শুক্রবার ২০ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬

চট্টগ্রামে বিষধর কিং কোবরা সাপ দেখিয়ে চাঁদাবাজি, ক্রেতা সেজে উদ্ধার

রাইজিং ডেস্ক

চট্টগ্রামে বিষধর কিং কোবরা সাপ দেখিয়ে চাঁদাবাজি, ক্রেতা সেজে উদ্ধার/ছবি: সংগৃহীত

চট্টগ্রামের মিরসরাইয়ে একটি বিষধর সাপ কিং কোবরা (রাজ গোখরা) গলায় পেঁচিয়ে সাধারণ মানুষকে ভয় দেখিয়ে চাঁদাবাজির অভিযোগ উঠেছে। এছাড়া ওই ব্যক্তি সাপটি বিক্রিরও চেষ্টা করছিল। এমন খবর পেয়ে ক্রেতা সেজে পাহাড়ে বসবাসরত ত্রিপুরা জনগোষ্ঠীর এক ব্যক্তির কাছ থেকে অবশেষে সাপটিকে উদ্ধার করেছে বন্যপ্রাণী উদ্ধার কর্মীরা।

মঙ্গলবার (১৪ অক্টোবর) স্থানীয় কয়েকজনের সহযোগিতায় উপজেলার মিঠাছরা বাজার থেকে সাপটিকে উদ্ধার করে নিরাপদে নিয়ে আসা হয়।

সাপটির বিষদাঁত উপড়ে ফেলা হয়েছিল এবং তা দিয়ে খেলা দেখানোর কারণে এটি গুরুতর আহত হয়েছে। বর্তমানে চট্টগ্রাম বনবিভাগের মাধ্যমে সাপটির চিকিৎসা চলছে।

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, পাহাড়ে বসবাসরত ত্রিপুরা জনগোষ্ঠীর ওই ব্যক্তি পাহাড় থেকে ধরে এনে গত এক সপ্তাহ ধরে সাপটি গলায় পেঁচিয়ে উপজেলার বিভিন্ন বাজারে মানুষকে ভয়ভীতি দেখাচ্ছিল। এছাড়া ওই ব্যক্তি সাপটি বিক্রিরও চেষ্টা করে। খবর পেয়ে বাংলাদেশ বন্যপ্রাণী উদ্ধারকারী দলের চট্টগ্রাম জেলার নেতারা কৌশলে সাপটি উদ্ধার করে নিয়ে যান।

বাংলাদেশ বন্যপ্রাণী উদ্ধার দল (ডব্লিউএসআরটিবিডি)-এর যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক নাইমুল ইসলাম নিলয় এ বিষয়ে বলেন, “পাহাড়ি এক ব্যক্তি দীর্ঘদিন ধরে রাজ গোখরাটিকে অবৈধভাবে আটক করে রেখেছিল। সে সাপটিকে ব্যবহার করে ভয়ভীতি দেখিয়ে চাঁদাবাজি করছিল এবং পরবর্তীতে সাপটি বিক্রির উদ্দেশ্যে রাখে। খবর পেয়ে গতকাল মঙ্গলবার স্থানীয় কয়েকজনের সহযোগিতায় আমরা কয়েকজন ক্রেতা সেজে সাপটিকে উদ্ধার করে নিরাপদে নিয়ে আসি।”

তিনি আরও জানান, “সাপটির বিষদাঁত উপড়ে ফেলায় ও তা দিয়ে খেলা দেখানোর কারণে সাপটি গুরুতর আহত হয়। বর্তমানে সাপটি বাংলাদেশ বন বিভাগের হার্পেটোলজিস্ট সোহেল রানা সৈকতের তত্ত্বাবধানে আমার হেফাজতে চিকিৎসাধীন রয়েছে। ৮ ফুট দৈর্ঘ্যের সাপটি পুরোপুরি সুস্থ হয়ে উঠলে বনবিভাগের মাধ্যমে বনে অবমুক্ত করা হবে।”

বাংলাদেশ বন বিভাগের হার্পেটোলজিস্ট সোহেল রানা সৈকত বলেন, “সাপটির অবস্থা খুব খারাপ। দাঁত তুলে ফেলা হয়েছে, মাথায় আঘাত রয়েছে, চিকিৎসা চলছে। আশা করছি আগামী দুই-তিন দিন পর সুস্থ হয়ে গেলে বনে অবমুক্ত করা হবে।”

আরও পড়ুন