
চাঁদপুর শহরের বিপনীবাগ বাজারে গরুর মাংসে হাড় বেশি দেওয়াকে কেন্দ্র করে ক্রেতা ও বিক্রেতার মাঝে রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। এই ঘটনায় উভয় পক্ষের বেশ কয়েকজন আহত হয়েছেন। সংঘর্ষের ঘটনায় পুলিশ তিনজনকে আটক করেছে।
বৃহস্পতিবার রাতে চাঁদপুর শহরের বিপনীবাগ বাজারে এই সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। ক্রেতা এমদাদ প্রধানীয়া জানান, রাত ৮টার দিকে তিনি স্ত্রীসহ স্বজনদের নিয়ে বাজারের সোহেল নামের এক কসাইয়ের দোকান থেকে চার কেজি গরুর মাংস কিনতে যান। কেজি প্রতি ৬৫০ টাকা দাম ধার্য হয়।
এমদাদ প্রধানীয়া অভিযোগ করেন, “কিন্তু সোহেল মাংসের সাথে গোপনে প্রায় দুই কেজি চর্বি ও হাড় মিশিয়ে দেয়। বিষয়টি টের পেয়ে আমি প্রতিবাদ করলে সোহেল আমাকে ধাক্কা দেয়। এতে উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে।”
তাঁর ছেলে শাহজালাল জুয়েল এগিয়ে আসলে সাগর বকাউল নামে আরেকজন তাকে এলোপাতাড়ি মারধর করে। এসময় “আরও কয়েকজন মিলে দেশীয় অস্ত্র নিয়ে আমাদের ওপর অতর্কিত আক্রমণ চালিয়ে মারাত্মকভাবে রক্তাক্ত করে,” জানান এমদাদ প্রধানীয়া।
হামলায় আহত আহাদ বলেন, “আমি ওনাদেরকে চাপাতির কোপ থেকে বাঁচতে গিয়ে হাত ও মুখে কিল ঘুষি খেয়ে গুরুতর জখম হই। ঐ সময় রাহিম হোসেন নামে আরও একজনকে এ ঘটনায় ছুরি দিয়ে কুপিয়ে তার পিঠে রক্তাক্ত ক্ষত সৃষ্টি করে এরা।”
আহত আহাদ আরও দাবি করেন যে কসাইয়ের দল ওই পরিবারের নারী সদস্যদের ওপরও হামলা চালায়। “তাদের কিল-ঘুষি মেরে শারীরিক আঘাত করে এবং শ্লীলতাহানির চেষ্টা চালায়,” বলেন তিনি।
এমদাদের ছেলে জুয়েল অভিযোগ করেন, “হামলার সময় আমাদের পরিবারের এক নারীর গলা থেকে সোনার চেইন ছিনিয়ে নেয় এরা। যার মূল্য প্রায় এক লাখ ত্রিশ হাজার টাকা।”
পরে বাজারের উপস্থিত লোকজন তাদের চিৎকার শুনে এগিয়ে এলে হামলাকারীরা পালিয়ে যায়। আহত অবস্থায় স্থানীয় জনতা তাদেরকে চাঁদপুর জেনারেল হাসপাতালে ভর্তি করেন।
এদিকে, সংঘর্ষের ঘটনায় দায় স্বীকার করে আটককৃত সোহেলসহ অন্যরা বলেন, মাংসে কিছু হাড় থাকায় ওই ক্রেতা ক্ষুব্ধ হয়ে ঝগড়ায় জড়ান। তবে তারা পরিবারের নারীদের টাকা বা সোনা কেউ নেয়নি এবং শরীরে হাতও দেয়নি বলে দাবি করেন।
শুক্রবার রাতে আটকের তথ্য নিশ্চিত করেন সদর মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) বাহার মিয়া।
ওসি বাহার মিয়া বলেন, “এ ঘটনার খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থল থেকে তিনজনকে আটক করে। তাদের বিরুদ্ধে মামলা দায়েরের পর দ্রুত আদালতে পাঠানো হয়েছে।”










