
চাঁদপুর জেলায় ২০২৬ শিক্ষাবর্ষের প্রাক-প্রাথমিক থেকে পঞ্চম শ্রেণি পর্যন্ত শিক্ষার্থীদের মাঝে বিনামূল্যে পাঠ্যবই বিতরণের প্রস্তুতি শুরু হয়েছে। এই লক্ষ্যে জেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিস থেকে প্রাথমিক ও গণশিক্ষা বিভাগে মোট ১২ লাখ ১৭ হাজার ২৪৭ কপি বইয়ের চাহিদাপত্র পাঠানো হয়েছে।
সরকারি নির্দেশনা অনুযায়ী আগামী ১ জানুয়ারি সারাদেশের মতো চাঁদপুরেও ‘বই উৎসব’ পালনের মাধ্যমে শিক্ষার্থীদের হাতে নতুন বই তুলে দেওয়া হবে।
জেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিস সূত্রে জানা গেছে, জেলায় বর্তমানে ১ হাজার ১৫৬টি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় রয়েছে। এসব বিদ্যালয়ে অধ্যয়নরত শিক্ষার্থীর সংখ্যা প্রায় ২ লাখ ৫৮ হাজার ৩৪ জন। এর পাশাপাশি জেলায় ৫৫৫টি কিন্ডারগার্টেন রয়েছে, যেখানে প্রায় ৭৫ হাজার শিক্ষার্থী লেখাপড়া করছে। সব মিলিয়ে জেলার বিপুল সংখ্যক শিক্ষার্থীর জন্য বইয়ের এই চাহিদা নির্ধারণ করা হয়েছে।
উপজেলাভিত্তিক বইয়ের চাহিদা
প্রেরিত চাহিদাপত্রে জেলার বিভিন্ন উপজেলার জন্য নির্ধারিত বইয়ের পরিমাণ নিচে তুলে ধরা হলো, চাঁদপুর সদর: ২ লাখ ৪২ হাজার ৭০০ কপি, ফরিদগঞ্জ: ১ লাখ ৮৫ হাজার ৫২৩ কপি, কচুয়া: ১ লাখ ৭৬ হাজার ৯৪০ কপি, মতলব দক্ষিণ: ১ লাখ ৬৯ হাজার ২৭২ কপি, মতলব উত্তর: ১ লাখ ৬৭ হাজার ৪৪২ কপি, হাজীগঞ্জ: ১ লাখ ৫১ হাজার ৪৮২ কপি, শাহরাস্তি: ১ লাখ ২৩ হাজার ৯০০ কপি ও হাইমচর: ৫১ হাজার ১২০ কপি।
জেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসের সিনিয়র উচ্চমান সহকারী জানান, আগামী ডিসেম্বরের মধ্যেই চাহিদাকৃত সব বই চাঁদপুরে এসে পৌঁছাবে বলে আশা করা যাচ্ছে। বইগুলো জেলায় পৌঁছানোর পর উপজেলা শিক্ষা অফিসের মাধ্যমে তা প্রতিটি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে সরবরাহ করা হবে।
এছাড়া, বিভাগীয় নির্দেশনা মেনে বার্ষিক পরীক্ষার প্রস্তুতিও নেওয়া হচ্ছে। সরকারি আদেশ পেলে ২০২৬ সালের ১ জানুয়ারি উৎসবমুখর পরিবেশে শিক্ষার্থীদের হাতে নতুন বই তুলে দেওয়া হবে।
এদিকে, ২০২৬ শিক্ষাবর্ষে প্রাথমিক স্তরের শিক্ষার্থীদের জন্য নতুন বই ছাপানো, বাঁধাই ও সরবরাহের জন্য ২০১ কোটি টাকা ব্যয় অনুমোদন করেছে সরকারি ক্রয় সংক্রান্ত মন্ত্রিসভা উপদেষ্টা কমিটি। প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, এই প্রকল্পের আওতায় প্রথম, দ্বিতীয় ও তৃতীয় শ্রেণির শিক্ষার্থীদের জন্য মোট ৪ কোটি ৪ লাখ ৪২ হাজার ৪৯১ কপি পাঠ্যবই ছাপানো হবে।










