
বৈশাখের তপ্ত রোদে জনজীবন ওষ্ঠাগত। বাইরে বের হলেই সূর্যের প্রখর তাপ আর অতিরিক্ত ঘামের কারণে শরীরে দেখা দিচ্ছে পানিশূন্যতা। এই গরমে ক্লান্তি দূর করে সারাদিন সতেজ থাকতে চাইলে ঘরেই তৈরি করে নিতে পারেন পুদিনা-কাঁচা আমের শরবত। এটি যেমন তৃষ্ণা মেটায়, তেমনি শরীরেও এনে দেয় প্রশান্তি।
বর্তমানে বাজারে প্রচুর কাঁচা আম পাওয়া যাচ্ছে। কৃত্রিম পানীয় এড়িয়ে খুব সহজেই ঘরে তৈরি করা যায় এই স্বাস্থ্যকর ও সুস্বাদু শরবত। শরীরের তাপমাত্রা নিয়ন্ত্রণে রাখা এবং ভিটামিন সি-এর ঘাটতি পূরণে এই পানীয় বিশেষভাবে কার্যকর।
উপকরণ
- কাঁচা আমের কুচি – ২ কাপ
- চিনি – ৩ চামচ
- পুদিনা পাতা পেস্ট – ১ টেবিল চামচ
- বিট লবণ – ১/২ চা চামচ
- জিরার গুঁড়া – ১/৪ চা চামচ
- কাঁচা মরিচ পেস্ট – ১/৬ চা চামচ
- গোলমরিচ গুঁড়া – ১ চিমটি
- লেবুর রস – ২ টেবিল চামচ
- লবণ – পরিমাণমতো
- পানি – ৪ গ্লাস
প্রস্তুত প্রণালী
প্রথমে কাঁচা আম ভালোভাবে ধুয়ে খোসা ছাড়িয়ে ছোট ছোট টুকরো করে নিন। চাইলে কাঁচা আম পুড়িয়ে খোসা ছাড়িয়ে নিতে পারেন। তবে কাঁচা আমের সতেজ স্বাদ পেতে কুচি করে নেওয়াই উত্তম।
এরপর একটি ব্লেন্ডারে আমের টুকরো, পুদিনা পাতা, কাঁচামরিচ, চিনি, বিট লবণ এবং সামান্য পানি দিয়ে ভালোভাবে ব্লেন্ড করুন। মিশ্রণটি যেন একদম মসৃণ হয় সেদিকে খেয়াল রাখুন।
ব্লেন্ড করা মিশ্রণটি একটি ছাঁকনি দিয়ে ছেঁকে নিন, যাতে কোনো আঁশ বা দানা না থাকে।
এবার একটি গ্লাসে ঠান্ডা পানি ও বরফ কুচি দিন। তার ওপর ছেঁকে রাখা মিশ্রণ ঢেলে দিন। উপরে সামান্য ভাজা জিরার গুঁড়া ছিটিয়ে দিন। চাইলে গ্লাসের কিনারে লবণ ও মরিচের গুঁড়া মাখিয়ে পরিবেশন করতে পারেন।
স্বাস্থ্যগুণ
পুদিনা-কাঁচা আমের শরবত শুধু তৃষ্ণা মেটায় না, এটি শরীরের জন্যও বেশ উপকারী। প্রচণ্ড গরমে হিট স্ট্রোক বা লু হাওয়ার প্রভাব থেকে শরীরকে রক্ষা করতে সাহায্য করে। ঘামের মাধ্যমে বের হয়ে যাওয়া পানি ও লবণের ঘাটতি পূরণ করে।
কাঁচা আম হজমে সহায়তা করে এবং বুক জ্বালাপোড়া কমাতে কার্যকর। এতে থাকা ভিটামিন সি শরীরের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়াতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে।
ডায়েট সচেতনরা চিনির পরিবর্তে মধু বা গুড় ব্যবহার করতে পারেন। আর যারা ঝাল স্বাদ পছন্দ করেন, তারা কাঁচামরিচের পরিমাণ বাড়িয়ে নিতে পারেন। এতে শরবতের স্বাদ হবে আরও মজাদার ঝাল-মিষ্টি।










