
চাঁদপুর জেলার মতলব উত্তর উপজেলায় সম্প্রতি এক ব্যতিক্রমী বিবাহ অনুষ্ঠিত হয়েছে, যা এলাকাজুড়ে ব্যাপক আলোচনার জন্ম দিয়েছে। এই অভিনব আয়োজনে বরপক্ষ হেলিকপ্টারে চড়ে নববধূকে নিয়ে আসায় এলাকার মানুষ বিস্ময় ও আনন্দ প্রকাশ করেছেন।
উপজেলার উত্তর ছেংগারচর এম.এম. কান্দি গ্রামের হাজী আ. বারেক দেওয়ানের ছেলে, সৌদি প্রবাসী মো. মহিন উদ্দিন আহাম্মেদ (মেহেদী হাসান রাজু)-এর সাথে রুহিতার পাড় গ্রামের মো. আল-আমিন প্রধানের মেয়ে আবিদা সুলতানা অনামিকা-এর শুভ বিবাহ সম্পন্ন হয়। এই নবদম্পতিকে ঘিরে এলাকাজুড়ে সৃষ্টি হয় এক অভূতপূর্ব উৎসবমুখর পরিবেশ।
বিয়ের দিন, শুক্রবার (১৪ নভেম্বর) সকাল থেকেই এলাকায় এই নিয়ে গুঞ্জন শুরু হয় যে, রুহিতারপার ডিএম উচ্চ বিদ্যালয় মাঠে একটি হেলিকপ্টার অবতরণ করবে। কথা মতোই, ঠিক সময়ে হেলিকপ্টারটি মাঠে নামতেই উপস্থিত শত শত উৎসুক জনতার মধ্যে দেখা যায় অন্যরকম উচ্ছ্বাস ও উদ্দীপনা। নবদম্পতিকে বরের বাড়িতে আনতে এমন বিশেষ আয়োজন করায় এলাকাবাসী মুগ্ধতা প্রকাশ করেন।
বরের বাবা, হাজী আ. বারেক দেওয়ান, এই আয়োজন প্রসঙ্গে বলেন, “ছেলের জীবনের বিশেষ দিনটিকে চিরস্মরণীয় করে রাখতেই এবং তার ছোটবেলার ইচ্ছা পূরণ করতেই হেলিকপ্টার আনার ব্যবস্থা করেছি। এমন একটি ব্যতিক্রমী আয়োজন করতে পেরে আমি নিজেও খুব আনন্দিত। আল্লাহ্ তাদের সুখী দাম্পত্য জীবন দান করুন।”
বরের ফুফাতো ভাই, সুমন সরদার, জানান, “রাজু আমাদের পরিবারের খুবই প্রিয়। ও সবসময় বলত তার বিয়েটা হবে সবার থেকে আলাদা। আজ সেটা সত্যি হলো। হেলিকপ্টারে করে নবদম্পতিকে নিয়ে আসাটা আমাদের পরিবারের জন্য সত্যিই গর্বের বিষয়।”
কন্যার বাবা, আল আমিন প্রধান, জানান যে, বিয়ের অন্যান্য আনুষ্ঠানিকতা শেষে আগামীকাল শনিবার (১৫ নভেম্বর) তিনি তাঁর মেয়ে ও জামাইকে ঘোড়ার গাড়িতে করে তাদের বাড়িতে নিয়ে আসবেন। তিনি সকলের কাছে নবদম্পতির সুখের দাম্পত্য জীবনের জন্য দোয়া কামনা করেন।
বর মেহেদী হাসান রাজু নিজের অনুভূতি প্রকাশ করে বলেন, “আমি আমাদের সংসারের ছোট ছেলে। বাবা–মা, ভাই–বোন সবাই আমাকে অনেক স্নেহ করে বড় করেছেন। জীবনের এই নতুন পথচলায় সবার দোয়া ও ভালোবাসাই আমার সবচেয়ে বড় শক্তি। সবাই আমাদের জন্য দোয়া করবেন এই কামনাই করি।”
বিয়ের বিভিন্ন আনুষ্ঠানিকতা শুরু হয়েছিল ১৩ নভেম্বর বৃহস্পতিবার হলুদ সন্ধ্যার মাধ্যমে। এরপর ১৪ নভেম্বর শুক্রবার শুভ বিবাহ ও কনের বাড়িতে প্রীতিভোজ অনুষ্ঠিত হয়। সবশেষে ১৫ নভেম্বর শনিবার বরপক্ষের বাসায় প্রীতিভোজের মধ্য দিয়ে অনুষ্ঠানমালা সম্পন্ন হচ্ছে।
অভিভাবকরা জানান, পরিবারের সদস্য, স্বজন ও স্থানীয়দের স্বতঃস্ফূর্ত অংশগ্রহণে পুরো আয়োজন একটি উৎসবে রূপ নেয়। এই ধরনের ব্যতিক্রমী আয়োজন মতলব উত্তর এলাকায় দীর্ঘদিন স্মরণীয় হয়ে থাকবে বলে মনে করছেন অনেকে।










