
চাঁদপুরের হাজীগঞ্জ পশ্চিম বাজারে বাসচাপায় প্রাণ হারিয়েছে ৬ বছর বয়সী শিশু মার্জিয়া ও তার নানি নাজমা বেগম। বৃহস্পতিবার (২৭ নভেম্বর) রাত প্রায় ১০টার দিকে শেরাটন হোটেলের সামনে এ দুর্ঘটনা ঘটে।
এ ঘটনায় নিহত নাজমা বেগমের স্বামী মনির হোসেন বাদী হয়ে বাসচালক আব্দুল হান্নানকে আসামি করে হত্যা মামলা দায়ের করেছেন বলে জানিয়েছে তদন্তকারী কর্মকর্তা এসআই মুরাদ।
নিহত শিশু মার্জিয়া লক্ষ্মীপুর জেলার রামগঞ্জ উপজেলার বিগা ডালি গ্রামের প্রবাসী মানিকের একমাত্র মেয়ে। তার নানি নাজমা বেগম (৪৫) চাঁদপুর ফরিদগঞ্জ উপজেলার সুবিদপুর ইউনিয়নের লক্ষ্মীপুর বড় হাজী বাড়ির গৃহিণী ও মনির হোসেনের স্ত্রী।
এসআই মুরাদ হোসেন জানান, সন্ধ্যায় নানি-নাতনি বাজার করতে হাজীগঞ্জ বাজারে এসেছিলেন। রাস্তা পার হওয়ার সময় পদ্মা ট্রান্সপোর্টের একটি বাস তাদের চাপা দেয়। স্থানীয়রা সঙ্গে সঙ্গে তাদের উদ্ধার করে সিএনজি অটোরিকশায় হাজীগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের উদ্দেশে রওনা দেন। কিন্তু পথে শিশুটি মার্জিয়া মারা যায়। পরে নাজমা বেগমকে কুমিল্লায় নেওয়ার সময় তিনিও মারা যান।
ঘটনার পর আটক চালক শাহরাস্তি আলীপুর গ্রামের আব্দুল হান্নানের দাবি—ড্রাইভিংয়ের সময় তার মনোযোগ অন্যদিকে ছিল, তিনি নানি-নাতনিকে দেখেননি। তবে পদ্মা বাসের (ঢাকা মেট্রো ব-১৫-৯২১৪) এক যাত্রী জানান, কুমিল্লা বিশ্বরোড থেকে যাত্রা শুরু থেকেই চালক বেপরোয়া গতিতে বাস চালাচ্ছিলেন। পুরো পথজুড়ে যাত্রীদের সঙ্গে তর্ক-বিতর্ক চলছিল এবং দুর্ঘটনার ঠিক আগ মুহূর্তেও তিনি দুই নারী ও এক পুরুষ যাত্রীর সঙ্গে উত্তপ্ত বাকবিতণ্ডায় লিপ্ত ছিলেন। এ সময়ই নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে বাসটি নানি-নাতনিকে চাপা দেয়।
ঘটনার পর উত্তেজিত জনতা বাসটি আটক করে এবং চালককে গণপিটুনি না দিয়ে পুলিশের হাতে সোপর্দ করেন।
হাজীগঞ্জ থানার ওসি মহিউদ্দিন ফারুক জানান, বাস ও চালক উভয়কে জব্দ করে হেফাজতে নেওয়া হয়েছে। তিনি বলেন,
“বিষয়টি গুরুত্বসহকারে তদন্ত করা হবে। অবহেলা বা বেপরোয়া গতির কারণেই যদি এ প্রাণহানি ঘটে থাকে, আমরা আইনগত সর্বোচ্চ ব্যবস্থা নেব।”









