথ ও আদর্শ বুকে ধারণ করেই আমাদের সামনে এগিয়ে যেতে হবে এবং জাতীয় স্বার্থ, বহুমাত্রিক গণতন্ত্র এবং জনগণের অধিকার সুরক্ষায় ইস্পাত কঠিন গণঐক্য গড়ে তুলতে হবে।

মৃত্যুবার্ষিকীতে বিএনপি এবং দলটির অঙ্গ-সহযোগী সংগঠনগুলো ২৮শে মে থেকে ১১ই জুন পর্যন্ত ১৫ দিনের কর্মসূচি পালন করবে।

কেন্দ্রীয় কর্মসূচির অংশ হিসেবে বুধবার রাজধানীর ইঞ্জিনিয়ার্স ইনস্টিটিউশন মিলনায়তনে আলোচনা সভা করে বিএনপি। আজ সকালে রাজধানীর নয়াপল্টনে দলের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে দলীয় পতাকা অর্ধনমিত ও কালো পতাকা উত্তোলন করা হবে।

একইভাবে সারা দেশে দলীয় কার্যালয়গুলোতে এ কর্মসূচি পালন করা হবে। আজ (বৃহস্পতিবার) সকাল ১১টায় শেরেবাংলা নগরের জিয়াউর রহমানের কবরে বিএনপি মহাসচিবের নেতৃত্বে দলের নেতাকর্মীরা পুষ্পার্ঘ্য অর্পণ ও ফাতেহা পাঠ করবেন এবং শ্রদ্ধা নিবেদন শেষে জাতীয়তাবাদী ওলামা দলের উদ্যোগে সেখানে দোয়া মাহফিল অনুষ্ঠিত হবে।

আজ সকাল থেকেই নয়াপল্টনস্থ বিএনপি কেন্দ্রীয় কার্যালয়ের সামনে ড্যাবের উদ্যোগে ফ্রি মেডিকেল ক্যাম্প ও বিনামূল্যে চিকিৎসাসেবা দেয়া হবে। দিবসটি উপলক্ষে আজ ঢাকা মহানগর উত্তর ও দক্ষিণ বিএনপি’র উদ্যোগে রাজধানীর প্রতিটি থানায় দুস্থদের মাঝে কাপড় ও রান্না করা খাবার বিতরণ করা হবে।